আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বুধবার ভারতের মাটিতে নামল পাঁচটি রাফাল যুদ্ধবিমান। ফ্রান্সের বন্দর শহর বোর্দো থেকে ৭,০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এসেছে। নেমেছে হরিয়ানার আম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে। তার পরই জল কামান দাগিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে বায়ুসেনার এই নতুন সদস্যদের। উপস্থিত ছিলেন বায়ুসেনা প্রধান আরকেএস ভাদৌরিয়া।
ফ্রান্স থেকে এই রাফালগুলোর উড়িয়ে এনেছেন বায়ুসেনার অভিজ্ঞ পাইলটরা। দক্ষতার জন্য তাঁদের দারুণ প্রশংসা করেছেন ভাদৌরিয়া। কারা উড়িয়ে আনলেন এই রাফালগুলোকে?‌ নামের তালিকা জানিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনাই। ১৭ স্কোয়াড্রনের কমান্ডিং অফিসার গ্রুপ ক্যাপ্টেন হরকিরত সিং, উইং কমান্ডার এমেস সিং, গ্রুপ ক্যাপ্টেন আর কাটারিয়া, উইং কমান্ডার অভিষেক ত্রিপাঠি, উইং কমান্ডার সিধু, উইং কমান্ডার অরুণ। 
প্রথমবার রাফালের চালকের আসনে বসার আগে তাঁদের ৩৫ থেকে ৪০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তাতেই দক্ষতার সঙ্গে ৭,০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন এই বায়ুসেনারা। মাঝে থেমেছেন মাত্র একবার। আরব আমিরশাহিতে। আম্বালায় রাফাল নামতেই আনন্দে মেতে ওঠে উত্তরপ্রদেশের বাল্লিয়া জেলার বাকওয়া গ্রাম। কারণ উইং কমান্ডার এমএস সিং ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। তিনিই চালিয়ে এনেছেন একটি রাফাল।
সিংয়ের বাবা মদন সিং ছিলেন সেনাবাহিনীতে। জানালেন, ‘‌রাফালে নামতেই গ্রামে মিষ্টি বিলি করেছি। কারণ আমার ছেলে ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সঙ্গে জুড়ে গেল। গ্রামে সবাই বাজি পুড়িয়েছে। প্রদীপ জ্বালিয়েছে।’‌ মণীশের মা উর্মিলা সিং জানালেন, ‘‌গত তিন দিন ধরে এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সংবাদমাধ্যমে ওঁদের প্রতিটা পদক্ষেপের কথা শুনছিলাম। সারা দেশ এখন উদযাপন করছে। আমরাও করছি।’‌ 
এই পাইলটরা সকলেই সোমবার ফ্রান্স থেকে রওনা হওয়ার আগে শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তার পর দু’‌দিনের প্রতীক্ষা। বুধবার দুপুরে আম্বালায় নামে রাফাল পাঁচটি। তার পর শুধুই উদযাপন। মণীশের বোন অঞ্জলি জানালেন, দাদার থেকে রাখীর উপহার ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছেন তিনি। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন গ্রামের স্কুলে মণীশ। তার পর কার্নালের সৈনিক স্কুলে ভর্তি হন। ২০০২ সালে বায়ুসেনায় যোগ দেন মণীশ সিং।       

জনপ্রিয়

Back To Top