সুদীপ বসু: আধুনিক ভারতীয় সাহিত্য প্রসঙ্গে • সম্পাদনা ড.‌ মননকুমার মণ্ডল • নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল অব হিউম্যানিটিস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস • প্রথম খণ্ড ১৫০ টাকা • দ্বিতীয় খণ্ড ২০০ টাকা • তৃতীয় খণ্ড ২০০ টাকা
১৩ মে ১৮৫২–তে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থিয়েটার হলে বেথুন সোসাইটির ষষ্ঠ অধিবেশনে রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেটি পরের দিন রঙ্গলাল–সম্পাদিত ‘‌সংবাদ সাগর’‌ পত্রিকার গ্রাহকদের কাছে বিনামূল্যে বিতরিত হয়েছিল। একান্ন পৃষ্ঠার এই পুস্তিকার অনেকখানি জুড়ে ছিল বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের তুলনামূলক পর্যালোচনা। এর তেইশ বছর পরে বৈশাখ ১২৮২–তে (ইংরেজি ১৮৭৫) ‘‌বঙ্গদর্শন’‌ পত্রিকায় বঙ্কিমচন্দ্র শকুন্তলা, মিরন্দা এবং দেস্‌দিমোনা লেখেন। রঙ্গলাল বঙ্গসাহিত্যে যে–নতুন ধারার প্রবর্তন করেছিলেন তা–ই ক্রমে রূপ পেল বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথে। কিন্তু তুলনামূলক সাহিত্যের তাত্ত্বিক আলোচনা বাংলায় সম্ভবত রবীন্দ্রনাথই প্রথম ‘‌বিশ্বসাহিত্য’‌ প্রবন্ধে করেন। ১৯৮৯–তে এই তত্ত্বচর্চার বিশিষ্ট গ্রন্থ ‌‘‌কম্পারেটিভ লিটারেচার:‌ থিয়োরি অ্যান্ড প্র‌্যাকটিশ’‌‌ শিশিরকুমার দাশ ও অমিয় দেবের যুগ্ম–সম্পাদনায় সিমলার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্স স্টাডিজ থেকে প্রকাশিত হয়। নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে বঙ্গভাষায় ভারতীয় সাহিত্যের তৌলনবিদ্যার চর্চা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। উদাহরণ, অধ্যাপক মননকুমার মণ্ডলের সম্পাদনায় তিন খণ্ডে ‘‌আধুনিক ভারতীয় সাহিত্য প্রসঙ্গে’‌। কয়েকটি পর্বে বইটি বিন্যস্ত— প্রথম, ভাষাসঙ্কটে ভারতীয় সাহিত্য ও এই সাহিত্যের নানা ভাষায় অনুবাদের প্রয়োজনীয়তা; দ্বিতীয়, বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের সাহিত্যচর্চার ইতিবৃত্তদান; তৃতীয়, তাঁদের গল্পের ভাষান্তর; চতুর্থ, ভারতীয় সাহিত্যের গতিপ্রকৃতি বিষয়ে অনেক মুক্তমনা প্রাবন্ধিকের রচনার বঙ্গানুবাদ। লেখকদের মধ্যে আছেন মরিস উইন্টারনিৎস, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, নীহাররঞ্জন রায়, ভিনায়ককৃষ্ণ গোকক্‌, উমাশঙ্কর যোশী, ইউ আর অনন্তমূর্তি, কে সচ্চিদানন্দন, গণেশ দেভি, কৃষ্ণ কৃপালনি, ইন্দিরা গোস্বামী, এ ওয়েবর প্রমুখ। আবার ধণ্ডপানি জয়কান্তন, ইন্দিরা গোস্বামী, সাদাত হোসেন মান্টোর গল্পের অনুবাদ কিংবা রামকুমার মুখোপাধ্যায়, মহীদাস ভট্টাচার্য, মননকুমার মণ্ডল, বিশ্বনাথ রায়, আলবিনা শাকিল, বিপ্লব চক্রবর্তী, শামিম আহমেদ, মনোহরমৌলি বিশ্বাস, অনন্যা মিত্র প্রমুখের প্রবন্ধ এই গ্রন্থে আছে। এঁদের মধ্যে বিশ্বনাথ রায়ের প্রবন্ধটি গৌরবের অধিকারী। প্রাচীন–মধ্য যুগের বাংলা সাহিত্য, রবীন্দ্রসাহিত্যের বিশেষজ্ঞ এই গবেষক–লেখক তাঁর রচনায় বহুভাষিক ভারতের ভাষাসঙ্কটের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করেছেন। তদুপরি ১৯১৯–এ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা–হিন্দি–ওড়িয়া, কন্নড়–তামিল–তেলুগু–মরাঠি, মালয়ালাম–সিংহলি ভাষায় স্নাতকোত্তর পাঠদানের যে–সুযোগ তদানীন্তন উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায় করে দিয়েছিলেন, সে–প্রসঙ্গের অবতারণাও দেখি। বলা বাহুল্য সামান্য বর্ণাশুদ্ধি ছাড়া অঙ্গসজ্জায় গ্রন্থটি বেশ মনোহারী। অতিরিক্ত পাওনা সুরচিত ভূমিকা–সহ অনুবাদ পত্রিকার বিষয়সূচি।‌‌‌‌‌‌‌‌‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top