রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

মৌ রায়চৌধুরী তাঁর কবিতায় এবং তাঁর কবিতার মতো গদ্যে সহজ কথা সহজ করে বলবার স্টাইলটুকু ভারি অনায়াসে অর্জন করেছেন। তাঁর অধিকাংশ লেখায় দেখা দিয়েছে গভীর অভিমান, কখনও বা বিষাদ,কখনও বা বেদনা। পুত্রকে নিয়ে ‘আমার ঋষি’ নামের কবিতাটি বিশেষভাবে মন ছোঁয়। ছেলে বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মায়ের আঁচল থেকে সে বেরিয়ে যায়। তৈরি হয় মায়ের সঙ্গে দূরত্ব। এই কবিতায় ফুটে উঠেছে পুত্রের প্রতি মায়ের মাঙ্গলিক যাচনার পাশাপাশি সংশয় ও অন্তর্গূঢ় ব্যথা। ‘আর্তি’ কবিতাটি মূলত ভালবাসার। তবে প্রেমের আনন্দ নয়। বিষয় গভীর অভিমান, একাকিত্ব, বেদনা। কিন্তু কবিতাটির মধ্যে প্রকাশের সহজ ভঙ্গিটি স্পর্শ করে। ‘মরমিয়া’ চমৎকার কবিতা। উতরে গেছে ছন্দের গতিতে। এবং ‘মরমিয়া’র চিত্রকল্পে রূপকথার প্রভাব অনস্বীকার্য:‌
মেঘবরণ কন্যা রে তুই
কুচবরণ কেশ,
লালপেড়ে ওই শাড়িটিতে
মানায় তোকে বেশ।
আগেই বলেছি মৌয়ের মূল বিষয় অভিমান। ‘অভিমান’ নামের কবিতাটি এই বিষয়টিকে গভীর সংবেদনায় প্রসারিত করেছে। মৃত্যুর পরে অন্যের স্মৃতিতে কেমনভাবে থাকবে একটি মেয়ে, বা ঘরের বউ, তারই বেদনাপ্লুত আর্তিময় প্রকাশ এই কবিতায়। মৃত্যুর পরে ঠিক কী হবে, এই বিষয়টি নিয়ে আরও একটি কবিতা ‘মুখোমুখি’। বইয়ের নামটিও উৎসারিত এই কবিতা থেকে:‌ 
একদিন সকালে উঠে দেখলাম
                 আমি আর নেই,
মানে আমার শরীর থেকে আমার আত্মা
আমার জীবন বিদায় নিয়েছে
বড় সাধ ছিল মনে,
আমার মৃত্যুর পরে দুনিয়াটাকে দেখার
কী কাণ্ড! আমি দেখতে পাচ্ছি সেই দৃশ্য!
মৃত্যুর ঠিক পরেই কী ঘটে, তার উপর আস্ত-আস্ত বইয়েরও অভাব নেই। এই কবিতায় যা ঘটছে তা একেবারে অন্যরকম— শেষ তিনটি লাইনে উন্মোচিত হবে সেই রহস্য। ‘কেমন আছো?’ আরও একটি কবিতা, যার বিষয় রবীন্দ্রনাথ। যে-বিষয়ের শেষ নেই। রবীন্দ্রনাথে বারবার ফিরে আসেন মৌ। তাঁর মনকেমন ফুরবার নয়। ■

জনপ্রিয়

Back To Top