দেশজুড়ে চলছে ফসিল্‌স ট্যুর। সাক্ষাৎকারের আগের রাতেই চেন্নাই থেকে শো করে ফিরেছেন। প্রবল ব্যস্ততার মধ্যেই সেরেছেন নতুন শর্ট ফিল্ম ‘‌সবুজ চশমা’‌–র সঙ্গীত পরিচালনার কাজ। তবু তারই মধ্যে আজকাল ডট ইন–কে সময় দিলেন। মাইল্‌স বিতর্ক থেকে ক্যাকটাস— প্রিয়ম সেনগুপ্ত-র যাবতীয় বাউন্সার হেলায় মাঠের বাইরে ওড়ালেন রূপম ইসলাম

 

 

 


❏‌ দেশজুড়ে ফসিল্‌স ট্যুর চলছে। এর আগে কোনও বাংলা ব্যান্ডের সম্ভবত এমন নজির নেই। ট্যুরের অভিজ্ঞতা কী রকম?‌ কতটা উপভোগ করছো?‌

রূপম— যে কোনও অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা সব সময়েই ভাল। তার কারণ, অনুষ্ঠান দর্শক–শ্রোতাদের কাছে আমাদের পৌঁছে দেয়। এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র গড়ে তোলার একটা সুযোগ আমরা পাই। এবারের ফসিল্‌স ট্যুরের মাধ্যমে গোটা দেশের বাঙালি দর্শক–শ্রোতাদের কাছে এবং কিছুকিছু ক্ষেত্রে অবাঙালি দর্শক শ্রোতাদের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছি। এক্ষেত্রে সবথেকে বড় ভূমিকা নিয়েছে ‘‌হার্ড রক ক্যাফে’‌–র একটি সর্বভারতীয় ট্যুর। যার অংশ হিসেবে কলকাতায় আমরা প্রথম পারফর্ম করি।  তারপরে মুম্বই ও পুণে এবং তারও পরে বেঙ্গালুরু ও দিল্লি। পরবর্তী পর্বে থাকবে হায়দরাবাদ। এর মধ্যেই যেহেতু চেন্নাইয়ে গেলাম এবং সেখানে একটা বাঙালি সংস্থার নববর্ষের অনুষ্ঠান করলাম, তাই সেটার উল্লেখও আমরা এই ট্যুরের সঙ্গে এক নিঃশ্বাসেই করছি। একই বছরে গোটা দেশে একসঙ্গে এতগুলো জায়গায় পরপর শো করাটা খুবই তৃপ্তিদায়ক। এটা সামগ্রিকভাবে গোটা ভারতকে আবার নতুন করে চিনিয়ে দেয়। দেশের এতগুলো শহরে যদি পরপর সফর হয়, তাহলে একজন ভারতীয় হিসেবেই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে।

 

❏‌ রাজ্যজুড়ে এমন সফর তো আগেও ফসিল্‌স করেছে।

রূপম— হ্যাঁ, সেটা তো সবসময়েই চলছে। তবে এই সিজনে পশ্চিমবঙ্গের একেবারে উত্তর থেকে দক্ষিণ আবার পূর্ব থেকে পশ্চিম— এভাবে গোটা রাজ্যজুড়ে যে সফর–মানচিত্রটা তৈরি হয়েছে, সেটা এর আগে পুরো রাজ্য জুড়ে এত ব্যাপকভাবে হয়নি। দেশ এবং রাজ্যে একসঙ্গে এতগুলো সফর মনটাকে বড় করে দেয়। সঙ্গীতমনস্কতাকে আরও উদার করে। এবং আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনোর ইচ্ছেটা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। নিজেকেই বলতে ইচ্ছে করে, ‘‌হ্যাঁ, আরও মিউজিক করতে হবে।’‌

 

❏‌ এরকম বড় সফর তো বিদেশেও ফসিল্‌স ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে।

রূপম— হ্যাঁ। আমেরিকার সাতটা প্রদেশে আটটা শো পরপর করেছিলাম আমরা। সেই সময়েও একটা অন্যরকম সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেবারও অনেক নতুন জানলা আমাদের সামনে খুলে গিয়েছিল। সেটা কিন্তু এবারের সফরেও হচ্ছে।

 

❏‌ মুম্বইয়ের শো–তে অরিজিৎ সিংয়ের মতো নামজাদা শিল্পী একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তোমাদের শো দেখলেন। এই প্রাপ্তিটা কীরকম?‌

রূপম— বহু বিশিষ্ট শিল্পীই বারবার আমাদের কনসার্টে এসেছেন। অরিজিতের আসা নিশ্চয়ই তৃপ্তিদায়ক। পাশাপাশি এটাও ভুললে চলবে না, এর আগে আইয়ুব বাচ্চুর (‌এলআরবি)‌ মতো শিল্পী আমাদের সঙ্গে স্টেজে বাজিয়েছেন। আমরা তিনটে গান একসঙ্গে পারফর্ম করেছি।  তারমধ্যে দুটো গান ফসিল্‌সের। আর একটি গান বাচ্চুভাইয়ের।

 

❏‌ এটা কি হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডের শো–তে?‌

রূপম— না না। শো–টা নজরুল মঞ্চে হয়েছিল। ফসিল্‌স তখন মঞ্চে। তারপরে এলআরবি–র বাজানোর কথা ছিল। এলআরবি এসে আমাদের শুনছিল। আমরা ‘‌বাইসাইকেল চোর’‌ গাইছিলাম। সেটা শুনতে শুনতেই এলআরবি স্টেজে উঠে আসে। আমাদের সঙ্গে ‘‌বাইসাইকেল চোর’‌ বাজায়। তারপরে ওদের গান গাওয়া হল। সম্ভবত ‘‌সেই তুমি’ গেয়েছিলাম‌। তারপরে গাওয়া হয়েছিল ‘‌বিষাক্ত মানুষ’‌।

তাছাড়া ম্যাকও (‌ফিডব্যাক)‌ আমাদের সঙ্গে মঞ্চে গেয়েছেন। ম্যাকভাই তো টেলিভিশনের অনুষ্ঠানেও আমার গান গেয়েছেন। বিক্রম ঘোষের মতো শিল্পীও দুবাইতে অনস্টেজ আমাদের সঙ্গে ‘‌বিষাক্ত মানুষ’‌ জ্যাম করেছেন। এরকম অভিজ্ঞতা আরও অনেক শিল্পীর সঙ্গেই হয়েছে। কাজেই এই আদানপ্রদানের সঙ্গে আমি ভালভাবেই পরিচিত। তবে, এই একই পরম্পরায় অরিজিতের আমাদের শো দেখতে আসাটা আমার কাছে বিস্ময়ের। কারণ অরিজিৎ যে ধরনের গান গেয়ে বিখ্যাত হয়েছেন, সেটা তো আমরা যে ধরনের গানবাজনা করি, ঠিক সেই ধরনের নয়। তবে ওঁর শৈশব ও কৈশোর জুড়ে যে আমাদের গান রয়েছে, সেটা আমার জানা ছিল না।

 

❏‌ অরিজিতের সঙ্গে যোগাযোগটা কী ভাবে হল?‌

রূপম— অরিজিৎ নিজেই টুইটারের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। টুইটারেই তিনি বলেন, ‘‌মৃত মানুষ’‌–এর আনপ্লাগড ভার্সন শুনতে চাই। টুইটারে আমি তাঁকে বলি, ‘‌এটা তুমিই করো না হয়।’‌ অরিজিৎ বলেছিল, ‘‌আমাকে তাহলে গানটা শিখতে হবে।’‌ পরে অরিজিৎ ব্যক্তিগতভাবেও যোগাযোগ করেন। রাগসঙ্গীত ছাড়া আর কোনও প্রাদেশিক শিল্পীর গানই অরিজিৎ সেভাবে শোনেন না। তবু তার মধ্যেই বহুদিন পরে ‘‌ফসিল্‌স ফাইভ’‌ ওঁকে মুগ্ধ করেছে। অরিজিৎ জানিয়েছেন, ফসিল্‌সের সব অ্যালবামই ওঁর সঙ্গে থাকে। ফসিল্‌স ফাইভও থেকে যাবে। অরিজিৎ যখন বলছেন, আমাদের গান ওর ভাললাগে, সেটার থেকেই স্পষ্ট বাংলা রক করে আমরা শুধু রক অনুগামী ও রক মিউজিশিয়ানদের মধ্যে আবদ্ধ থাকিনি। তার বাইরেও আমাদের পরিসর বাড়াতে পেরেছি। এই প্রসঙ্গে কবীর সুমনের কথাও বলতে হবে। আমি ওঁর ভক্ত। আমাদের গানগুলো আমি ওঁকে পাঠাই। তিনিও কিন্তু শুনে প্রশংসাই করেন। এটাও বড় প্রাপ্তি।

❏‌ অরিজিৎ তো ফসিল্‌স ও রূপম ইসলামের ‘‌ফ্যান’‌। আর রূপম ইসলাম শিল্পী অরিজিৎকে কী চোখে দেখেন?‌

রূপম— অরিজিতের কণ্ঠচালনা, তিনি যেভাবে গান করেন, সেটা আমার বিশেষভাবে ভাল লাগে। সব ধরনের গান সমান দক্ষতায় গাইতে পারার ক্ষমতাটা সকলের থাকে না। সেটা অরিজিতের আছে। সেই জায়গা থেকে অরিজিৎকে আমি ভালবাসি। মুম্বইয়ের শো–তে অরিজিৎ যেভাবে একজন সাধারণ ভক্ত হিসেবে ভীড়ের মধ্যে এসে দাঁড়ালেন, সেটা একমাত্র তিনিই করতে পারেন। কারণ মাঠে দাঁড়িয়ে ম্যান ম্যানেজমেন্টের একটা সহজাত দক্ষতা ওঁর আছে। আমরা শিল্পীরা যখন কোনও অনুষ্ঠান দেখতে যাই, অনেকেই বুঝতে চান না যে আমরা অনুষ্ঠান দেখতে এসেছি। তাঁদের দাবি থাকে হয় সেলফি তুলতে হবে, নয় তো অটোগ্রাফ দিতে হবে। দাবিটা হয় তো খুবই সঙ্গত। কিন্তু আমি যখন কোনও অনুষ্ঠান দেখছি, তখন সেই দাবি মোটেই সঙ্গত নয়। এটা কেউই ভেবে দেখেন না, একজন মানু্ষ অনুষ্ঠান দেখতে এসেছেন, তাঁকে বারবার ছবি তোলার অনুরোধ করলে তিনি কী করে অনুষ্ঠান দেখবেন?‌ অরিজিৎ এগুলো ম্যানেজ করতে পারেন। বেশ আগ্রাসী ভাবেই ম্যানেজ করেন। সেটা আবার আমি পারব না।

 

❏‌ ‘‌নতুন নিয়ম’‌–এর সাফল্যের পরে সোলো অ্যালবামের কাজও তো শুরু হয়ে গিয়েছে।

রূপম— আমরা তো এখন অ্যালবাম একযোগে রিলিজ করার আগেই সিঙ্গলস রিলিজ করতে শুরু করি। ‘‌আমি তোমায় ভালবাসি’‌ এবং ‘‌আমি তোমায় ভালবাসি ২’‌ রিলিজ করে গিয়েছে। ‘‌আমি তোমায় ভালবাসি’–র ভিডিও রিলিজ করে গিয়েছে। ‘‌আমি তোমায় ভালবাসি ২’–এর ভিডিও এপ্রিলের শেষে বেরবে। তারপরে তৃতীয় গান নিয়ে ভাবব। আপাতত এটুকু বলতে পারি, নতুন তিনটে মিউজিক ভিডিও তৈরি হওয়ার কথা চলছে।

 

❏‌ রূপম ইসলাম এককে যে গানগুলো তুমি করো, তার কয়েকটা ‘‌নতুন নিয়ম’‌–এ প্রকাশিত হয়েছে। বাকি রয়েছে ‘‌রেডিও জকি’‌, ‘‌ক্ষুধার্ত মাংশাসী’‌, ‘‌আমি যাই’‌–এর মতো অতিজনপ্রিয় গানগুলো। সেই গানগুলো কি এবারের সোলো অ্যালবামে থাকছে?‌

রূপম—না, এগুলো থাকছে না।

গান বাছাইয়ের ব্যাপারে যখন আমার ওপরে পুরোপুরি দায়িত্ব এসে পড়ে, অর্থাৎ একক প্রোজেক্ট, সেখানে আমি একটু ক্ষ্যাপামি করতেই পছন্দ করি। সেখানে আমি ইন্সটিংক্টের ওপরে ভরসা করি। গানের নামগুলো তাই প্রকাশ করে দিতেই পারি। এবারের অ্যালবামে থাকছে ‘‌গানের জন্ম’‌। যেটা আমার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গান। ‘‌সামঞ্জস্য’‌ গানটা বাকি গানগুলোর সঙ্গে খাপ খায় বলেই আমার মনে হয়েছে। আর একটা গান হল ‘‌মহানগরের কিনারে’‌।

 

❏‌ আর ‘‌আমি যাই’‌?‌

রূপম— হ্যাঁ ‘‌আমি যাই’‌–ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘‌রেডিও জকি’‌ অতটা গুরুত্বপূর্ণ কি না জানি না। ‘‌ক্ষুধার্ত মাংশাসী’‌ প্রচণ্ড জনপ্রিয়। তবে এটাও জানিয়ে দিই, ‘‌ক্ষুধার্ত মাংশাসী’‌ সম্ভবত ফসিল্‌সই তৈরি করবে। কবে করবে সেটা জানা নেই। ‘‌আমি যাই’‌ আমি নিজেই করব। তবে সেটার সেরা প্রোডাকশনের জন্য আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। তবে আপাতত ‘‌গানের জন্ম’‌–এর নিয়েই ভাবছি। ‘‌গানের জন্ম’‌ একটা বড়সড় ঘটনা নিয়েই আসবে।

 

❏ রূপম এককের কথা যদি ধরি, তাহলে বলা যেতেই পারে, সেখানে তুমি যে গানগুলো গাও, তার বেশিরভাগটাই অপ্রকাশিত গান। তবু সেগুলো লোকের মুখে মুখে ঘোরে, তোমার সঙ্গে গলা মেলান দর্শক–শ্রোতারা। অপ্রকাশিত গানের এই জনপ্রিয়তার রহস্য কী?‌

রূপম—সেটা তো যাঁরা শো দেখেছেন, তাঁরাই বলতে পারবেন। আমি শুধু বলতে পারি, আমি মানু্ষের সঙ্গে কথা বলতে খুব ভালবাসি। এককে গান গাওয়ার ফাঁকে অনেক কথা বলি। আমার গানগুলোর মধ্যে অনেক কথা আছে। যাঁরা ওপরওপর গান শোনেন, ভেতরে পৌঁছতে পারেন না, তাঁরা কথাগুলো মিস্‌ করে যান। এই ভেতরে পৌঁছনোর ব্যাপারটা আমি প্রথম থেকেই অনুভব করেছি। শো–তে সেই অনুভবগুলো আমি মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিই। আমার মনে হয়, সেটাই রূপম এককের স্বকীয়তা।

 

❏‌ কথা বলার প্রসঙ্গ ধরেই বলি, তুমি নিঃসন্দেহে একজন জনপ্রিয় গায়ক। তার পাশাপাশি জনপ্রিয় বক্তা। সেটার প্রমাণ অতীতে ‘‌রূপম অন দ্য রক্‌স’‌ এবং অন্য কিছু জনপ্রিয় শো–তে দর্শক–শ্রোতারা পেয়েছেন। আবার কোনও টক শো হোস্ট করতে ইচ্ছা করে না?‌

রূপম— খুবই ইচ্ছা করে। দশমাস ‘‌রূপম অন দ্য রক্‌স’‌ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তারপর থেকেই সকলকেই এটা বলি, আমি টক শো হোস্ট করতে চাই। কেউ আমাকে সুযোগ দেননি। সুযোগ দিলে আমি সবসময় রাজি।

 

❏‌ ১৯৯৮ সালে ‘‌তোর ভরসাতে’‌ তোমার প্রথম অ্যালবাম। ২০০৩ সালে সেটাই রিলিজ করল ‘‌নীল রং ছিল ভীষণ প্রিয়’‌ নাম দিয়ে। এটার কারণ কী?‌

রূপম—‘‌তোর ভরসাতে’‌ অ্যালবাম যখন বেরিয়েছিল, এইচএমভি বলেছিল এই অ্যালবাম অত্যন্ত বাজে। বাজারে একেবারেই চলবে না। আরও বলেছিল, ‘‌এই অ্যালবাম রেখে জায়গা নষ্ট করার কোনও মানে হয় না। এই অ্যালবাম গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’‌ আবার এখন যখন ওদের কোনও কর্তার সঙ্গে দেখা হয়, তাঁরা তখন বলেন, ‘‌এতো বছর ধরে এই অ্যালবাম আমরা এতো বিক্রি করেছি যে, তার কোনও তুলনা নেই।’‌ আমি জানি না, এই যে দু’‌রকম বক্তব্য, তার পিছনে কোনও চক্রান্ত আছে কি না। এ–ও জানি না কেউ কলকাঠি নেড়েছিল কি না। ওই অ্যালবামটা যে কতটা আধুনিক ছিল, সেটা আজ প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। সাউন্ডস্কেপের দিক থেকে, অ্যাটটিউডের দিক থেকে, স্বরপ্রক্ষেপ ও সঙ্গীতবোধের মিশ্রণের দিক থেকে একটা ভাল কাজ হয়েছিল ওই অ্যালবামে। যেটা অবশ্যই ওই সময়ের অন্য অনেক কাজের থেকে এগিয়ে ছিল। তারপরে বাংলাদেশে এই অ্যালবামের পাইরেসি হয়ে পৌঁছে গেল। তারপরে বাংলাদেশে একটি সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, বাংলাদেশে সবথেকে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যালবামের তালিকায় দু’‌নম্বরে ছিল ‘‌তোর ভরসাতে’‌।

জনপ্রিয়তা এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে বাংলাদেশের একটি টেলি সিরিজে আইয়ুব বাচ্চুর একটি গান এবং আমার ‘‌নীল রং ছিল ভীষণ প্রিয়’‌–র মিউজিক ভিডিও তৈরি করে ব্যবহার করা হয়। সেটা আবার করেছিল কলকাতারই ছেলে রিংগো। যাকে আমরা এখন চিনি চিত্রপরিচালক হিসেবে। বাংলাদেশে এই জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরে ফসিল্‌সও এই রাজ্যে জনপ্রিয় হয়। তখন সেই জনপ্রিয়তার ভরসাতেই রিংগোর বানানো সেই মিউজিক ভিডিওর একটি কপি এবং নিয়ে এইচএমভি–র দপ্তরে হাজির হই। বলি, ‘‌আমার অ্যালবাম তো আপনারা বেচতে পারেননি। এই দেখুন, অ্যালবামটা এইরকম সাফল্য পেয়েছে।’‌ তখন এইচএমভি আমার কথা শুনে নতুন করে অ্যালবাম প্রকাশ করে। একদম শুরুতে অ্যালবাম বাজারে থাকলেও সেই সময়ে এই অ্যালবাম বাজারে পাওয়া যেতো না। নতুন অ্যালবামে দশটা গান রেকর্ড করার কথা ছিল। এইচএমভি আমাকে যে সময় দিয়েছিল, তাতে দশটা গান রেকর্ড করতে পারিনি। আমার সহশিল্পীদের ‘‌কমলো মেঘেদের ওজন’ এতই ভাল লেগেছিল যে, তাঁরা দাবি করেছিলেন, ওই‌ রেকর্ড না করলে আমরা অ্যালবাম প্রকাশ করতে দেবো না। এদিকে তখন জায়গা ছিল আর একটা গানের। ভোটাভুটিতে ‘‌তোর ভরসাতে’‌–কে বাদ দিয়ে ‘‌কমলো মেঘেদের ওজন’‌ রেকর্ড করা হয়। সেই জন্যই ‘‌তোর ভরসা’‌–তে নাম পাল্টে ‘‌নীল রং ছিল ভীষণ প্রিয়’‌ নাম দেওয়া হয়।

 

❏‌ বাংলা সিনেমায় তুমি নিয়মিত প্লেব্যাক করছো। সিনেমার পর্দাতেও তোমাকে গাইতে দেখা যাচ্ছে। কখনও অভিনয় করতে ইচ্ছা করে না?‌

রূপম— অভিনয় করবো তখনই, যখন সেটা আমার গানের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।

 

❏‌ একটু আগে তুমি বাংলাদেশের কথা বলছিলে। বাংলাদেশের সঙ্গে বরাবরই তোমার একটা আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ‘‌মাইল্‌স’–এর সঙ্গে তোমার যে ঝামেলা.‌.‌.‌

রূপম— (‌প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই)‌ মাইল্‌সের সঙ্গে আমার কোনও ঝামেলা হয়নি। মাইল্‌স অকারণে আমার নামে কিছু বাজে কথা বলে একটা ভিডিও পোস্ট করে। আমিও পাল্টা একটি বার্তা দিই। কারণ, ওরা আমার নামে অনেক বাজে কথা বলেছিল, যেগুলোর উত্তর দেওয়ার দরকার ছিল। আমি জানি না, ওঁরা কতটা আমার সম্পর্কে জানেন। বাংলাদেশ আমার জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আমার বড় হওয়া, গড়ে ওঠা— সবকিছুর সঙ্গে বাংলাদেশ জড়িয়ে রয়েছে। আমার মা–র বাবা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী হলেও পরবর্তীকালে বাংলাদেশে নাগরিক হয়ে ওখানে আশ্রম তৈরি করেন। আমার বাবার সঙ্গে বাংলাদেশের বহু শিল্পীর যোগাযোগ ছিল। বাংলাদেশের ব্যান্ডগুলো নিয়ে যখন এপার বাংলার শ্রোতাদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না, তখন একজনই সেটা নিয়ে কলাম লিখে গিয়েছে— সেই লোকটাও আমি। বাংলাদেশের শিল্পীদের ধাওয়া করে তাঁদের ইন্টারভিউ প্রকাশ করেছি। তখন হয়তো আমি নিজে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নই, কিন্তু তখনও সাংবাদিক হিসেবে এই কাজ আমি করে গিয়েছি। আমার প্রত্যেকটা বইতেই বাংলাদেশের জন্য আলাদা অধ্যায় আছে। সুতরাং বাংলাদেশের সম্পর্কে আমার যে সম্পর্ক, সেটা দু’‌–একটা কটূ কথা কিংবা দু’‌–একটা মিথ্যে কথা বলে নষ্ট করা যাবে না।

 

❏‌ ‌এতকিছুর পরেও তো আইয়ুব বাচ্চু কিংবা জেমস কলকাতায় এলে তোমার সঙ্গে সময় কাটান!‌

রূপম— জেমসভাই সব সময়েই আমার খোঁজ নেন। আমাকে যাঁরা উৎসাহ দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মাকসুদুল হক, আইয়ুব বাচ্চুর নাম নিতেই হবে। যে কাজটা আমি আজ করছি, সেই কাজে তাঁরা আমাকে ঠেলে দিয়েছেন। কখনও প্রত্যক্ষভাবে, কখনও পরোক্ষভাবে। বাচ্চুভাই তো সবসময়েই বলতেন, ‘‌রক এখানে হচ্ছে না?‌ রক এখানে হবেই। আর সেটা তুই–ই করবি।’‌ আইয়ুব বাচ্চুকে যদি আমার সম্পর্কে কিছু বলতে বলা হয়, তাহলে উনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মজার মজার গল্প বলে যেতে পারেন। কত জায়গায় যে আমরা একসঙ্গে গিয়েছি, সময় কাটিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। এই সখ্যটা অন্য লেভেলের। কাজেই যে ঝগড়াটা দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা মিথ্যে ঝগড়া।

কিছু ভারতবিদ্বেষী লোকজন একটা বলির পাঁঠা চাইছিল। খুব ভেবেচিন্তে আমাকে নিশানা করা হয়েছিল। কারণ যে কজন ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতির জন্য কাজ করেন, সেখানে আমার নাম সবচেয়ে ওপরে আসবে। একটা চক্র সম্পর্ক খারাপ করার চেষ্টা করছে। এটা একটা রাজনৈতিক চক্র। সেই চক্র মিথ্যে কথা বলে একটা ঝগড়া সাজাতে চেয়েছিল। কিছুকিছু শিল্পী সেই চক্রের মুখ। সেটা বাংলাদেশেও সকলেই বোঝেন। আমার বক্তব্যের একটা অংশকে বিকৃত করে, তার একটা অংশকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহার করে মিথ্যে সাজানো হয়েছিল। এই মিথ্যেটা কেউ মেনে নেবেন না। বাংলাদেশে আমার অগণিত ভক্ত আছেন। তাঁরা আগেও ছিলেন এখনও আছেন। তাঁদের অনেকের কাছে এই মিথ্যেটা পৌঁছেছিল। যত সময় গিয়েছে, তাঁরা বুঝতে পেরেছেন সত্যিটা কী।

 

❏‌ ফেসবুকে কয়েকদিন আগে পর্যন্ত তুমি খুব একটা সক্রিয় থাকতে না। ইদানিং সক্রিয় থাকছো। প্রায়ই লাইভ আসছো। ভিডিও পোস্ট করছো। এই পরিবর্তনের কারণ কী?‌

রূপম— দীর্ঘদিন ধরেই আমার মনে হচ্ছিল, গান প্রকাশের নতুন মাধ্যম এসে গিয়েছে। যে সমস্ত গণমাধ্যম আমাদের এতদিন উপেক্ষা করছিল, তাদের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী এই মাধ্যম। ফেসবুক এবং ইউটিউবের ভরসাতেই আমি আমার নিজের কাজ প্রকাশ করতে শুরু করি। এতদিন বাড়িতে নিজে নিজে এই কাজ করছিলাম। সেগুলো প্রকাশ করার ইচ্ছে ছিল না। নতুন নিয়ম অ্যালবামটা সম্পূর্ণ আমার নিজের হাতে তৈরি (‌একমাত্র পম, অর্থাৎ ‌প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী কাজটা চূড়ান্ত করেছেন)‌। বাকি পুরোটাই আমার নিজের লেখা, সুর করা, গাওয়া এবং বাজানো। এটা একটা পরীক্ষা ছিল। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে কতজনের কাছে আমি পৌঁছতে পারি। তারই অনুষঙ্গ হিসেবে নতুন নতুন পরিচালকদের একজোট করে মিউজিক ভিডিও বানানোর কাজ করা হয়েছে। অবশ্য তাঁদের নিজস্ব ইচ্ছেও ছিল, না হলে কেন তাঁরা মিউজিক ভিডিও বানাতে এলেন?‌‌ আমার এবং ওঁদের ইচ্ছে যুক্ত হয়ে একটা নতুন বার্তা দেওয়া গেল— গানপ্রকাশের নতুন মডেল এসে গিয়েছে। আমি সবসময়েই নতুন নতুন মডেল দেখিয়েছি। ভবিষ্যতেও দেখাবো। কারণ আমি অনেকের থেকে একটু আগে ভাবতে পারি। সেই ক্ষমতা যখন আছে, সেটাকেই কাজে লাগিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবকে ব্যবহার করছি। পাশাপাশি এটাও বলব, নতুন মডেলে আমাদের সমস্ত গানই ইউটিউব ন্যাশনাল ট্রেন্ডিংয়ে ট্রেন্ড করেছে। কখনও এগিয়ে কখনও পিছিয়ে। ত্রিশের ঘরেও আছে, কুড়ির ঘরেও আছে, দশের ঘরেও আছে আবার আট, সাত, পাঁচ, তিন, দুইও আছে।

 

‌❏‌ রেডিওতে বাংলা বেসিক গান বাজা তো বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। তোমার এই নতুন মডেলের গান তো সেই ধারাও পাল্টে দিয়েছে।

রূপম— এটা প্রায় একটা অসাধ্যসাধন বলা চলে। আবার বাজবে কি না, তা–ও জানি না। কবে বাজবে, সেটাও জানি না। আমি যে বিচারে ভাবলাম যে হয়তো এই কারণে বাজলো, সেই হিসেবে তো ‘‌জানলা’‌–ও বাজা উচিৎ ছিল। কিন্তু বাজেনি। ‘‌চাঁদনীতে উন্মাদ’‌ বাজা উচিৎ ছিল। কিন্তু বাজেনি। আবার বছরের সেরা কাজ হিসেবে এগুলো বিবেচিত হল। কলকাতার রেডিওতে যে একটি মাত্র মিউজিক অ্যাওয়ার্ড এখন দেওয়া হয়, তাতে তিনটি পুরস্কার পেয়েছি। অবশ্যই এটা প্রাপ্তি। অবশ্যই এগুলোই প্রমাণ যে আমার পথ ঠিক ছিল। পথ যখন ঠিক ছিল, তখন তো সেই পথেই এগোতে হবে। সেই কারণেই ফেসবুক, ইউটিউবকে আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরা।

 

❏‌ বহু সেলিব্রিটির মতো তোমাকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের সামনে পড়তে হয়। এটার মোকাবিলা কীভাবে করো?‌

রূপম— ট্রোলিং সবসময়েই যে কুরুচিকর, সেটা আমি মনে করি না। আমরা ছোটবেলা থেকে খবরের কাগজে কার্টুন দেখে বড় হয়েছি। কুট্টির কার্টুনের কথা আমার মনে আছে। কোথাও একটা মুরগির শরীরে কোনও নেতার মাথা— সেটাও তো একধরনের ট্রোলিং। সেটারই আধুনিক সংস্করণ হল ফেসবুক ট্রোলিং। এটা নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে এটা হতেই পারে। এমনকী, স্কুলের শিক্ষকদের নিয়েও এটা হয়। আমি যখন স্কুলে পড়াতাম, তখন নিজেই স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে মজার মজার নামকরণ করেছি, তাঁদের নিয়ে গান তৈরি করেছি, তাঁদের নিয়ে চিত্রনাট্য লিখেছি, তাঁদের নিয়ে নাটক লেখার পরিকল্পনা ছিল, সেই নাটকের পোস্টার স্কুলের বাথরুমে সেঁটে দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলাম।

আবার স্কুলে যখন পড়াতাম, তখন নিজেই নিজের কয়েকটা মজার নাম তৈরি করে ছেলেদের মধ্যে রটিয়ে দিয়েছিলাম। আবার চোখমুখ পাকিয়ে ছাত্রদের মধ্যে নিজের সম্পর্কে নানা খারাপ কথা রটিয়ে দিতাম। মানে ছাত্রদের যতটা খারাপ কথা বলা যায় ততটাই খারাপ কথা আর কী! আমি নিজেই এগুলো করে দিতাম, যাতে ছাত্রদের কষ্ট করে কাজগুলো না করতে হয়।‌ কাজেই আমার যদি সুযোগ থাকতে নিজেকে নিয়ে ট্রোলিং করার, তাহলে আমি এখনও সেটাই করতাম। যারা আমাকে ট্রোল করে, তাদের আমার আশীর্বাদ জানালাম। তবে জায়গা মতো থামতে জানাটাও দরকার। মা–বাবার কাছ থেকে যে শিক্ষা তারা পেয়েছে সেটার থেকেই যেন তারা বুঝে নেয়, কোথায় থামতে হবে।

 

❏‌ কোনও সামাজিক বা রাজনৈতিক ইস্যুতে তুমি গানের মধ্যে দিয়েই সাধারণত নিজের মতামত জানাও। আসিফা ধর্ষণকাণ্ডে তোমাকে দেখা গেল ফেসবুকে সরব হতে, পিটিশন শেয়ার করতে। এই ঘটনাটা তোমাকে কতটা ধাক্কা দিয়েছে।

রূপম— (‌বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ। চোখেমুখে অবসাদের ছায়া স্পষ্ট। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করলেন)‌ সত্যি কথা বলতে গেলে, আমাকে কিছু ধাক্কা দেয় না। আমি পাথর হয়ে গিয়েছি। সেই ভাবেই নিজেকে তৈরি করেছি। কোনও ঘটনা যখন ঘটে, মনে হয়, আর একটু মানুষ হলে বোধহয় ভাল হতো। আর একটু ধাক্কা খেলেই বোধহয় ভাল হতো। সেই বোধ যখন আসে, সাধারণত আমি গান লিখে ফেলি। যখন ভাবি, ধাক্কা খেলে ভাল হতো, তখন ধাক্কা খাই। আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ‘‌রোহিত ভেমুলার চিঠি’‌। এটা আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটা আমার একটা ধাক্কা খাওয়ার কাজ। আসিফার ক্ষেত্রেও হয়তো সেটাই হতে পারত। কিন্তু এখন আমি গান লিখছি না। আমি এখন বেস গিটার শিখছি। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে বাজনা শেখার সময় আমাকে সব সময়ই বিরক্ত করেেছ আমার গান লেখার অভ্যাস। নতুন বাজনায় একটু টুং–টাং করতে করতেই মাথায় সুর–কথা চলে আসে। তখন সেই গানের পিছনে অনেকটা সময় দিতে হয়। ফলে বাজনা শেখাটায় ফাঁক পড়ে যায়। সেই জন্যই নিজেকে বেশি ধাক্কা খাওয়াতে চাইলাম না। ফেসবুকে কিছু লিখলাম, কী পিটিশন শেয়ার করলাম, সেটাকে কোনও ধাক্কা খাওয়ার লক্ষণ বলে আমি মনে করি না। এটা অবশ্য আমার ব্যক্তিগত মতামত।

 

❏ ইন্দ্রনীল নাগের ‘‌সবুজ চশমা’‌‌–তে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?‌

রূপম— ইন্দ্রনীল একজন তরুণ পরিচালক। অন্যরকম একটা কাজ করছেন। কাজটার মাধ্যমে কতদূর পৌঁছতে পারবেন, সেটা ভবিষ্যৎ বলবে। ইন্দ্রনীল আমাকে অনুরোধ করেছিলেন ‘‌সবুজ চশমা’‌–র সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। প্রথাভাঙা কিছু কাজ করা হয়েছে। পুরুলিয়ার ছৌ শিল্পীদের নিয়ে আমরা রেকর্ড করেছি। সঙ্গে বাজিয়েছেন মহীনের ঘোড়াগুলির প্রদীপ চ্যাটার্জি (‌বুলাদা)‌ এবং ‘‌ফকিরা’‌–র গিটারিস্ট চয়ন চক্রবর্তী। এই শর্ট ফিল্মকে আমাদের মিউজিক কতটা সাহায্য করবে, দেখা যাক। অনেকদিন বাদে আমার একার নির্দেশনায় একটা কাজ হচ্ছে। এর আগে আমি সম্পূর্ণ একার নির্দেশনার কাজ করেছিলাম ‘‌মহানগর @কলকাতা’‌–তে।

 

❏‌ এই মুহূর্তে আর কোনও নির্দেশনার কাজ চলছে?

রূপম— অয়ন চক্রবর্তীর একটি ফিল্মে সঙ্গীত নির্দেশনার ‌কথা চলছে। সেটার একটি গান ইতিমধ্যেই দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। গানটা হল ‘‌এভাবেই তুমি বড় হয়ো।’‌

 

❏‌ তোমাকে একটা সময় বেশ কয়েকটা সাক্ষাৎকারে ক্যাকটাসকে নিয়ে প্রশ্ন করা হতো। এই গোটা সাক্ষাৎকারে ক্যাকটাসকে নিয়ে একটিও প্রশ্ন করিনি। পরবর্তী সাক্ষাৎকারগুলোতে কি ক্যাকটাসকে নিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে?‌

রূপম—আমার কোনও সাক্ষাৎকারে ক্যাকটাসকে নিয়ে এখন আর প্রশ্ন করা হয় না। বরং ওদের সাক্ষাৎকারে আমাকে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। যে কোনও বিষয় নিয়েই আমাকে প্রশ্ন করা যেতে পারে। আমার কাছে সব প্রশ্নেরই উত্তর আছে।‌

ছবি কৃতজ্ঞতা— কুণাল বোস ও ফেসবুক।

জনপ্রিয়

Back To Top