সম্রাট মুখোপাধ্যায়

প্রধানত তিনি কবি। কিন্তু প্রবন্ধের ধারাতেও তিনি অন্যতম প্রধানপুরুষ— গত অর্ধশতক জুড়ে বাংলা সাহিত্যে। এবার শারদসংখ্যার ভিড়ে তিন ওজনদার পুজো সংখ্যায় তিনটি প্রবন্ধ পাওয়া গেছে তাঁর কলম থেকে। বিষয়ের দিক থেকে তিনটিই আলাদা–‌আলাদা। সংযোগ–‌সূত্র শুধু স্মৃতি। তিনটি লেখারই ভিত্তি তিনটি স্মৃতিচারণ।
‘‌আজকাল’‌ শারদ সংখ্যায় শঙ্খবাবুর প্রবন্ধের কেন্দ্রবিন্দু সুভাষ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে এসেছেন অগ্রজ কবি জীবনানন্দ দাশ এবং তরুণ প্রাবন্ধিক সুরজিৎ দাশগুপ্ত। লেখার শিরোনাম ‘‌সুভাষদা সুরজিৎ আর জীবনানন্দ’‌। লেখাটি শুরু হয়েছে নাটকীয় এক ঘটনা দিয়ে। ১৯৫১ সালের গোড়ার দিকে বোম্বাই শহরে আয়োজিত হয়েছিল ‘‌কংগ্রেস ফর কালচারাল ফ্রিডম’‌। যার নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিনপন্থি মিনু মাসানি এবং সে সভার অন্যতম লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধতা।

সবে জেল থেকে বেরিয়েছেন সুভাষ। ‘‌আহত বিস্ময়ে’‌ সুভাষ জানলেন যে অনেকেই ওই সভায় যেতে রাজি না হলেও বাংলা থেকে গেছেন বুদ্ধদেব। বুদ্ধদেব বসু। উত্তেজিত সুভাষ ‘‌পরিচয়’‌ পত্রিকায় খোলা চিঠি লিখে বসলেন। এরপর এসেছে জীবনানন্দ সম্পর্কে সুভাষবাবুর মূল্যায়নে আলো–‌ছায়ার নানা প্রসঙ্গ।
‘‌অনুষ্টুপ’‌–‌এর শারদ সংখ্যার প্রবন্ধটিও স্মৃতিচারণ। এক প্রয়াত বন্ধুর স্মৃতিচারণ। সেই প্রয়াত বন্ধু হলেন নৈহাটিবাসী সত্যজিৎ চৌধুরি। এ লেখারও শুরু এক নাটকীয় ঘটনা দিয়ে। ১৯৫৩ সাল। নৈহাটি স্টেশনের ঠিক বাইরেই ‘‌বাসন্তী কেবিন’‌ নামক রেস্টুরেন্টের বাইরে অপেক্ষমাণ দুই যুবক। ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন তাঁদের একজন। বুকের কাঁপুনি থামছে না তাঁর। কারণ রেস্টুরেন্টের ভেতরে যাঁর বসে থাকার কথা, তিনি সমরেশ বসু। ‘‌বিটি রোডের ধারে’‌র লেখক, অন্যজন যুবা বন্ধুকে সাহস জুগিয়ে চলেছেন, ‘‌উনি দেখা করতে চেয়েছেন বলেই তো তোমায় নিয়ে এলাম।

’‌ সেদিনের ‘‌নার্ভাস’‌ যুবকটি শঙ্খ ঘোষ। আর বন্ধুটি সত্যজিৎ চৌধুরি। যিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শঙ্খবাবুর বন্ধু। আর সেই সূত্রে সেই সময়, ছাত্রজীবন, সাহিত্যপাঠ এবং বর্ণময় নৈহাটি উঠে এসেছে এই লেখায়।
‘‌কবিসম্মেলন’‌–‌এর শারদ সংখ্যায় প্রকাশিত শঙ্খবাবুর লেখার শিরোনামটি কৌতূহলপ্রদতর। ‘লেখা যখন হয় না’‌। এ লেখা খানিকটা চিঠির আঙ্গিকে, এ‌ লেখায় তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যতই বলা হোক না কেন ‘‌কালি কলম মন/‌লেখে তিন জন’‌, আসলে লেখে এর তৃতীয় সত্তাটাই। অর্থাৎ মন। এ লেখায় আছে কবির নাম ছাড়া পুরোনো কয়েকটি কবিতা। আর ‘‌ধাঁধা’‌ হিসেবে এরপর শঙ্খবাবুর জানতে চাওয়া ওই কবির নাম কী?‌ আছে ওইরকম প্রবন্ধের, প্রেমপত্রেরও অংশ। এ লেখা যেন ধাঁধার এক কোলাজ।‌‌ ■
 

জনপ্রিয়

Back To Top