সবুজকলি সেন
পৃথিবীর রূপকথা • দে’জ‌ পাবলিশিং • ‌১০০ টাকা
মরাসাহেবের কোট • দে’‌জ পাবলিশিং • ‌১০০ টাকা
তিরিশটি কিশোর গল্প • ‌পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় • ‌একুশ শতক • ‌১২০ টাকা

রূপকথা কখনও পুরনো হয় না, হারায় না। সারা বিশ্বে এ কথা সত্য। ‘‌পৃথিবীর রূপকথা’‌ বইয়ে পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অনুবাদ করেছেন বত্রিশটি রূপকথা বিশ্বের নানা দেশ থেকে চয়ন করে। স্পেন, আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তান, জাপান, চীন, আর্মেনিয়া, ভারত, যুগোস্লাভিয়া— কে নেই সেখানে!‌ আর কতই না মনোহারী কথামালা!‌ ইঁদুরছানা গানপাগল। কিন্তু মনে দুঃখ এই যে, তাকে নিয়ে কেউ গান বাঁধে না। তাকে খ্যাতিমান হতে হবে— কতই না চেষ্টা। আবার রূপবতী চাঁদের দেশের মেয়ে কাগুয়া আশ্রয় নিয়েছিল দরিদ্র কাঠুরে বুড়ো আর বুড়ির কাছে। বুড়ো পেল অনেক ধনদৌলত কাগুয়ার জন্যে। রূপবতীকে বিয়ে করতে পাগল কত–কত রাজপুত্র। কিন্তু কাগুয়া চার রাজপুত্তুরকে চারটি শর্ত দেয়। একেক জনকে একটি। বেশ কঠিন শর্ত সে–‌সব। প্রথম রাজপুত্রের শর্ত— যে–ভাণ্ডটি বুদ্ধদেব ভারতে ভিক্ষা করার জন্য ব্যবহার করতেন, সেটি নিয়ে আসার। দ্বিতীয় রাজপুত্রকে আনতে বলা হল— পূর্বসাগর পেরিয়ে হোরাই পাহাড় থেকে এমন একটা গাছের ডাল, যে গাছের শিকড় রুপোর, গুঁড়িটা সোনার আর ফল মুক্তোর। তৃতীয় জনকে আনতে হবে এমন এক পোশাক যা ইঁদুরের চামড়ায় তৈরি এবং আগুনে পোড়ে না। শেষ রাজপুত্রকে এনে দিতে হবে সমুদ্র–‌শয়তানের মাথায় থাকা সাতরাঙা মরকত মণি। এভাবে ঘটনা চলতে থাকে। অবশেষে চাঁদের দেশের মেয়ে চাঁদের দেশেই চলে যায়। এই পৃথিবীর নানা দেশের মনোহারী গল্পে ‘‌পৃথিবীর রূপকথা’‌ বইটি ভরে উঠেছে। এ শুধু ছোটদের বই নয়।

বড়রাও পড়তে পড়তে হারিয়ে যায় মায়ার জগতে।
‘‌মরাসাহেবের কোট’‌ বইটিতে বাইশটি গল্প আছে। প্রথম গল্প ‘‌মরাসাহেবের কোট’‌। শান্তিনিকেতনের পৌষমেলার পুরনো পোশাক বিক্রি, যা শান্তিনিকেতনে ‘‌মরাসাহেব’‌ নামে খ্যাত সেটি নিয়ে লেখা। পৌষের ভাঙামেলা, রবীন্দ্রভবন লাইব্রেরি, পাঠভবনের রাস্তা পাঠকের মনকে শহর থেকে দূরে লালমাটির দেশে নিয়ে যায়— সেখানে মরাসাহেবের কোট রাতের অন্ধকারে সাহেবপ্রেতকে টেনে আনে। অবশেষে রিকশাওয়ালা ভানুকে সেই কোটটি দিয়ে তবে শান্তি। এই গল্পগুলির মধ্যে পুরনো পাড়া, ছোট বাড়ি হারিয়ে বড় বড় ফ্ল্যাট বাড়ি হওয়া, ফুটবল খেলা, গাছ থেকে বাতাবিলেবু পাড়া, পেয়ারা পাড়া হারিয়ে গিয়ে টিউশন, গিটারের ক্লাস, কম্পিউটার শেখার জগৎ চলে আসে। তবু তারই মধ্যে কোনও কোনও কিশোর–‌শিশু খুঁজে বেড়ায় সেই হারিয়ে যাওয়া সুখের কৌটোকে। শহরের ছেলের মন কাঁদে গরিবের ছেলের জন্য, ঠাকুমার হাতের নাড়ুর জন্য, শালিক পাখি, কুকুর ছানার জন্য। গল্পগুলি পাঠকের মনকে মলিনতা থেকে অমল আলোয় নিয়ে যায়।
‘‌তিরিশটি কিশোর গল্প’‌ বইটির গল্পগুলির মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া জগতে অনায়াসে প্রবেশ করি। গ্রাম ফুরোলে মাঠ, মাঠ ফুরোলে নদী, নদী পেরোলে আর এক গ্রাম, সেখানে পাখির মেলা, সেই গ্রামে গরিবের ছেলে ফারুকের বন্ধু অমিত। অমিত–ফারুকের বন্ধুত্ব, মউলির ছেলের কষ্ট, সুন্দরবনের জীবন, সারান্ডার জঙ্গল— আমরা যেন আরণ্যকে পৌঁছে যাই। পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পে মফস্‌সল শহর বারবার আসে। শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির জঙ্গল, ক্যানেলের ধার, পরিযায়ী পাখি, পাখি শিকারি আবার পাখি শিকারির পাশাপাশি পাখিদের মুক্তি দেওয়া— পড়তে পড়তে সত্যিই মন ভাল লাগায় ভরে ওঠে। অনেক চেনা মুখের চেনা নামের খোঁজ পাওয়া যায়। পশুপ্রেমিক লামিদি, পরিবেশবিদ লামিদিও একটি গল্পের চরিত্র হয়ে যান।‌‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top