‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দল থেকে তাড়াতে এত সময় নেয়নি সিপিএমের পলিটব্যুরো। তবে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সময় লেগে গেল তাঁদের ৫ ঘন্টা। দশবারের সাংসদ সোমনাথ চ্যাটার্জিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এমন গড়িমসি ফের তাঁদের পিছনের সারিতে ঠেলে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ প্রয়াত হন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চ্যাটার্জি। এই খবর চাউর হতেই দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ছুটে এসে শেষ শ্রদ্ধা জানান এই প্রবীণ রাজনীতিক তথা আইনজীবীকে। দেখা যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উদ্যোগ নিয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন মন্ত্রিসভার অনেকে। কিন্তু তখনও গড়িমসি চলছে দলের অন্দরে। কিছু সিপিএম নেতারা বিধানসভা ও হাইকোর্ট চত্বরে এসে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যান। যার মধ্যে রবীন দেব, সুজন চক্রবর্তী, কান্তি গাঙ্গুলি, তন্ময় ভট্টাচার্যরা ছিলেন। কিন্তু পলিটব্যুরো শেষ শ্রদ্ধা জানালো প্রায় বেলা দু’‌টোর সময়। 
এদিকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এদিন এই পরিস্থিতি ঢাকতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌সংসদীয় রাজনীতিতে ইন্দ্রপতন ঘটল। দলের সদস্য না থাকলেও তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল। দলের ভিতরের–বাইরের বলে নয় গরীব মানুষের জন্য লড়াইয়ের লোক চলে গেলেন।’‌ তাই তো শেষবেলায় বিতর্ক থেকে বেরতে পারল না সিপিএম। যা শোনা গেল প্রয়াত স্পিকারের মেয়ে অনুশীলা চ্যাটার্জি বসুর গলায়। তিনি বলেন, ‘‌দল বাবার শরীরে লাল পতাকা দিতে চেয়েছিল, আমরা রাজি হইনি।’‌ অর্থাৎ শেষবেলায় সোমনাথ চ্যাটার্জির মৃত্যুকেও হাতিয়ার করতে চেয়েছিল সিপিএম। তাই এই পরিস্থিতিটা দাঁড়িয়েছে জন্মে দিলে না ভাত–কাপড় মরলে করবে দান সাগর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে নেমে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রকে বলতে হল, ‘‌তিনি দলের সদস্য থাকুক বা না থাকুক, তিনি দলের উর্দ্ধে ছিলেন।’‌ যা কমিউনিস্ট পার্টির মত দলে এমন বক্তব্য সত্যিই বিরল। 
 আর সব শেষে পলিটব্যুরো বিবৃতি দিয়ে জানালো, প্রাক্তন স্পিকার ও দশবারের লোকসভার সদস্য সোমনাথ চ্যাটার্জির প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (‌মার্কসবাদী)‌ পলিটব্যুরো। তিনি একজন প্রবীণ সাংসদ ছিলেন। যিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন দেশের সংবিধান রক্ষার্থে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর। পেশায় তিনি আইনজীবী ছিলেন। শ্রমিক শ্রেনীর মানুষদের সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনি কাজ করে গিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি সমবেদনা রইল। এই বিবৃতিতেও কোথাও স্বীকার করা হয়নি তিনি সিপিএমের সদস্য ছিলেন। মৃত্যুর পরও এমন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের প্রতি এই দ্বিচারিতা সত্যই বেমানান। এখনও তাঁরা মনে রেখেছেন, ২০০৮ সালে ইউপিএ সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করা এবং তাঁকে স্পিকার পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল দলের সঙ্গে সোমনাথবাবুর। তখন দল তাঁকে বহিষ্কার করে। যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। 
দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘‌তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছেন সবসময়। বর্তমান সংসদে এখনও প্রাসঙ্গিক তাঁর একাধিক রুলিং।’‌ এখন এই কথা বললেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল কি সোমনাথ চ্যাটার্জিকে?‌ উত্তর যাইহোক, সোমনাথ চ্যাটার্জি মানুষের হৃদয়ে থেকে যাবেন সবসময়। এমনই দাবি আমজনতার। 

 

 

ছবি অমিত ধর

জনপ্রিয়

Back To Top