অনীশ ঘোষ
রোমিওচরিত • সুস্মেলী দত্ত • 
সিগনেট প্রেস • ১০০ টাকা
পরকীয়া যেখানে সমকাম •‌ চৈতালি ধরিত্রীকন্যা •‌ প্রিয় ধ্বনি প্রিয় স্বর •‌ মহম্মদ রফিক •‌ বই দুটির প্রকাশক‌ কবিতীর্থ •‌ প্রতিটি ১০০ টাকা‌
অনন্ত লিখনযাত্রায় •‌ অজিত ত্রিবেদী •‌ জল নয় জানে ধ্রুবতারা •‌ 
শান্তা চক্রবর্তী •‌ বই দুটির প্রকাশক‌ চান্দ্রভাষ •‌ ৭৫ ও ৬০ টাকা
তপ্ত হাওয়ার শিস • নবকুমার চক্রবর্তী • অভিযান • ১০০ টাকা
ঝম্‌ ঝমা ঝমা একলা দুপুর •‌ 
লিপি চৌধুরী •‌ সুতরাং ‌• ১০০ টাকা

এই সময়ের পরিচিত কবি সুস্মেলী দত্ত। তাঁর সোজাসাপটা কাব্যকথন রহস্যের ঘেরাটোপ থেকে মানবমনে উড়ান দেয়, অন্যতর ইশারা খোঁজেন পাঠক। ‘‌চোখের নীচে তুবড়িঝরা শামুকখেকো কারবারি/‌কেমন করে বুঝলে সখা আমার ঠোঁটে ঝকমারি’‌ কিংবা ‘‌স্ত্রৈন ছেলে নিপাট বাবু চুষছে কাঠি রাত্রিদিন/‌নগ্ন পায়ে বনের ঘুঘু সোহাগবালা মনরঙিন’‌— এমন সঙ্কেতের আপাত–‌নিরীহ অথচ অমোঘ হানায় সুস্মেলীর কবিতার বশে পড়তেই হয়। মনোরম প্রচ্ছদটি যোগেন চৌধুরী–‌কৃত।
কবিতার নিঝুম ইচ্ছেডানা মেলে দু’‌‌দশক নজর কাড়ছেন চৈতালি ধরিত্রীকন্যা। ‘‌উদার প্রেম আমার ভয়ানক অসুখ’‌ লেখেন কবি, লেখেন, ‘‌ভালোবাসা কোনো তরল পদার্থ নয়/‌হৃদ্‌স্পন্দনের ভিতর পানের পিক’‌। কোনও কোনও অনুভব মাত্র  দুটি লাইনে জেগে থাকে। শরীর, প্রেম এবং যাপনে জুড়ে যায় অস্থির সময়। সপাটে বলেন, ‘‌এক মিনিটের টক–‌টাইম–‌এ আমরা/‌কত কথা শেষ করবার চেষ্টা করি।/‌আর স্মরণসভায় ফুলের মালায়/‌এক মিনিটে গোটা উপন্যাস লিখে ফেলি!‌’‌ আশির দশকে একাধিক কাব্যগ্রন্থে নিজস্ব আলোটিকে চিনিয়েছেন মহম্মদ রফিক। ‘‌যে আঁধার/‌বিনীত আলোর কথা কয়/‌সে আঁধারে সঁপে দিই/‌মন প্রাণ হিয়া।’‌ এমন বিশ্বাসে অকপট কবি বুনে চলেন অলৌকিক মায়া। উচ্চকিত নয়, নরম স্বরে কবিতা বলেন রফিক। ‘‌একলা তোমার থাকা একলা আমার/‌বেজে ওঠে দহনের অচেনার স্বর’‌— হরষে–‌বিষাদেও তিনি চান প্রিয় ‘‌স্বর শুনে মুছে যাক রাতের আঁধার’‌।
আশির আরেক উজ্জ্বল কবি অজিত ত্রিবেদী। কবিতার সঙ্গে তাঁর নিরবধি সহবাস। ‘‌অতঃপর জন্ম লিখছে মৃত্যু’—‌ কবির নির্মোহ উচ্চারণে,‌ ‘‌আমি তাকে প্রতিদিন রচি আর মুছে ফেলি বারবার/‌সে আমার একান্ত আলো স্বরচিত ঈশ্বর’‌— অলৌকিক মায়ায় আচ্ছন্ন পঙ্‌ক্তিতে জেগে থাকে ‘‌গোধূলিলগ্নের মতো একটি ধ্রুব বিশ্বাস’‌। রাত্রিগমনে মৃত্যুর মুখোমুখি কবি, ‘‌দিনের ভিতরে এত বিষ’‌ নিয়ে অজিতের গভীরতর ও স্বতন্ত্র কাব্যবিন্যাস।
প্রচলিত নারীবাদী নন, মানবিক হৃদয়বেত্তার উন্মোচনেই মগ্ন থাকেন শান্তা চক্রবর্তী। তাঁর কবিতার ভাষা ও দর্শন বহুমাত্রিক, চোরা টান আছে, ইশারা আছে তাতে। আছে মানবমনের জটিল রহস্যকে খোঁজার প্রয়াস। ‘‌চৌষট্টিকলা কিছুই শেখোনি/‌জন্ম থেকে পরগাছা হয়ে আছো.‌.‌.‌ নেমেছ গুহায় তবু তার/‌গুহ্যতা ও গহন চেনোনি/‌যথার্থ মৈথুনে যাবার আগে/‌একবার যজ্ঞের হোম শিখে নাও’— শান্তার নীরব সরবতা এভাবে কাব্যমণ্ডিত হয়।
নবকুমার চক্রবর্তীর কবিতায় আছে যন্ত্রণাকাতর সময়ের কথা। প্রায় চিৎকারের মতোই ছুটে এসে ধাক্কা মারে কবির কথা— ‘‌আমার বসন্ত হারাক অনাহারীর ভিক্ষাপাত্র হাতে/‌আমার বসন্ত হারাক ধর্ষিতার তীব্র প্রতিবাদে/‌আমার বসন্ত পুড়ে খাক হয়ে যাক ফাগুন বাতাসে।’‌ আলোচ্য কাব্যগ্রন্থের প্রচ্ছদটি বড় প্রবঞ্চনাময়!‌ পাকা ফসলের উষ্ণ হলুদ–কমলা রঙের উচ্ছ্বাসের আড়ালে আসলে আছে তুমুল অস্থিরতা আর বারুদগন্ধ।‌
পাতায় পাতায় পেলব অক্ষরমালায় মগ্ন থাকেন লিপি চৌধুরী। শুরুতেই ‘‌তুমি আমায় আকাশ বলে ডাক/‌আমি তোমার আশমানী এক প্রেম’‌ লেখেন তিনি। বস্তুত আকাশ, সাগর, নদী, নক্ষত্র, বসন্ত, প্রকৃতি এ সবের সঙ্গে মানব–‌মানবীর অনন্তকালের যে মায়া–‌ঘনিষ্ঠতা, সেই সরণি ধরেই এগিয়ে চলে লিপির যাবতীয় প্রেম, শিহরন, দহন ও পুলকের কাব্যস্তুতি।‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top