আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নির্দিষ্ট সময়ের থেকে বেশি ভারতে কাটানোর জন্য কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রবাসী ভারতীয় গবেষককে দেশে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে ইংল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একজোটে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন কয়েকশো ছাত্রছাত্রী, গবেষক, সমাজসেবীরা। আসিয়া ইসলাম নামে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই প্রবাসী ভারতীয় গবেষকের অনির্দিষ্টকাল ছুটিতে থাকা বা ‘‌ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেন’‌ বা আইএলআর–এর আবেদন গত সপ্তাহেই খারিজ করেছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। কারণ হিসেবে দপ্তর বলেছে, এধরনের আবেদনের জন্য ছুটির নির্দিষ্ট সময়ের থেকেও অনেক বেশি সময় ভারতে কাটিয়েছেন আসিয়া। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে গত ১২ বছর ধরে ইংল্যান্ডের ছাত্রী আসিয়া তাঁর আবেদনে লিখেছিলেন যে, নাগরিক ভারতের নতুন অর্থনীতি, শ্রম, লিঙ্গ এবং শ্রেণী বিভাজন নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনার জন্যই তিনি অতিরিক্ত সময় দিল্লিতে ছিলেন। কিন্তু কেমবইজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ নিউনহ্যাম কলেজের ৩১ বছরের গবেষক আসিয়ার যাবতীয় নথি, আবেদনপত্র খারিজ করে স্বরাষ্ট্র দপ্তর তাঁকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, ভারতের সমাজ এবং জীবনে ফিরে যাওয়াই তাঁর পক্ষে লাভজনক হবে কারণ তিনি খুবই অল্পকাল ব্রিটেনে কাটিয়েছেন। এমনকি ভারতে ফিরে গেলে তাঁর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনাও করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ওই চিঠিতে। এরপরই আসিয়া টুইটারে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে লেখেন, তাঁর গবেষণার জন্য তৃণমূলস্তরে, মানুষের কাছাকাছি গিয়ে কাজ করা প্রয়োজন ছিল বলেই তিনি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি ভারতে ছিলেন। আসিয়ার পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে ইংল্যান্ড। বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশো ছাত্রছাত্রী, গবেষক, অধ্যাপক, শিক্ষক এমনকি সমাজসেবীরা খোলা চিঠিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব তথা ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রীতি প্যাটেলকে আসিয়ার আবেদন খতিয়ে দেখতে আর্জি জানিয়েছেন। চিঠিতে আবেদনে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এধরনের পদক্ষেপের ফলে ইংল্যান্ড যোগ্য গবেষক, ছাত্রছাত্রীদের হারাবে।          

জনপ্রিয়

Back To Top