আজকাল ওয়েবডেস্ক: জনপ্রবাদ, ইতিহাস তার পুনরাবৃত্তি ঘটায়। তার ফলেই কি ১৯১৮ সালে যেমন বিশ্ব কেঁপে উঠেছিল স্প্যানিশ ফ্লু–এর ধাক্কায়, তেমনই ২০২০ সাল কাঁপছে কোভিড–১৯–এর প্রকোপে?‌
তথ্য অনুযায়ী, ১৯১৮ সালে মার্চ–এপ্রিল মাসে, বসন্তকালে ইওরোপের জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন এবং আমেরিকাতে ছড়িয়েছিল স্প্যানিশ ফ্লু। তবে ভাইরোলজিস্ট জন অক্সফোর্ডের গবেষণা বলছে, ফ্রান্সের এটাপ্লেসে হাসপাতাল এবং সেনা শিবিরগুলিতেই প্রথম একধরনের ফ্লু দেখা দেয় ১৯১৬ সালের শেষের দিকে। তারপর ১৯১৭ সালের মার্চে অ্যাল্ডারশটের সেনা শিবিরেও একই রোগের প্রকোপ দেখা গিয়েছিল। এবং ১৯১৮–র মার্চ নাগাদ মারণ ভাইরাস এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা এ–র আকারে তা গ্রাস করে নেয় সারা বিশ্বকে। ১৯১৯ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত চলা ওই মহামারীতে বিশ্ব জুড়ে মারা গিয়েছিলেন কমপক্ষে ৫০ মিলিয়ন মানুষ। মোট আক্রান্ত কমপক্ষে ৫০০ মিলিয়ন।
যেহেতু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ই ছড়িয়েছিল এই মহামারী, সেহেতু অন্যান্য দেশের সরকার ফ্লু–তে মৃতের সংখ্যা কম করে লিখতে নির্দেশ দিয়েছিল সংবাদমাধ্যমগুলিকে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ দেশ স্পেনে এধরনের কোনও চাপ ছিল না। এমনকি তৎকালীন স্পেনের রাজা অষ্টম আলফোন্সোর অসুস্থতার খবরও ছাপা হয়।

তার ফলেই বিশ্ববাসীর মনে ধারণা জন্মায় স্পেনে এই রোগ মারাত্মক আকার নিয়েছে এবং তারপর থেকে এই রোগের নাম হয়ে যায় স্প্যানিশ ফ্লু। 
সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার সব হিসেব উল্টে দিয়ে স্প্যানিশ ফ্লু–তে সব থেকে বেশি মৃত্যু হয়েছিল যুব সম্প্রদায়ের। একদল বিশেষজ্ঞের মতে, এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাস সাইটোকাইন স্টর্মকে বাড়িয়ে যুবক, যুবতীদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বযুদ্ধের সময় হাসপাতাল, সেনাশিবির বা জনবসতির ঘিঞ্জি, অপরিচ্ছন্ন পরিস্থিতি, অপুষ্টিজনিত একাধিক কারণে সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা মারণ স্প্যানিশ ফ্লু হয়ে ওঠে।
আজকের কোভিড–১৯–এর স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধির মতোই স্প্যানিশ ফ্লু–ও ছিল নিঃশ্বাসজনিত ভাইরাস। তাই তার থেকে বাঁচতে তৎকালীন বিশ্বেও একইরকম সুরক্ষা বিধি নেওয়া হয়েছিল। যেমন রোগী থেকে চিকিৎসক, সাফাইকর্মী থেকে পুলিশ অফিসার, সবার মুখেই দেখা যেত মাস্ক। এছাড়া অসুস্থ মানুষদের তখনও আজকের মতোই কোয়ারানটাইনে রাখা হয়েছিল। আর কোয়ারানটাইনে থাকা, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষদের একাকিত্ব ঘোচাতে, যেহেতু তখন সোশ্যাল মিডিয়া বা টিভি ছিল না, তাই ভরসা ছিল টেলিফোন। মানুষকে মাস্ক সম্পর্কে সচেতন করতে এবং কোয়ারানটাইনে থাকা মানুষদের পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে টেলিফোনে কথাবার্তার বিজ্ঞাপন সেসময় ঘুরপাক খেত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বা বিজ্ঞাপনী প্রচারে।

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top