আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইসলাম ধর্মের পবিত্র রমজান মাস শুরু হল শনিবার থেকে। প্রতি বছর এই সময়টায় ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা দিনভর রোজা বা উপবাস রেখে সন্ধ্যায় নমাজ শেষে রাতে ইফতারের খাওয়াদাওয়া করে রোজা ভাঙেন। আর রমজান শেষে পবিত্র ইদের আগে প্রতি বছর এই সময়েই নতুন পোশাকে শুধু নিজেরেই নয়, নিজেদের ঘরবাড়িও সাজিয়ে তোলেন মুসলিমরা। কিন্তু করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে এবছর সারা বিশ্বেই সব কিছু বদলে গিয়েছে। ভারতেও মসজিদ, দরগা, ইমামবড়ার দরজা বন্ধ। রমজান শুরুর আগেই মুসলিমদের নিজেদের বাড়িতেই নমাজ পাঠের পরামর্শ দিয়েছিলেন ইমামরা। সেই মতো শনিবার ধর্মনিষ্ঠ মুসলিমরা সবাই নিজেদের বাড়িতেই নমাজ পড়েন।
দিল্লির জামা মসজিদই হোক বা হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদ, সবখানেই ফাঁকা চত্বর। জনশূন্য চারমিনারের সামনে দাঁড়িয়ে যেমন মহম্মদ মিসবাহুদ্দিন নামে এক মণিহারি পণ্যবিক্রেতা বললেন, ‘‌আমি আমার জীবনে এই প্রথম রমজানের সময় চারমিনার আর মক্কা মসজিদের সামনের সব দোকানপাট বন্ধ থাকতে দেখছি। মসজিদ আর চারমিনারে শুধু এখন পুরকর্মীরাই যাতায়াত করছেন।


জম্মু–কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট‌    গভর্নর চন্দ্র মুর্মু এলাকাবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সবাইকে লকডাউন বিধি, সামজিক সুরক্ষা বিধি পালনের আবেদন করেছেন। শ্রীনগরের মেয়র জুনেইদ আজিম মাট্টুও সবাইকে বাড়িতেই থাকতে আবেদন করে বলেছেন, ‘‌শ্রীনগরে লকডাউনের বিধিনিষেধ বলবৎ তাকবে। এব্যাপারে উপযুক্ত সময়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।’‌ 
ভুবনেশ্বরের জামা মসজিদের সামনে দীর্ঘদিন ধরেই ফল বিক্রি করেন রামচাঁদ সাহু, মুস্তাকরা। রামচাঁদের আক্ষেপ, ‘‌রমজানের প্রথম সকালে আমার মাত্র ১৫জন ক্রেতা এসেছেন।’‌ আর মুস্তাক বললেন, ‘‌প্রতি বছরই রমজানে প্রচুর মানুষ ফল কিনতে আসেন। বন্ধুরা, আত্মীয়রা মিলে উৎসব পালন করেন। কিন্তু লকডাউনের জন্য এবার মানুষ নিজেদের বাড়িতেই ছোট করে ইফতার করছেন, কম ক্রেতা আসছেন।’‌ লকডাউনে যে তাঁদের নিত্য ব্যবসায় প্রচুর লোকসান হচ্ছে সেকথা একবাক্যে বলছেন সব বিক্রেতারাই।‌     
 

জনপ্রিয়

Back To Top