গৌতম চক্রবর্তী: সত্তরেও সমাদৃত। দেশ–বিদেশে নিজের জায়গা করে নিয়েছে বাঙালি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘‌‌মুখরোচক’‌। কোম্পানির ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার গোবিন্দপুর ক্যাম্পাসে এর ইতিহাস নিয়ে লেখা একটি বই প্রকাশিত হল। নাম ‘‌গল্পটা মুখরোচক’‌। লিখেছেন অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়। ছিল কোম্পানি ও তার পণ্য নিয়ে তৈরি একটি গানও। জয় সরকারের সুরে শ্রীজাতর লেখা গানটি গেয়েছেন নচিকেতা চক্রবর্তী।
মুখরোচকের জন্মদিন উপলক্ষে চাঁদের হাট বসেছিল গোবিন্দপুরে‌। ছিলেন কোম্পানির কর্ণধার প্রণব চন্দ, সংহিতা চক্রবর্তী, প্রতীক চন্দ, অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু, পরিচালক ও অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন ক্রিকেটার সম্বরণ ব্যানার্জি, বাচিকশিল্পী জগন্নাথ বসু ও ঊর্মিমালা বসু, সমাজসেবী কল্লোল ঘোষ, অনিলাভ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মির। এদিন প্রণব চন্দ বলছিলেন, ‘‌প্রায় ৭০ বছর আগে বাবা এবং দাদু মিলে টালিগঞ্জে একটি ছোট দোকানে ব্যবসা শুরু করেন। তার পর অনেক ঘাত–প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে কোম্পানি এখন এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে। সে সময় টালিগঞ্জের কলাকুশলীরা সেই দোকানে বসে চানাচুর খেতেন আর গল্প করতেন। মুখরোচক নামটি দিয়েছিলেন এক সাহিত্যিক।‌ ৭১–এর গোলমালের সময় টালিগঞ্জ থেকে গোবিন্দপুরে কোম্পানি চলে আসে। এখানে প্রায় ৭ একর জমির ওপর কারখানা তৈরি হয়। এখন সেই কারখানা অত্যাধুনিক। চানাচুর ছাড়াও প্রায় ২৫ রকমের স্ন্যাক্স আইটেম তৈরি করছে কোম্পানি। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, মালেয়শিয়া–সহ বিভিন্ন দেশে বাজার দখল করছে। আমাদের সকল পণ্য স্বাস্থ্যকর। ভাজাভুজি হয় ম্যানুয়ালি। খেলে কখনওই শরীর খারাপ হয় না।’‌ তিনি আরও জানান, কাজে মনঃসংযোগ বাড়াতে সকল কর্মীকে দিনের শুরুতে কারখানায় যোগাসন করানো হয়। এতে তাঁদের মন, স্বাস্থ্য দু‌টোই ঠিক থাকে।

‘‌মুখরোচক’‌–এর বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাঁদিক থেকে, মির, প্রতীক চন্দ, বিশ্বনাথ বসু, ঊর্মিমালা বসু, জগন্নাথ বসু, অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়, প্রণব চন্দ, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং সম্বরণ ব্যানার্জি। গোবিন্দপুরে। মঙ্গলবার। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top