মনে আছে, এই বইটি চুরির আগে আমি রেইকি করেছিলাম। রেইকি হল আগে স্পট দেখে নেওয়া। যাঁর বাড়িতে বইটি ছিল তাঁর বাড়িতে বেশ কয়েকবার যাই। এমনকি বিজয়ার সময় ভুলে করে দু’‌বার পর্যন্ত চলে গিয়েছিলাম। কেলেঙ্কারি!‌ গৃহকর্তা গোল চশমা নাকের ওপর নামিয়ে ভুরু কঁুচকে বলেছিলেন, ‘‌তুমি গত রবিবারও বিজয়ার প্রণাম করতে এসেছিলে না প্রচেত?‌ আজ আবার এসেছ!‌‌’‌ আমি মাথা চুলকে ম্যানেজ দিই, ‘‌সেদিন পিসিমাকে প্রণাম করতে ভুলে গিয়েছিলাম। দিন, আপনিও পা’‌দুটো বাড়িয়ে দিন। বিজয়ার প্রণাম দু’‌বার করায় ক্ষতি নেই।’‌ ও–বাড়িতে গিয়ে আলমারির কাছে ঘুরঘুর করেছি। এক বিকেলে ঘর ফঁাকা পেয়ে চওড়া, ঝকঝকে বইটি ব্যাগে পুরে ফেলি। এ ছাড়া অন্য উপায় ছিল না। এই অতি অতি লোভনীয় বইটি আমি কোথাও পেতাম না। আর পাবও না। বিষয়ে এবং প্রোডাকশনে অভিনব। নাম ‘‌ইলিশ রান্না’‌। বাংলাদেশের বই। অবসর প্রকাশনা বের করেছে। সঙ্কলন অবসর সম্পাদকমণ্ডলীর। মূল্যে বাংলাদেশের ৪২৫ টাকা। ১০০টিরও বেশি ইলিশ রান্নার রেসিপি রয়েছে। খাওয়া তো দূরের কথা। এ সবের নামও শুনিনি। ইলিশ চৌ চৌ, ধঁুয়াদার ইলিশ, ইলিশের মৌলি, ইলিশ চুমরা, চানেলিশ। সঙ্গে ফটোগ্রাফ। দেখলে মনে হয় ভাত দিয়ে মেখে খেয়ে ফেলি‌!‌ বইটির অন্যতম আকর্ষণ হল, এখানে ইলিশ মাছ নিয়ে অনবদ্য একটি ভূমিকা লিখেছেন সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। সেই ভূমিকা ইলিশ মাছের থেকেও সুস্বাদু। যাঁর বই চুরি করেছি, তাঁর কাছে ক্ষমা চাইছি। কিন্তু এই বই চুরি না করলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না। ■
প্রচেত গুপ্ত‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top