মৌমিতা ভট্টাচার্য: ‌ধর্ষণকাণ্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা হয়েছে স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর। ২০১৩ সালে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করার জন্য বুধবারই আসারামকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অথচ গোটা বিশ্বে ৪০০–টিরও বেশি আশ্রম রয়েছে এই ধর্মগুরুর। তারই এক শাখার সন্ধান পাওয়া গেল খাস কলকাতার বুকে। শহরের অদূরেই দক্ষিণ সোনারপুরের পাঁচপোতা এলাকার রানাভুতিয়া গ্রামে বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে আসারাম বাপুর আশ্রম। ঠিকানা পাওয়া মাত্রই সেখানে পৌঁছে যায় aajkaal.in। 
আশ্রমের চারপাশ উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। সেখানে সকলের প্রবেশ নিষিদ্ধ। গেটের বাঁ–পাশে রয়েছে শিবের ছবি। পাঁচিলের এপাশ থেকে বাড়িটি দেখা যায়। বাড়ির ওপর লেখা হরি ওম। কৌশল করে বানানো হয়েছে আশ্রমের মূল প্রবেশপথ। যাইহোক অতি কষ্টে সেই প্রবেশ পথ দিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢোকা গেল। জানা যায়, প্রায় ২০ বিঘে জমির ওপর আশ্রমটি গড়ে তোলা হয়েছে। আশ্রমের ভেতর রয়েছে অফিসঘর, মন্দির, জপ করার বড় চাতাল‌–সহ একটি তিনতলা বাড়ি। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, এই তিনতলা বাড়ির কোনও একটি এসি ঘরেই আসারাম বাপু এসে থাকত। আশ্রমের দায়িত্বে থাকা নীরজ আগরওয়াল বলেন, ‘‌আইনের অপব্যবহার করে আসারাম বাপুকে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমরা এত বছর ধরে আশ্রমে আছি, গুরুজি কেমন মানুষ তা কি আমরা জানি না?‌ হাইকোর্টে মিথ্যা নথি পেশ করে গুরুজিকে ফাঁসানো হয়েছে।’‌ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর এক সেবায়ত জানান, তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে নিজের জীবন গুরুজির পায়ে সঁপে দিয়েছেন। এ ধরনের কোনও দুষ্কর্ম আসারাম বাপু করতে পারে তা তাঁরা মানতে নারাজ।

 
সারা বিশ্বে ৫ কোটিরও বেশি অনুগামী রয়েছে আসারামের। ২০১২ সাল পর্যন্ত বছরে একবার করে পাঁচপোতার এই আশ্রমে ঘুরে যেত এই স্বঘোষত ধর্মগুরু। এমনকি গুরু পূর্ণিমা উৎসবের সময়ও গুরুজি আসত এই আশ্রমে। সেই সময় আশ্রমে পা দেওয়ার জায়গা থাকত না। শয়ে শয়ে মানুষ আসারাম বাপুজিকে দেখতে এই পাঁচপোতায় ভিড় জমাতেন। নীরজ আগরওয়াল জানান, ১৯৯৮ সালের ২৬ জানুয়ারি এই আশ্রমের উদ্বোধন হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই আশ্রমে গুরুজির ছত্রছায়ায় এসে উপকার পেয়েছেন। সেই আসারাম বাপু কী করে কারোর অপকার করতে পারে? ‌নীরজ ভাইয়ের কাছ থেকেই জানা গেল, প্রতি মাসের শেষ রবিবার করে আশ্রমের পক্ষ থেকে ৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এছাড়াও আশপাশের গ্রামের ১২০–১৫০ জনকে নিঃশুল্ক রেশন কার্ড বিলি করা হয়েছে এই আশ্রমের পক্ষ থেকে বলেও জানান নীরজ ভাই। জনসেবামূলক কাজই এই আশ্রমের প্রধান লক্ষ্য বলে জানা যায়।  
আশ্রমের ভেতর ৫–৬ জনকে দেখা গেলেও স্থানীয়দের দাবি আরও অনেকেই এই আশ্রমের ভেতর রয়েছেন। প্রতি রবিবার করে ভক্তদের জমায়েত হয় এই আশ্রমে। আশ্রমের ভেতর ঢুকতেই তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাতে বাইরে কেউ বেরতে না পারে। স্থানীয়রা জানান, আশ্রমে এখনও পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে সব–সময়ই নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা থাকে। গুরুজি যখন আসত তখন নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হত। এদিনও আজকালের চিত্র সাংবাদিককে সেখানে ছবি না তোলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। আশ্রমে যে ছবি তোলা নিষেধ তা বারংবার মনে করিয়ে দেন নীরজ ভাই। তবে আপাতদৃষ্টিতে বোঝা গেল, আসারাম বাপুর কলকাতার এই আশ্রমেও যথেষ্ট গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। তবে তা কী কারণে এই গোপনীয়তা, তার উত্তর অবশ্য পাওয়া যায়নি।  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top