এই উপন্যাসে উত্তর কলকাতার গলিঘঁুজিতে আলো ফেলেছেন শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়। মধ্যবিত্ত জীবনের ভাঙন নিয়ে বাংলা সাহিত্যে কম লেখা হয়নি। কিন্তু ‘‌এক নম্বর পাঁচু মিস্ত্রি লেন’‌–‌এর ওই বাড়ির ঝুলবারান্দার বটের চারার মতোই কথা বলে যারা, তাদের নিয়ে কী অনায়াসে গল্প ফেঁদেছেন লেখক। আশ্চর্য রহস্যময় ওই শরিকি বাড়ি। যেখানে থাকে বড় তরফ, ছোট তরফের চরিত্রেরা। চেনা, আবার অচেনাও।
একের ডি, একের বি, একের ই— শরিকি বাড়ির একটিই ঠিকানা এক নম্বর পাঁচু মিস্ত্রি লেন। হওয়ার কথা ছিল ঘোষালবাড়ির বড়কর্তা রমণীরতনের নামে যে রাস্তা, কী এক দৈব–‌দুর্বিপাকে হয়ে গেল পাড়ারই মিস্ত্রি পাঁচুর নামে!‌ ঠিকানা যা–ই হোক, শুনশান শরিকি বাড়িগুলি অলক্ষ্যে কথা বলে। উপন্যাসের শুরু থেকেই আমরা দেখি, সেই কাঠের খড়খড়ির পাল্লা, আলগা ছিটকিনি, নোনা ইট, ঘুণধরা কাঠের কড়িবরগা কিংবা টঙের ঘরের গম্বুজের মতো ছাদের মাথায় আটকানো টিনের হাওয়া মোরগ.‌.‌.‌এ সবই পুরোনো কলকাতার এক বনেদি বাড়ির পড়ন্ত চেহারা।
 তার বাসিন্দা ছোট তরফের অরূপ। চাকরি ছেড়ে যে এখন বাড়িতে বসে রয়েছে।‌ তার ছেলে বাবু্য়াও এ যুগের ‘‌ল্যাদ’‌ খাওয়া যুবক, নেশায় আসক্ত, টাকা জোগাড় করে বাড়ির অ্যান্টিক বিক্রি করে। বড় তরফের সুনন্দা অপরূপ সুন্দরী বটে, কিন্তু স্থূলকায়। তার জীবনে প্রেম–‌ভালবাসার ঠঁাই নেই। এসেছিল কিশোরী বয়সে, পাড়ার যুবক শাম্ব তখন জলন্ত শিখা যুবা বয়সে। ‘সুনন্দা ডিঙি মেরে কলতলার শ্যাওলাধরা জায়গাটা পেরিয়ে দরজার সামনে গেল.‌.‌.‌ক্যাম্বিসের বলটা এসে পড়েছিল, ও খেয়াল করল একেবারে শেষমুহূর্তে.‌.‌.ওর পিঠে শাম্বর একটা হাত‌, অন্য হাতটা কোমরে.‌.‌.‌।’‌
গল্প এগিয়েছে তরতর করে। আর শীর্ষর লেখনী তো প্রাঞ্জল ভাষাতেই কথা বলে। বইটির প্রচ্ছদও চমৎকার এঁকেছেন রৌদ্র মিত্র।‌‌‌‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top