সম্রাট মুখোপাধ্যায়: শামিয়ানা •‌ চতুর্থ বর্ষ,
চতুর্থ সংখ্যা •‌ সম্পাদনা‌
শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী •‌ ৫০০ টাকা

‘‌‘‌কবিতা পত্রিকা বের করা যদি সত্যিই ‘‌বনের মোষ তাড়ানো’‌ হয়, তবে কী সার্থকতা একে, এই অভ্যাসকে এভাবে কষ্ট করে বয়ে চলায়। উত্তরের খোঁজে যাওয়া যায় স্বয়ং বুদ্ধদেব বসুর একটি কবিতার কাছে, যেটি প্রকাশিত হয়েছিল ‘‌কবিতা’‌ পত্রিকাতে। পৃথিবীর কোনও বড় অভ্যুদয়, পতন, অর্থ, মোক্ষ— কিছুই আসবে না এইসব লেখালেখির হাত ধরে, তবু কেন— কেন?‌ বুদ্ধদেবের উত্তর, ‘‌শুধু, কোনো অচিকিৎস্য ক্ষরণের ব্যাধির অধীন—/‌ যতক্ষণ পৃথিবী চলায় মত্ত— সে গেছে মোমের মতো জ্বলে/‌‌ আপনারে আলো দিয়ে, নামহীন, প্রাচীন অনলে।’‌’‌
এমনই মোমের মতো আত্মদাহময় ১১টি লিটিল ম্যাগাজিনের জন্ম, বেড়ে–ওঠা, সুখ, দাহ, বিকিরিত আলোর বিবরণ নিয়ে মূলত গড়ে উঠেছে ‘‌শামিয়ানা’‌র আলোচ্য সংখ্যা। গোড়ায় ওই পত্রিকার সম্পাদক বা তার অনুপস্থিতিতে যোগ্য কোনও আলোচক আলোচনা করেছেন পত্রিকার জন্মবৃত্তান্ত বা বিবর্তন নিয়ে। সংক্ষেপে ঘনীভূত ইতিহাস। আর এরপরে ওই পত্রিকার নির্বাচিত লেখার সঙ্কলন। অর্থাৎ ‘‌শামিয়ানা’‌র এই সাত শতাধিক পৃষ্ঠার বিপুলায়তন আয়োজনে যেন ঢুকে পড়েছে ১১টি আলোকোজ্জ্বল ভোজসভা। উল্লেখ্য, সব ক’‌টি কবিতা–সংক্রান্ত পত্রিকা। তালিকাটি এ’‌রকম:‌ ‘‌কবিতা’‌ (‌বুদ্ধদেব বসু)‌, ‘‌উত্তরসূরী’,‌ ‘‌শতভিষা’‌ (‌আলোক সরকার)‌, ‘‌অনুক্ত’‌ (‌সুনীলকুমার নন্দী)‌, ‘‌লা পয়েজি‌’‌ (‌বার্ণিক রায়)‌, ‘‌শতাব্দী’‌, ‘‌ভাইরাস’‌ (‌দেবদাস আচার্য)‌, ‘‌পরমা’‌ (‌মণীন্দ্র গুপ্ত)‌, ‘‌সংবেদ’,‌ ‘‌অজ্ঞাতবাস’, এবং ‘‌বররুচি’‌ (‌শ্যামলকান্তি দাশ)‌।
এই ১১টি পত্রিকার লেখার ভেতর দিয়ে যাওয়া মানে বাংলা কবিতার ইতিহাসের কতকগুলো মাইলফলকের ভেতর দিয়ে যাওয়া। মিলেমিশে যারা উত্তর–রবীন্দ্রনাথ, উত্তর–জীবনানন্দ বাংলা কবিতাকে শরীর দিচ্ছে। আবার আলাদাভাবে দেখলে প্রত্যেকে স্ব–‌চরিত্রে স্ব–‌রাট।
এই যে নির্বাচিত সঙ্কলনের শরীরটি গেঁথেছেন সম্পাদক শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী, তাঁর নির্বাচন এবং সম্পাদনা কিন্তু ভারি মৌলিক। নামী নাম আর বিখ্যাত প্রবন্ধগুলোকে পরপর গেঁথে নিয়ে এ–‌সঙ্কলনের‌ একটি ‘‌বেস্টসেলার’‌ মার্কা চেহারা গড়াই যেত। তার বদলে শুদ্ধেন্দু বরং বেছেছেন টুকরো টুকরো লেখা, বিজ্ঞাপন, নোটিস, চিঠি, সম্পাদকীয় মন্তব্য। আর তার ভেতর দিয়ে চূর্ণ হয়েছে কেন্দ্রের দাপট। কবিতা পত্রিকার সঙ্গে যা বড়ই মানানসই হয়েছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top