দীপেন গুপ্ত,পুরুলিয়া: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক পরম নিদর্শন পুুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার চরণ পাহাড়ি কালীমন্দির। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এই মন্দিরে পুজো হয়ে আসছে। এক মুসলিম ওসির প্রতিষ্ঠিত এই পুজো ঘিরে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। হিন্দু–মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের চঁাদা আদায় থেকে পুজোর আয়োজন, সব কিছু ঘিরে থাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মিলন ক্ষেত্র।
কথিত আছে, এই মন্দিরে মানত করলে ফল মেলে। বর্তমানে এই পুজোর দায়িত্বে থাকা সকলে বললেন, ‘‌আমাদের পুজোয় সেই পুরনো চিরাচরিত প্রথা প্রচলিত রয়েছে। পুজো ঘিরে নরনারায়ণ সেবা থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। স্থানীয় ও প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, তৎকালীন পুঞ্চা থানার ওসি ছিলেন জিটি লতিফ। তিনি নাকি রাতে মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। পরদিন সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে পাহাড়ের চূড়োয় কালো পাথরের ওপর দেখতে পান মায়ের পায়ের চিহ্ন। তার পরেই পুজোর আয়োজনের জন্য ডেকে পাঠানো হয় আশপাশের ২০টি গ্রামের মানুষকে।
সকলের উদ্যোগে পাহাড়ের চূড়ায় মিলিটারি ক্যাম্পে শুরু হয় চরণ পাহাড়ি কালীপুজো। প্রথমে ছোট মাটির কুঠির বানিয়ে পুজো শুরু হলেও পরে বাংলার ১৩৫৭ সালে মুসলিম ওসির নেতৃত্বে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতায় পাহাড়ের চূড়োয় মন্দির তৈরি হয়। পরে ১৪০৩ সালে মন্দিরটির সংস্কার করা হয়। তৎকালীন ওসি সমরকুমার ব্যানার্জি মন্দিরটির সংস্কার করেন। চরণ পাহাড়ি কালী মন্দির এখন হিন্দু ও মুসলমানের মিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কালীপুজোর দিন ধুমধাম করে পুজো হয় মন্দিরে। বহু মানুষের উপস্থিতিতে কালীপুজোর দিন এই মন্দির হয়ে ওঠে প্রকৃত তীর্থক্ষেত্র।

 

 চরণ পাহাড়ি কালীমন্দির। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top