আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কৈলাস থেকে আসছেন মা। সঙ্গে ছেলে–মেয়ে। বাহনবাহিনী। তবে দেবী কিন্তু নিজের বাহনে চেপে আসেন না। মর্ত্যে আসার যান–বাহন তাঁর ভিন্ন। আর এই বাহনই অনেক কথা বলে। কোন বছর দুর্গা কিসে চেপে আসছেন ধরাধামে, তার ওপর নাকি নির্ভর করে বছরটা কেমন যাবে। 
সাধারণত যাতে চেপে দেবী আসেন, তাতে চেপে ফেরেন না। যদি কোনও বছর সে রকম হয়, তার ফল নাকি ভয়ঙ্কর। কীভাবে জানা যায়, দেবী কিসে চেপে আসছেন, আর কোন বাহনে ফিরছেন?‌ পুজো শুরু হয় সপ্তমী। তাই সপ্তমী সপ্তাহের যেই বারে পড়ে, তার ওপর নির্ভর করে আগমনের বাহন। পুজো শেষ হয় দশমীতে। দশমী যেই বারে পড়ে, তা বলে দেয় দেবী কিসে ফিরবেন কৈলাসে। শাস্ত্রে বলা আছে, 
‘‌রবি চন্দ্রে গজারূঢ়া, ঘোটকে শনি ভৌময়োঃ,
গুরৌ শুক্রে চ দোলায়াং, নৌকায়াং বুধবাসরে।’‌
অর্থাৎ সপ্তমী রবি বা সোমবার হলে দেবীর বাহন গজ। সপ্তমী শনি বা মঙ্গলবার হলে দেবীর বাহন ঘোটক। সপ্তমী বৃহস্পতি বা শুক্রবার হলে দেবীর বাহন দোলা বা পালকি। সপ্তমী বুধবার হলে দেবীর বাহন নৌকা। সেই একই ভাবে, বিজয়া দশমী যে বারে পড়বে সেই অনুযায়ী স্থির হবে দেবীর প্রস্থানের বাহন। 
এবার ২৩ অক্টোবর, সপ্তমী শুক্রবার। তাই দেবী আসছেন দোলায়। আর দশমী সোমবার। দেবী ফিরবেন গজে। বলা হয়, দোলায় এলে মহামারী, ভূমিকম্প, খরা, যুদ্ধ ও মৃত্যু হয় ধরায়। দোলা বা পালকি চিহ্নিত করে ভয়ঙ্কর মহামারী। যাতে বিপুল প্রাণহানি হয়। এই করোনার আবহে দুর্গার দোলায় আগমন অবশ্যই চিন্তা বাড়াবে। 
কথিত, দেবী নৌকায় এলে ধরা শস্যশ্যামল হয়ে ওঠে। দেবী ঘোড়ায় এলে দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সামরিক, রাজনৈতিক অস্থিরতা সূচিত করে। এক কথায় ‘‌ছত্রভঙ্গম’‌। তবে দেবী গজে আগমন করলে মর্ত্যলোকে সুখ–শান্তি–সমৃদ্ধি আসে। পূর্ণ হয় ভক্তদের মনোবাঞ্ছা। পরিশ্রমের সুফল পায় মর্ত্যবাসী। যতটা প্রয়োজন ততটাই বর্ষণ হয়।  

জনপ্রিয়

Back To Top