আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাংলার বাইরে লক্ষ্মী পূজিত হন গৌণ চান্দ্র কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে অর্থাৎ দীপান্বিতা অমাবস্যার রাত্রে। কিন্তু এ বঙ্গে বেশিরভাগ ঘরে তিনি পূজিত হন কোজগরী পূর্ণিমার রাতে। কথিত, বাংলায় এই পুজো ঘরে ঘরে শুরু হওয়ার পিছনে রয়েছেন বণিক জগৎ শেঠ। 
জগৎ শেঠের অল্প বয়সে নামডাক হল। দিল্লীশ্বরের কানেও তা পৌঁছে যায়। তিনি তাঁকে ডেকে পাঠান। এরপর জগৎ শেঠ দিল্লি গেলে বাদশাহ তাঁর কথাবার্তায় খুশি হয়ে দিল্লিতে থাকতে বলেন। জগৎ শেঠও দিল্লিতে থেকে যান। দিন দিন রাজা তাঁর ওপর প্রীত হতে থাকেন। তাঁকে ইচ্ছেমতো কিছু চাইতে বলেন।
তখন জগৎ শেঠ বাড়ি ফিরে নিজের মাকে সব বলেন। বুদ্ধিমতী জননী পুত্রের মঙ্গলের জন্য অদ্ভুত এক দাবি রাখেন। বলেন, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দিল্লিতে কোনও গৃহস্থ বাড়িতে যেন আলো না জ্বলে। রাজাকে সেই নির্দেশ দিতে হবে। রাজার নির্দেশে ওই রাতে কেউ আলো জ্বালাল না। জগৎ শেঠের মা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বেলে ঘর আলো করে দরজা খুলে বসে থাকলেন। যথাসময়ে দেবী এলেন এবং বললেন, ‘‌আমি খুব পরিশ্রান্ত। আমাকে একটু আশ্রয় দেবে?’‌
জগৎ শেঠের মা দেবীর ছলনা বুঝতে পারলেন। তিনি দেবীকে ঘরে আশ্রয় দিলেন এবং বললেন, তিনি নদীতে স্নান করতে যাচ্ছেন। ফিরে না আসা পর্যন্ত দেবী যেন সেখানেই থাকেন। দেবী তাতে রাজি হলেন। এবার জগৎ শেঠের মা নদীতে স্নান করতে গিয়ে প্রাণত্যাগ করলেন। ফলে সেদিন থেকে দেবী জগৎ শেঠের ঘরে থেকে গেলেন।
সেই থেকে বাংলার ঘরে ঘরে শুরু লক্ষ্মী বন্দনা। আজও ধন সম্পদের দেবী লক্ষ্মীকে পাওয়ার জন্য গৃহস্থ বাড়িতে সারারাত ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো হয়। দোর খুলে বসে থাকেন গৃহিনীরা। 
 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top