সাগরিকা দত্ত চৌধুরি: পিঠে মেরুদণ্ডের মধ্যে ঢুকে গেঁথেছিল লোহার ধারালো হাঁসুয়া। এক্স–রে রিপোর্টের ওপর নির্ভর করেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জটিল অস্ত্রোপচার সফল হল ডোমকল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। মঙ্গলবার দুপুরে অস্ত্রোপচার করে প্রায় ১২ সেন্টিমিটার ভিতরে গেঁথে–‌থাকা ধারালো হাঁসুয়া বের করেন শল্য চিকিৎসক সব্যসাচী চক্রবর্তী। পরিবারের দাবি, সকালে খেলতে গিয়ে বেকায়দায় পিঠের মেরুদণ্ডে হাঁসুয়া বিঁধে যায় আট বছরের জাকির হোসেনের শরীরে। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ ও যন্ত্রণা হচ্ছিল। বেলা একটা নাগাদ যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় ছিল ওই বালক। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। হাই ডিপেডেন্সি ইউনিটে চিকিৎসাধীন জাকির আপাতত স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সুপার ডাঃ প্রবীর মান্ডি। 
ডাঃ সব্যসাচী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘‌অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার। কারণ খুব সরু ধারালো হাঁসুয়া শিরদাঁড়ার মধ্যে নীচের দিকে অনেকটা ডিপ করে গেঁথেছিল। সমস্যা হল, ওই অংশের আশপাশে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ রক্তবাহী শিরা, মেরুদণ্ডের নার্ভ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে মূত্রথলি, মলদ্বার। যেগুলো ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল। আমরা দ্রুততার সঙ্গে অস্ত্রোপচার করার ফলে ও বেঁচে গেছে। আরও যদি দেরি হত কিংবা ঝাঁকুনি বা নড়াচড়া হলে মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। রোগী আপাতত বিপন্মুক্ত। তবে ছোট ছোট কিছু নার্ভের ক্ষতি হয়েছে। দু–চার দিন না গেলে বুঝতে পারব না, ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে।’‌ খুব সন্তপর্ণে ধীরে ধীরে হাঁসুয়াটি বের করা হয়। দুপুর ১.‌৪৫ মিনিটে ওটি টেবিলে তোলা হয়। ৪০ মিনিটের মধ্যে মূল অস্ত্রোপচার শেষ হয়। সহায়তায় ছিলেন অ্যানাস্থেটিস্ট ডাঃ কুন্তল পাল। চিকিৎসকরা জানান, কলকাতায় রেফার করতে গেলে হয়তো মাঝরাস্তাতেই রোগী মারা যেত। ইউএসজি, সিটি স্ক্যানের সুযোগ ছিল না। শুধুমাত্র এক্স–রে করে ঝুঁকি নিয়েই অস্ত্রোপচার করা হয়। কারণ এ ধরনের মেজর অস্ত্রোপচারের সময় নিউরোসার্জেন থেকে শুরু করে অন্যান্য দু–একজন বিশেষজ্ঞ থাকা জরুরি।

জনপ্রিয়

Back To Top