আজকাল ওয়েবডেস্ক: উদ্যোক্তা‌ ক্লাবের নাম নব যুবক সঙ্ঘ। কিন্তু সেই নাম কেউ মনে রাখেনি। কারণ এ পুজো আজও ভিড় টানে এক জনের নামেই। ফাটাকেষ্ট। যাঁর আসল নাম কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত। 
মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পরেও কলকাতার সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটের এই পুজো ‘‌ফাটাকেষ্টর পুজো’‌ নামেই পরিচিত। বিখ্যাত বলা ভাল। এই পুজোতে এক কালে এসেছিলেন খোদ অমিতাভ বচ্চন। কলকাতায় তখন ‘‌দো আনজানে’‌–র শুটিং করছেন। গ্র‌্যান্ড হোটেলে রয়েছে। একদিন তাঁর হোটেলে গিয়ে হাজির ফটাকেষ্ট। সেখানেই কথা আদায় করে নেন। কথা রাখেন বিগ বি। রাতে এসে দেখে যান ফাটাকেষ্টর কালী। পরে হীরের নাকছাবি পাঠিয়েছিলেন। সেই নাকছাবি যদিও চুরি হয়ে যায়।
শুধু অমিতাভ নন, রাজেশ খান্না, বিনোদ খান্না থেকে উত্তম, সুচিত্রা— কে আসেননি ফাটাকেষ্টর পুজোয়?‌ ঘন নীল রঙের প্রতিমা। কোকড়া চুল। গা ভর্তি গয়না জ্বলজ্বল করছে। ফাটাকেষ্টর কালীর এই রূপ টেনেছে সকলকে। তার সঙ্গেই জুড়ে রয়েছে অলৌকিক কাহিনী। এখানে এসে বহুবার ভরে পড়েছেন বহু মানুষ। হিন্দিভাষী বিহারী বলে উঠেছেন বাংলা। কখনও আবার ভক্তর গলা দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন মা। লোকে বলেছে, এসবই ফাটাকেষ্ট টাকা দিয়ে করিয়েছেন। তাতে কী?‌ ভিড় কমেনি। মানুষের বিশ্বাসও।
নকশাল দমনে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন ফাটাকেষ্ট। তাই তাঁর পুজোর ওপর রাগ পড়েছিল নকশালদের। বহুবার বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। হার মানেননি এই অদম্য নেতা। একবার কুমোরটুলি থেকে ঠাকুর আনতে বাধা দেয় নকশালরা। রাস্তা জুড়ে চলেছিল প্রতিরোধ। নাছোড় ফাটাকেষ্ট অর্ধনির্মিত মূর্তি নিয়ে আসেন মণ্ডপে। বাকিটা সেখানে বসেই শেষ করেন শিল্পী। 
প্রতিমা, পুজোর মতোই বিখ্যাত ছিল ফাটাকেষ্টর নিরঞ্জন। সেখানে ৬০–৬৫টা তোরণ দেখা গিয়েছে। মানে ঠেলাগাড়িবাহী আলোর তোরণ। সঙ্গে ব্যান্ড পার্টির জৌলুস। পাড়ায় পাড়ায় প্রদক্ষিণ করে মানিকতলা বাজারে পাক খেয়ে বিডন স্ট্রিট ধরে নিমতলা ঘাট। এখন যদিও সেই জৌলুস নেই। তবে আজও কলকাতার বারোয়ারি কালীপুজো বলতে মানুষ ফাটাকেষ্টর পুজোই বোঝেন।  

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top