আজকালের প্রতিবেদন: ঘুষখোরদের বড় চক্র ধরল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা। ৩টি আলমারি খুলে ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা উদ্ধার হল। গ্রেপ্তার করা হল বর্ধমানের মোটর ভেহিকলস ইনস্পেক্টর বিশ্বজিৎ সরকার ও তাঁর দুই সাকরেদ ওয়েব্রিজ অপারেটর শিশির রায় এবং পার্কিং ম্যানেজার কমলা প্রসাদকে। এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না তা দেখছেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিক। ৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ঘুষ কতদিন ধরে নেওয়া হয়েছিল তা জানার কাজ শুরু হয়েছে। বছর দুয়েক আগে হাওড়ার ঘুসুড়ির বাসিন্দা পুরসভার প্ল্যানিং বিভাগের কর্মীকে ২৩ কোটি টাকা ঘরে রাখার জন্য ধরেছিল দুর্নীতি দমন শাখা। বর্ধমানের এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত তা দেখা হচ্ছে। কিছুদিন আগে লরির মালিক আকবর হোসেন যিনি রামপুরহাটের বাসিন্দা একটি ফোন পান। তাঁকে বলা হয়, রামপুরহাট থেকে হুগলির ডানকুনি পর্যন্ত স্টোনচিপ বোঝাই তাঁর যে লরি চলাচল করে, ১ লাখ টাকা না দিলে লরি চালানো বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিষয়টি জানার পরেই আকবর হোসেন দুর্নীতি দমন শাখায় বিষয়টি জানান। এরপরই ফাঁদ পাতেন গোয়েন্দারা। বলা হয়, ১ লাখ টাকার নোটের বান্ডিলগুলিতে পাউডার মাখিয়ে রাখতে। টাকা হাতে নিয়ে হাত ধুলেই হাতে গোলাপি রং লেগে যাবে। শিশির রায় এবং কমলা প্রসাদকে বলা হয় টাকা নিয়ে আমরা আসছি। এরপর কমলা প্রসাদের কাছে গিয়ে আকবর হোসেন বলেন, ৯০ হাজার টাকা আছে, এতেই কাজ করে দিন। টাকা হাতে নিতেই গোয়েন্দারা দুজনকেই ধরে ফেলে। শিশির ও কমলা প্রসাদকে ম্যারাথন জেরা শুরু হয়। তখন বিশ্বজিৎ সরকারের নাম বেরিয়ে আসে। এরপর বিশ্বজিতের সন্ধানে তদন্তকারী দলটি যায়। ৩টি আলমারি খুলে ওই পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়। সব টাকাই নতুন নোটে। এর পেছনে বড় চক্র রয়েছে বলে মনে করছে দুর্নীতি দমন শাখা। ঘুষের টাকা বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হত বলেও সন্দেহ। জাতীয় সড়ক ২ থেকে যে সমস্ত লরি, বাস যেত তাদের কাছ থেকেই এই টাকা তোলা হয়েছিল, নাকি আরও অন্যান্য জায়গা থেকে টাকা আসত, তা দেখা হচ্ছে।

ধৃতদের কলকাতায় এনে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে ৫ দিন পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। ‌‌
অভিযোগ দীর্ঘদিনের‌
বৃহস্পতিবার সন্ধের পর ২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন শক্তিগড়ে পরিবহণ দপ্তরের চেক পোস্টে অতর্কিতে হানা দিয়ে বর্ধমানের মোটর ভেহিকলস ইনস্পেক্টর বিশ্বজিৎ সরকারকে ধরা হয়েছে। বিশ্বজিৎবাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের বাড়িতে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে কয়েক কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, তাঁকে গ্রেপ্তারের পর সোজা দুর্গাপুরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা এখনও পর্যন্ত কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজিৎ সরকারের বিরুদ্ধে বালি ও পাথর–সহ পণ্যবোঝাই গাড়ি থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল। খোদ রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখায় এই অভিযোগ জমা পড়ার পরই এই অভিযান চালানো হয়। এদিন জেলা পরিবহণ আধিকারিক আরবার আলম বলেন, বিশ্বজিৎবাবুকে ধরার কথা আগে কিছুই জানতাম না। এখনও সরকারিভাবে আমাকে জানানো হয়নি। তাঁর দুর্গাপুর ও মুর্শিদাবাদে বাড়ি আছে বলে জানতে পেরেছি।
দুর্গাপুরের বাড়ি বন্ধ‌
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির ছবি তুলতে দেখে দরজা বন্ধ করে দেন এক মহিলা। তার পর আর সেই দরজা খোলেনি। ২০১০ সাল থেকে ২০১২ পর্যন্ত বিশ্বজিৎ সরকার দুর্গাপুর মোটর ভেহিকলস বিভাগে ইনস্পেক্টর পদে ছিলেন। অভিযোগ, তখন থেকেই তিনি উপঢৌকন ছাড়া গাড়ির লাইসেন্স করে দিতেন না। বেনামে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া খাটাতেন। সেই সময় থেকেই সিটি সেন্টার এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। পাড়া–‌প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বাইরের লোকের সঙ্গে তাঁরা খুব একটা মিশতেন না। 

 

 


তথ্য সহায়তা:‌ বিজয়প্রকাশ দাস ও আবির রায়

জনপ্রিয়

Back To Top