আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দার্জিলিং। থিকথিকে ভিড়ি। শহুরে কোলাহল। জনঅরণ্য। তার থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূর। কার্শিয়াং শহর। লেপচা ভাষায় ‘‌খারসাং’‌। সাদা অর্কিডের জায়গা। এখানে বসেই বেশ কিছু কবিতা, গান লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নিজের অনেক শিল্পকীর্তির রসদ পেয়েছিলেন অবন ঠাকুর। সেই কার্শিয়াংয়েরই কিন্তু একটা হাড়হিম করা দিক রয়েছে। চাইলে মানবেন। না চাইলেও এড়াতে পারবেন না।
একথা বলেন কার্শিয়াংয়েরই বাসিন্দারা। তাঁরা পারেননি এড়িয়ে যেতে। তাই মেনে নিয়েছেন। সেই বুঝে সাবধানে পা ফেলে চলেন। দুপুরের পর ভুলেও আর পা বাড়ান না ওই জঙ্গলের দিকে। 
বনবিভাগের অফিস আর পাইন বন— এই দুইকে জুড়েছে ছোট্ট ডাও হিল রোড। ওই রাস্তাতেই নাকি ঘুরে বেড়ায় ছেলেটা। ওর মাথা নেই। রাস্তা ধরে হেঁটে আসে। তার পর মিলিয়ে যায় বনে। কোথা থেকে আসে?‌ কোথায় যায়?‌ কেউ জানে না। তবে যাঁরা একবারে দেখেন, ইহজীবনে ভুলতে পারেন না। রোজ রাতে চোখ বুঝলেই দেখতে পান। সে এক বিভীষিকা।
আরও এক জন ঘুরে বেড়ায় এ চত্বরে। সাদা কাপড় পরা এক মহিলা। অদ্ভুতভাবে ঘুরে বেড়ায় সে। কী চায়, কাকে চায়?‌ কেউ বোঝে না। দেখা দেয়। মিলিয়ে যায়। আরও এক জন বলাটা ভুল। আসলে এ জঙ্গলে ঘুরলেই কারা যেন পিছু নেয়। অথচ পিছন ফিরলেই মিলিয়ে যায়। স্পষ্ট শোনা যায় পাতার ওপর পায়ের মচমচানি। তবু ধরা দেয় না। 
আর এক জোড়া লাল চোখ নাকি খুব কাছ থেকে নজর রাখে। সব দেখে চলে। খুটিয়ে মেপে চলে সব। জঙ্গলে ঢুকলেই তাই এক রাশ অস্বস্তি এসে চেপে বসে শরীরে। তাই কেউ একটা আর পা বাড়ান না ওদিকে। কোনও সাহসী পর্যটক যেতে চাইলেও বাধা দেন। তবু কেউ কেউ চলে যান। তাঁরা নাকি আর ফেরেন না। যদিও পুলিশের খাতায় এসব ঘটনার উল্লেখ নেই। তাই অনেকেই মানতে চান না।
এই জঙ্গলেরই কাছাকাছি রয়েছে শতাধিক বছরের পুরনো ভিক্টোরিয়া বয়েজ স্কুল। সেখানেও নাকি চলে আজব কারখানা। ছাত্ররা যখন ছুটিতে বাড়ি যায়, তখনও নাকি তাদের হাসির শব্দ শোনা যায়। ছুটোছুটির শব্দ ভেসে আসে। অনেক ছাত্র নাকি মাঝরাতে কিছু একটা দেখেওছে। তবে শিক্ষক, কর্তৃপক্ষ মানেননি। বলেছেন, গল্প শুনে মন গড়ে নেয় ছোট ছেলেরা। কি জানি!‌ তাই হবে হয়তো। 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top