অনির্বাণ মজুমদার
ঈশ্বর একাদশ ও শতকোটি ভারতীয়:‌ ভারতীয় ক্রিকেটের অজানা কাহিনি ‌• বোরিয়া মজুমদার • দীপ প্রকাশন • ৩৫০ টাকা
উচ্চমানের সাহিত্য এবং খেলাধুলোর ইতিহাস, এই দুইয়ের অনবদ্য মেলবন্ধন যদি ধারাবাহিক ভাবে কোথাও পাওয়া যায়, সেটা ক্রিকেট সাহিত্যে। সি এল আর জেমস, নেভিল কার্ডাস থেকে শুরু করে টনি কোজিয়ার, পি জি ওডহাউস, মাইকেল পারকিনসন, ক্রিস্টোফার মার্টিন জেনকিন্স, হেনরি ব্লোফিল্ড এবং আধুনিক যুগের সাইমন র‌্যাভেন, শেহান করুণাতিলকে, রমেশ গুণশেখরা— সবার সাহিত্য সৃষ্টিতেই এর প্রমাণ।
ভারতীয়দের মধ্যে এই তালিকায় থাকা মিহির বসু, রামচন্দ্র গুহ, সৌম্য ভট্টাচার্য, মুকুল কেশবন, রাহুল ভট্টাচার্যদের সঙ্গে এবার অনায়াসে জায়গা করে নেবেন বোরিয়া মজুমদার। ‘‌টোয়েন্টি–‌টু ইয়ার্ডস টু ফ্রিডম’‌‌, ‘‌লস্ট হিস্ট্রিজ অফ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট:‌ ব্যাটেলস অফ দ্য পিচ’‌, ‘‌ইন্ডিয়ান ক্রিকেট থ্রু দ্য এজেস’‌, ‘‌দ্য ‌করিডোরস অফ আনসার্টেনটি’‌‌র পর এবার ‘‌ইলেভেন গডস অ্যান্ড আ বিলিয়ন ইন্ডিয়ান্স’‌, যার বাংলা অনুবাদ ‘‌ঈশ্বর একাদশ ও শতকোটি ভারতীয়’‌।
শুরুতেই লেখক স্বীকার করেছেন, ‘‌ভারতীয় ক্রিকেটের বিশ্বস্ত ইতিহাস লিখতে গেলে মনে রাখতেই হবে যে, মাঠে যে খেলা হয়, নিছক তার ইতিহাস ও খবরাখবর দেওয়াটাই সবকিছু নয়। বৃহত্তর ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের এটা একটা অংশমাত্র। মাঠের বাইরে যে খেলাটা হয়, সেটাও একই রকম গুরুত্বপূর্ণ ও চিত্তাকর্ষক। মাঠে ও মাঠের বাইরে সংগঠিত হতে থাকা খেলা দুটোকে জানলে তবেই অনুধাবন করা যাবে আসলে ভারতীয় ক্রিকেট কী।’‌
৩৪০ পাতার তথ্যে পরিপূর্ণ এই বই পাঁচটি পর্বে বিভক্ত। প্রতি পর্বে রয়েছে একাধিক অধ্যায়। ‘‌প্রস্তাবনা’‌ শুরু হচ্ছে ২০১৭ সালের ২০ মার্চ রাঁচিতে ভারত–‌অস্ট্রেলিয়া টেস্টের শেষ দিনের বর্ণনা দিয়ে। এরপর ১৮৫০–‌এ ভারতের হয়ে সেপাইদের ব্যাটিং, ক্রিকেট কোষাগার বিপ্লব, ম্যাচ ফিক্সিং, মাঙ্কিগেট, আইপিএল, ক্যাপ্টেন–‌কোচ সঙ্ঘাত, শচীন তেন্ডুলকার, বিরাট কোহলি এবং কলকাতা ময়দানে মিথ হয়ে যাওয়া ‘‌লজেন্স দিদি’‌।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ে শচীন তেন্ডুলকারের শেষ টেস্ট ম্যাচের প্রতিটি বল, খেলা শেষে শচীনের সেই হৃদয়স্পর্শী ভাষণ, সবার মুখস্থ। তবু এ বই না পড়লে জানা যায় না যে, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে শচীন যখন একা বসেছিলেন, তখন বিরাট কোহলি গিয়ে তাঁকে নিজের হাতের সুতোর বালাটা দিয়ে বলেছিলেন, যে মানুষটার প্রতি সবথেকে বেশি শ্রদ্ধা রয়েছে, এই বালা তাঁকেই দিতে বলেছেন বাবা।
বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য ঐতিহাসিক চিঠি, পোস্টার, স্কোরকার্ড, রিপোর্ট, ডাকটিকিট, স্মারক বইয়ের প্রচ্ছদ, ক্রিকেটারদের স্বাক্ষর সম্বলিত ৩২ পাতার ছবির বিভাগটিও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ব্যাক কভারে রয়েছে ২০১৭ সালের ১৭ জুন শচীন তেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, ভি ভি এস লক্ষ্মণের ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটির হাতে লেখা চিঠি। বিষয়:‌ বিরাট কোহলি–‌অনিল কুম্বলে সঙ্ঘাত।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই বই পাঠককে নিয়ে যায় ভারতীয় ক্রিকেটের মাঠে, মাঠের বাইরে, অন্দরমহলে, সাজঘরে, ব্যক্তিগত আলোচনায়, যা জানার সুযোগ সচরাচর সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের হয় না। তাই এই বই তাঁদের সামনে অজানাকে জানার এক বিরাট সুযোগ।‌‌‌‌ 
 

জনপ্রিয়

Back To Top