অপ্রমেয় দত্তগুপ্ত:‌ পঞ্চায়েত নির্বাচনকে লিটমাস টেস্ট ধরে নিয়ে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ঝাঁপাতে চায় বিজেপি। তাই নির্বাচনগুলিতে দল ভাঙানোর খেলায় নামতে চাইছে বিজেপি। এই জন্য ইতিমধ্যেই অন্যান্য দলের বিক্ষুব্ধদের খুঁজে বের করার নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তর মুরলীধর সেন লেনে। নীচুতলার কর্মী থেকে ওপরতলার নেতা যে আসতে চাইবে তাকেই দলে নিয়ে নেওয়া হবে বলে ফরমান জারি হয়েছে বলে খবর। এমনকী যদি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে টানা যায় তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তো এমনিতে আসবে না। তাঁদের কাছে টানতে হবে। সুতরাং সেই কাজ ফেলে না রেখে এখনই ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
বিজেপি দপ্তর সূত্রে খবর, মুকুল রায়কে দলে নেওয়ার পর গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক অনেকটা পাওয়া যাবে। কারণ গ্রামের সমীকরণ তাঁর হাতের তৈরি। তাছাড়া মুকুল রায় যখন তৃণমূলে ছিলেন তখন অনেক রাজনৈতিক নেতা দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। এখন তিনি বিজেপিতে। তাই তৃণমূল, কংগ্রেস এবং সিপিএম থেকে বিজেপিতে যোগ দেবেন।
অন্যদিকে, পঞ্চায়েত স্তরে ফল ভাল করতে হলে গ্রামের তথা জেলার পরিচিত মুখ প্রয়োজন। যা বিজেপির এখন নেই বললেই চলে। এমনকী বুথে বুথে পরিচিত লোককে প্রার্থী করা বিজেপির কাছে রীতিমত চ্যালেঞ্জের বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাই তৃণমূলের সঙ্গে টক্কর দিতে হলে দল ভাঙাতেই হবে। সেটা মুকুলের নেতৃত্বে কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিছুদিন আগে গুজরাট, হিমাচলের বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার জন্য কলকাতা জুড়ে কাটআউট পড়তে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি দিয়ে সেখানে লেখা হয়েছে, গুজরাট, হিমাচলের পর এবার বাংলা। সুতরাং বাংলাকে যে তাঁরা লিটমাস টেস্ট হিসাবে দেখছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, ‘‌বহু দল থেকে আমাদের দলে লোক আসতে চায়। সেখানে তৃণমূল–কংগ্রেস–সিপিএম সব জায়গা থেকেই নেতারা আসতে চাইছেন। এটা দল ভাঙানোর কোনও বিষয় নয়। যাঁরা আসতে চাইবেন তাঁদের স্বাগত।’‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top