আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্লাস্টিক এখন সারা বিশ্বের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। স্টেশন এবং রেলট্র‌্যাকগুলিকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে রেল একগুচ্ছ পদক্ষেপ করছে। আর সেই ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল দিয়েই বাগান তৈরি করে চমকে দিলেন মেদিনীপুরের এক ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার।
মেদিনীপুর ডিভিশনের পিরাকাটা রেঞ্জের অফিসার পাপান মহন্ত গত চার বছর ধরে ডিউটি শেষে ১১০০টি প্লাস্টিকের বোতল এবং টায়ার দিয়ে রেঞ্জ অফিসের সামনেই নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন ছোট অথচ সুন্দর একটি বাগান।

পাপান বললেন, ‘‌আমি যখন এখানে কাজে যোগ দিয়েছিলাম, তখন চতুর্দিকে প্রচুর জঞ্জাল ছিল। আমি এই জায়গাটাকে সাজাতে চেয়েছিলাম। আপনার কাজের পর যখন লোকেরা তা দেখে আপনার প্রশংসা করবে, তখন সেটা ভালো লাগবে। আমি চার বছর ধরে এখানে আছি। শীতে পিটুনিয়া লাগাই। এখন মরশুমি ফুল রয়েছে বাগানে।’ 
পাপানের এই অভিনব পরিকল্পনায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও এধরনের বাগান তৈরিতে মন দিয়েছেন। এলাকার বেশ কয়েকটি স্কুল এবং স্থানীয় সিআরপিএফ শিবিরগুলিতে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্লাস্টিক বোতলের বাগান।

স্থানীয়‌ স্কুলশিক্ষক সুবিনয় ঘোষ বললেন, ‘‌এই বাগান থেকে আমাদের শেখা উচিত পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা যায়। আমার মনে হয় এই বার্তা যদি সোশ্যাল মিডিয়া আর স্কুলগুলির মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছয় তাহলে সেটা একটা বড় পদক্ষেপ হবে। আশা করছি লাগোয়া সব নার্সারি আর বন দপ্তরগুলি এই কাজকে উৎসাহ দিয়ে এই পথেই পা বাড়াবে।’‌ এখন মেদিনীপুর ঘুরতে যাওয়া বহু পর্যটকই পাপানের এই অভিনব বাগান দেখতে পিরাকাটা রেঞ্জ অফিসে ঢুঁ মারছেন। আর সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার, সবুজ সংরক্ষণে অনুপ্রাণিত করতে পেরে খুশি পাপানও।


কর্নাটকের শিবমোগ্গার পরিবেশবিদ বি ভেঙ্কটগিরি আবার নিজের বাড়ির উঠোনেই তৈরি করে ফেলেছেন প্রায় অবলুপ্ত ৫০০টি ওষধি গাছের বাগান। ভেঙ্কটগিরি বললেন, ‘‌আমি পরবর্তী প্রজন্মকে এই জ্ঞান দিতেই এটা করে যাচ্ছি। পুরাণ এবং বেদে উল্লিখিত নির্দেশিকা মেনেই ওষধি গাছগুলি পরিচর্যা করছি।’‌ সারা রাজ্য ঘুরে প্রায় লুপ্ত হতে চলা ওই ৫০০টি ওষধি গাছের চারা ছাড়াও সরকার ঘোষিত ১৫০০টি বিলুপ্ত বীজও সংগ্রহ করেছেন ভেঙ্কটগিরি।    
ছবি:‌ এএনআই      ‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top