আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‌ব্রিটিশ আমলে হাতে বন্দুক থাকত। ব্রিটিশদের প্রশাসনিক বৈঠকে বোম মারাও ছক কষেছিলেন তিনি। যেকারণে বহুবার জেলেও গিয়েছেন। আত্মগোপন করে পালিয়ে পালিয়ে বেরিয়েছেন। আর স্বাধীনতার পর সেই হাত দিয়েই নতুন ভারত গড়ার কাজে নেমে গিয়েছিলেন তিনি। টিভি, মিডিয়া, রাজনীতি সকলের চক্ষুর অগোচরে গিয়ে নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছেন ওই ৯৯ বছর বয়সেও। সুধাংশু বিশ্বাস। যিনি এক সময় অনুশীলন সমিতির সদস্য ছিলেন। 
স্বাধীনতার পরও ঘোচেনি সাধারণ মানুষের দারিদ্র, দুর্দশা। ছোট থেকেই রামকৃষ্ণ এবং স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে বিশ্বাসী সুধাংশু বিশ্বাস তাই সমাজসেবাকেই মূলমন্ত্র বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু সমাজসেবার কাজে প্রয়োজন অনেক টাকা। তাই কলকাতায় ফিরে এসে স্থাপন করলেন একটি প্লাস্টিক কারখানা। কারখানা থেকে যা রোজগার হত, তা দিয়ে একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন একের পর এক আশ্রম, স্কুল। কিন্তু ব্যবসা এবং সমাজসেবার কাজ–দুটো একসঙ্গে করে উঠতে পারছিলেন না। তাই ১৯৭৩ সালে ব্যবসাটাই দিলেন বন্ধ করে। পশ্চিমবাংলার উত্তর–চব্বিশ পরগণায় তৈরি করলেন শ্রীরামকৃষ্ণ সেবাশ্রম। গত চার দশক ধরে সারা বাংলায় মোট ১৮টি স্কুল স্থাপন করেছেন তিনি। স্কুল এবং আশ্রমগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার পাশাপাশি পেশাদারী প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসারও ব্যবস্থা আছে। আশ্রমগুলিতে থাকেন বহু অসহায় বৃদ্ধ–বৃদ্ধা। এই কাজের জন্য গত বছর রাষ্ট্রপতির থেকে ‘‌পদ্মশ্রী’ উপাধিও পেয়েছিলেন তিনি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘‌আমি সবসময় মনে করি যে শিক্ষাই মূল চাবিকাঠি। শিক্ষার মাধ্যমেই একটি জাতির উন্নতি সম্ভব। তাই যেসব শিশুরা টাকা–পয়সার অভাবে পড়াশুনা চালাতে পারেনা। তাদের শিক্ষিত করে তোলাই আমার আসল কাজ।’‌
পদ্মশ্রীর জন্য যখন তাঁর নাম ঘোষণা হয়েছিল, তিনি সংবাদমাধ্যমে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘‌‌‌উপাধি নিতে কি আমায় দিল্লি যেতেই হবে?‌’‌ সেইসময় বেশ কিছু সাংবাদিক জানিয়েছিলেন, ‘‌যখন তিনি স্কুল ও আশ্রমগুলিতে কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন তাঁর সঙ্গে কোনও মতেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top