অফুরান প্রাণশক্তি নিয়ে বাংলা লোকসংস্কৃতির মাঠ–‌মঞ্চ দাপিয়ে বেড়ানো কালিকাপ্রসাদ আজ আর প্রত্যক্ষ নন। ঠোঁটে মৃদু হাসি নিয়ে মঞ্চে উঠে ধক ধক করে আগুন জ্বালানো কালিকাপ্রসাদকে আর দেখা যাবে না। চোখের আড়াল হলেও কালিকাপ্রসাদ নামক আন্দোলনের আছাড়–‌দাগ বাংলা সংস্কৃতির তটরেখায় পুরোমাত্রায় এখনও স্পষ্ট। তারই অন্যতম প্রমাণ এই সঙ্কলনগ্রন্থ।
শুরুতেই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কালিকাপ্রসাদ ও রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথোপকথন। দুজন রবীন্দ্রমনস্ক মানুষের ধ্রুপদী পরিবেশনা। সেখানে যেমন আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে বৈদগ্ধ্যের দ্যুতি— বুশনারের ‘‌দাঁতোস ডেথ’‌–এর সঙ্গে ‘‌রক্তকরবী’‌র তুলনা, কিংবা ‘‌তুমি রবে নীরবে’‌ গানটিতে আসল কথাটা কি ‘‌মম সফল স্বপন’‌ না ‘‌মম সকল স্বপন’‌— তেমনই একেবারে সাধারণ বিষয়ের জলছবি— রবি ঠাকুর কোথায় বেশি করে আছেন, কবিতায় না গানে, তা নিয়ে নিজ নিজ সিদ্ধান্তের পরিবেশনা।
শঙ্খ ঘোষ, শুভা মুদ্‌গল থেকে শুরু করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়,‌ গৌতম ঘোষ, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সাকুল্যে প্রায় ৪১ জনের একেবারে বুকের কোটর থেকে বের করে এনে নিজের আয়নায় কালিকাপ্রসাদকে দেখা— তাও সঙ্কলিত এই বইতে। কেমন সেসব আলোচনা?‌ গণমাধ্যমের সামনে বলা ছেঁদো কথার ক্লিশেবহুল বিস্তার যে তা নয়, সেকথা বোঝার জন্য অভিনেতা পরমব্রতর একটা লাইনই যথেষ্ট। ‘‌লেখার অতিপ্রকাশের ফলে কালিকাদার সঙ্গে আমার যোগাযোগের ভিত্তিটা যেন খেলো হয়ে না যায়।.‌.‌.‌ ভয় হয়, সম্পর্কটা কোথাও গুরুত্ব না হারায়।’‌
এই সঙ্কলনগ্রন্থ প্রণয়নের পেছনে রয়েছে একটা প্রণোদনা, একটাই সমবেত অঙ্গীকার ‘‌৭ মার্চ, ২০১৭ (‌কালিকাপ্রসাদের মৃত্যুদিন)‌ মিথ্যে হয়ে যাক।’‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top