আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌রাজনৈতিক অস্তিত্ব ধরে রাখতে বন্‌ধের রাস্তাকেই বেছে নিয়েছে সিপিএম। যা নিয়ে দলের ভেতরে বাইরে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী দিতে না পারার জন্য সংগঠনের দুর্বলতা তাঁরা প্রকাশ্যে আনতে চান না। তাই শাসকদলের ওপর দোষ চাপিয়ে বন্‌ধের রাস্তাকে বেছে নিয়েছেন সিপিএম নেতারা। সংগঠনের দুর্বলতা আছে তাই ৬ ঘন্টার বন্‌ধ ডেকে অস্তিত্ব বাঁচানোর তাগিদ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ সিপিএমের বহিষ্কৃত সাংসদ ঋতব্রত ব্যানার্জি টুইট করে বলেছেন, ‘‌এ বন্‌ধ আমার নয়। এ বন্‌ধ তোমার নয়। এই বন্‌ধ ব্যর্থ করো।’‌ এই টুইট নিয়ে সিপিএম নেতারা মুখ খুলতে চাইছেন না। ফলে বোঝা যাচ্ছে রাজ্যসভার এই সাংসদের টুইট সিপিএমের বিড়ম্বনাই বাড়িয়েছে। 
এই বন্‌ধ নিয়ে বিজেপির সমর্থন পাবে বলে মনে করেছিলেন সিপিএম নেতারা। কিন্তু বিজেপি তাতে আমল দেয়নি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই বন্‌ধকে বিরোধীদের ড্রামা বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বন্‌ধ ৬ ঘন্টার ডাকা হল কেন?‌ আবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে ময়দান ফাঁকা রেখে এই বন্‌ধ কেন?‌ বন্‌ধের সংস্কৃতি থেকে কী সিপিএম নেতারা বেরিয়ে আসতে পারছেন না?‌ এই বিষয়ে সিপিএমের বহিষ্কৃত সাংসদ ঋতব্রত ব্যানার্জিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘‌আমি যখন সিপিএমে ছিলাম তখনও দলের ভেতরে বন্‌ধের সংস্কৃতি নিয়ে সরব হয়েছিলাম। এখন আমি স্বাধীন। তাই প্রকাশ্যে বন্‌ধ সংস্কৃতির প্রতিবাদ করছি। আমার বিরুদ্ধে কুৎসা, অপপ্রচার করে এই প্রতিবাদের পথ থেকে আমাকে সরানো যাবে না।’‌ 
রাজ্যে ২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জির সরকার আসার পর বন্‌ধ সংস্কৃতি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমনকী রাজ্যে যখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার চলছিল তখন তিনি নিজেই বলেছিলেন, ‘‌দুর্ভাগ্যবশত আমি এমন একটা দল করি যারা ধর্মঘট ডাকে।’‌ সুতরাং দলের এই বন্‌ধ সংস্কৃতিকে তখনও সমর্থন করতে পারেননি বর্ষীয়ান ওই কমিউনিস্ট নেতা। আর সেই পথেই এগোলেন ঋতব্রত। তাহলে মমতা, বুদ্ধদেবের লাইনকেই সিলমোহর দিলেন তরুণ তুর্কি নেতা?‌ নতুন প্রজন্মের ইচ্ছাকেই তিনিও মেনে চলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top