আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ছোট্ট এক দ্বীপ। তার আনাচে কানাচে ঝুলছে ভয়ঙ্কর সব পুতুল। কারও মাথা ভাঙা। কারও একটা চোখ নেই। কারও চুল ছেঁড়া। কারও আবার হাত বা পা নেই। কে ঝুলিয়েছিল এসব পুতুল?‌ কেনই বা ঝুলিয়েছিল?‌ শুনলে হাড়হিম হয়ে যায়।
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ১৭ মাইল দক্ষিণে জোকিমিলকো জেলা। সেখানেই রয়েছে এই বিস্ময়কর ‘পুতুল দ্বীপ’। স্থানীয়দের ভাষায় দ্বীপটির নাম ইলসা ডে লাস মিউনিকাস বা পুতুলের দ্বীপ। 
প্রায় ১০০ বছর আগের কথা। তিন মেক্সিকান শিশু এই দ্বীপে পুতুল নিয়ে খেলা করছিল। খেলতে খেলতে হঠাৎ একটি শিশু উধাও হয়ে যায়। শুরু হয় খোঁজ। অনেক খোঁজার পর পাশের একটি খালে সেই শিশুটির মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেই থেকে সাধারণ মানুষ এই দ্বীপে আসতে ভয় পেত। ক্রমে এই দ্বীপ ঘিরে নানা গল্পগাঁথা শোনা যেতে থাকে। সবই ভৌতিক।
তবে এই দ্বীপে ঝুলন্ত পুতুলগুলো আকস্মিক আসেনি। ডন জুলিয়ান সানতানা নামে এক যাজক ১৯৫০ সাল নাগাদ এই দ্বীপে তপস্যা করতে আসেন। তাঁর কাছেই নাকি মৃত শিশুটির আত্মা আবদার করেছিল, ভয়ঙ্কর সব পুতুল এনে দ্বীপের চারপাশে ঝুলিয়ে দেওয়া হোক।
যেমন তেমন পুতুল নয়। বিভৎস সব পুতুল চাইত শিশুটির আত্মা। যেগুলো দেখলে মনে হবে তারা মানুষে নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছে। ওই আত্মার অনুরোধেই জুলিয়ান তার আশ্রমে চাষ করা সবজির বিনিময়ে লোকজনের থেকে নষ্ট পুতুল সংগ্রহ করতে থাকেন। নষ্ট পুতুল এনে দ্বীপের চারপাশে টানিয়ে দিলে নাকি শিশুটির আত্মা খুশি হত। এভাবেই এই দ্বীপটি গড়ে ওঠে পুতুলের দ্বীপ হিসেবে।
মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জন্য মেক্সিকোর সরকার ১৯৯০ সালে এই দ্বীপটিকে ‘ন্যাশনাল হেরিটেজ’‌ ঘোষণা করে। দ্বীপটিকে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে। কিন্তু পর্যটকরা আসতে সাহস করেননি। বড় জোর বছরে ২০ থেকে ৩০ জন আসতেন এখানে।
২০০১ সালের ২১ এপ্রিল আরও একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা হয়। ওই দিন ডন জুলিয়ান তাঁর ভাইয়ের ছেলেটিকে নিয়ে সেই খালটিতে মাছ ধরছিলেন, যেই খালটিতে শিশুটির মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। জুলিয়ান বলেন, জলের ভিতর থেকে কেউ একজন তাঁকে ডাকছে। এর কিছুদিন পরই ডন জুলিয়ানের মৃতদেহ সেই খাল থেকে উদ্ধার হয়। 
 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top