দেবাশিস দত্ত: ভয়ঙ্করই বটে। ক্রিকেটের মিষ্টি টুংটাংয়ের সঙ্গে অপরাধ জগতের অবাধ মেলামেশা। বিদেশি সুন্দরীদের সরব উপস্থিতি। লক্ষ লক্ষ ডলার রোজগারের হাতছানি। এ সব নিয়েই দুনিয়ার জনপ্রিয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা রমরম করে চলছে। পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা, দেশ–বিদেশের ক্রিকেটকর্তা– সবাই জানেন ক্রিকেটের এই ভয়ঙ্কর অন্দরমহলের কথা। তবু সবাই না জানার ভান করে রয়েছেন দিব্যি, বছরের পর পর বছর। ঠিক কী হয়?‌ আগ্রহ মেটানোর জন্য লেখক সব্যসাচী সরকার লিখে ফেলেছেন ২৩৮ পাতার একটি রুদ্ধশ্বাস উপন্যাস। বিষাক্ত বাইশ–ই বটে। চমৎকার শিরোনাম। যা প্রকাশিত হয়েছিল ধারাবাহিকভাবে বছরখানেক আগে। বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। চমৎকার প্রচ্ছদ। ঝকঝকে ছাপা। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে অবশ্যপাঠ্য তো বটেই, যেভাবে টানটান উত্তেজনা পাতায় পাতায় ছড়িয়ে দিয়েছেন লেখক, তাতে যাঁরা ক্রিকেটপ্রেমী নন, তাঁদেরও ভাল লাগবে।
উড়ছে লক্ষ লক্ষ ডলার। গোটা ব্যাপারটাই ডিমান্ড আর সাপ্লাইয়ের গল্প। মুম্বইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে আত্মহত্যা করে বসলেন হঠাৎ এক সুন্দরী চিয়ারলিডার। ওই হোটেলেই অংশগ্রহণকারী একটি দলের আস্তানাও বটে। সত্যিই কি আত্মহত্যা?‌ না কি খুন?‌ কয়েকদিন পর আবার একটি রহস্যজনক মৃত্যু। এবার মৃত টিমের কোচ। ফলে, প্রচারমাধ্যম ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আসল কাহিনী তুলে আনার জন্য। জনপ্রিয়তম ক্রিকেট লিগকে ঘিরে শুরু হয়েছিল অদ্ভুত চাঞ্চল্য। এই ব্যাপারটাকে ঘিরেই রয়েছে চমক। অতন্ত সুনিপুণভাবে লেখক আসল অপরাধীকে মঞ্চে রেখেও বুঝতে দেননি তিনি কে বা কারা?‌
রয়েছে ক্রিকেট। রয়েছে দল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতি, ব্যক্তিগত পছন্দ–অপছন্দ। এবং, অবশ্যই নাটক। যা গোটা বইতে ছড়িয়ে রয়েছে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত। রহস্য উপন্যাস। ফলে, একবার পড়তে শুরু করলে মন চাইবে আসল অপরাধী কে, তা জানার জন্য। লেখক কিন্তু চমৎকারভাবে অপরাধীর সামনে এবং পেছনে যে বলয় তৈরি করেছেন, তা পড়তে পড়তে মনে হয়নি, তিনিই বা তার দল দু‌–দু’‌টি খুনের পেছনে জড়িত। বলিউড বা টলিউডের কারবারিদের হাতে এ বই পড়লে তাঁরা সিনেমা করার কথা ভাবতে পারেন। বায়োপিকে আগ্রহী হয়েছেন এখন অনেকেই। সত্যি কথা বলতে কী, ক’‌টা বায়োপিক জমাতে পেরেছেন পরিচালকেরা?‌ এখানেই কিন্তু বিষাক্ত বাইশের সঙ্গে বায়োপিকের তফাত। যে গতি রয়েছে এই বইয়ে, তা শুধু পাঠককে ধরে রাখবে না, পরের পাতায় কী ঘটবে, তা জানার জন্য একটু দ্রুত পড়ার ইচ্ছা তৈরি হবে। এখানেই কিন্তু সব্যসাচীর লেখার প্রসাদগুণ।‌ বিদেশি পুরুষ ও মহিলা চরিত্রদের নামকরণ করা হয়েছে ঠিকঠাক। ওঁদের বাচনভঙ্গি ঠিকঠাক তুলে ধরার জন্য একটু যেন বেশি ইংরেজি ডায়ালগ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম প্রথম চোখে লাগতে পারে, তবে, উপন্যাসের পরের দিকে মনে হবে, সাবলীল কথা বলার স্টাইলটা তুলে ধরার জন্যই হয়তো লেখক ইংরেজি শব্দ বেশি ব্যবহার করেছেন। তাতে অবশ্য পড়ার ছন্দ নষ্ট হয়নি। ■
বিষাক্ত বাইশ • সব্যসাচী সরকার • দ্য কাফেটেবল • ২৫০ টাকা‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top