সব্যসাচী সরকার- বাঙালি জাতিসত্তা ও তার ক্রমবিকাশ, উত্থান–‌পতন, গর্ব ও অসম্মান নিয়ে প্রতি দশকেই বহুবিধ লেখা খ্যাত–‌অখ্যাত নানা পত্রিকা, জার্নালে প্রকাশিত হয়। বলা যায়, বাংলা ও বাঙালি চর্চায় এ–‌ও এক বহমান সত্য। সে লেখা কখনও বিতর্কের জন্ম দেয়, নতুন তথ্য হাজির করে, বিশ্লেষণী মনের কাছে প্রশ্ন ও উত্তর রেখে যায়। বক্ষ্যমাণ সঙ্কলনটি এই সময়ে দাঁড়িয়ে একটু অন্যরকম। তার কারণ, বিভিন্ন প্রেক্ষিতে বাঙালিকে দেখা হয়েছে। অরাজনৈতিক বাঙালি, সাংস্কৃতিক বাঙালি, বাঙালি মহিলা, বাঙালি ও মুসলমান, বাঙালি ও বামপন্থা, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ও বাঙালি–‌সহ মিডিয়া, ভূতচর্চা, কবিতা বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি অসমের বাঙালির সমস্যা–‌সঙ্কট নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে এই সঙ্কলনে। পবিত্র সরকার এনআরসি নিয়ে সংক্ষিপ্ত অথচ মূল্যবান একটি লেখা লিখেছেন। দেবেশ রায় বাঙালির সদর মফস্‌সল নিয়ে আলোকপাত করেছেন। গৌতম রায় ও সঞ্জয় সোম বামপন্থা এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘে বাঙালির জড়িয়ে–‌পড়া এবং অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ইতিহাস–‌আশ্রিত তথ্য পেশ করে আলোকপাত করেছেন। এই সঙ্কলনটিতে মূলত বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ, যারা শিল্প সাহিত্যচর্চা থেকে প্রতিবাদ মিছিল, আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখা, লোকগাথা, এমনকি পারস্পরিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেওয়ার দীর্ঘলালিত অভ্যাসের এক মূল্যায়ন। অবশ্যম্ভাবী অংশ রয়েছে বাঙালির কলেজ স্ট্রিট, বাঙালির ক্রীড়াপ্রীতি সম্পর্কেও আলোচনা। মূল্যবান অংশ হল, ‘‌বিহারবাসী বাঙালিদের মাতৃভাষার জন্য যুদ্ধ’‌ অংশটি।
তমোনাশ ভট্টাচার্য বাঙালির স্বাস্থ্যসচেতনতা সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা লিখেছেন। এই বইয়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশেও আলোকপাত করেছেন যশোধরা রায়চৌধুরি, মইনুল হাসান, সোমেন সেনগুপ্ত।
এই মুহূর্তে এই সঙ্কলনটির প্রয়োজনীয়তা নানা দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। তার কারণ রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রতিদিনের জীবনে জড়িয়ে–‌থাকা অর্থনৈতিক প্রেক্ষিত। সারা বিশ্ব জুড়ে প্রথিতযশা বাঙালির পাশাপাশি হয়ত এমন কোনও দেশ নেই, যেখানে বাঙালি পা ফেলেনি। ইউরোপ, আমোরিকা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, চীন, জাপান এবং এশিয়া মহাদেশের সব কটি দেশেই বাঙালি কোথাও না কোথাও তার অস্তিত্ব ও মেধা নিয়ে এক স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হয়ে জাগরূক। হ্যাঁ, আফ্রিকার দেশগুলিতেও। জল, স্থল, অন্তরীক্ষে এই জাতির প্রতিনিধি বহু দশক ধরেই উজ্জ্বল। কিন্তু নানা সময়ে সে বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও নিন্দিত। আবার এখনকার পৃথিবীর নিরিখে বিজ্ঞান, সাহিত্য, অর্থনীতি, রাজনীতি এমনকি কূটনীতিতেও সে ‘‌রেখে যায় পদচিহ্ন’‌। বাঙালি জাতির সিদ্ধি এখানেই। দুর্দান্ত একটি সংগ্রহযোগ্য সঙ্কলন।
বাংলা ও বাঙালি ●‌ শারদোৎসব ২০১৯ ●‌ ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিস্ট সোসাইটি ●‌ সম্পাদক অঞ্জন সেনগুপ্ত ●‌ ১০০ টাকা

জনপ্রিয়

Back To Top