আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: ফের কমল সংক্রমণ। টানা পাঁচ দিন ৯০ হাজারের ওপরে থাকার পর দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৮৩,৮০৯ জন। এখনও অবধি দেশে সুস্থ হয়েছেন ৩৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩৯৯ জন। সুস্থতার হার বেড়ে হয়েছে ৭৮.‌২৮ শতাংশ। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বলেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াই এখনও অনেক লম্বা। সরকার করোনা মোকাবিলায় সব চেষ্টাই করছে। তিনি দাবি করেছেন, দেশে করোনায় মৃত্যুর হার এখন দাঁড়িয়েছে ১.৬৭ শতাংশ। সারা বিশ্বে করোনা মৃত্যুর হার ভারতেই সবচেয়ে কম। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট ১,০৫৪ জনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যুর ৬৯ শতাংশই হয়েছে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্র প্রদেশ এবং দিল্লিতে। ‌
এদিকে করোনা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান ঘেঁটে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, প্রকৃতপক্ষে এখন দেশে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লক্ষ মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন। কারণ, কোথাও কোথাও হচ্ছে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট, আর কোথাও কোথাও হচ্ছে পিসিআর টেস্ট। দেখা যাচ্ছে, দুই ধরণের টেস্টেই সংক্রমণের হার একই রকম হচ্ছে। কমবেশি ৭ শতাংশ। কিন্তু এটা পরীক্ষিত সত্য যে র‌্যাপিড টেস্ট অনেক সময়েই সংক্রমণ ধরতে পারে না। কাজেই প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা যা ধরা পড়ছে, আসলে তার থেকে অনেক বেশি হওয়ার কথা।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন রাজ্যসভায় বলেছেন, ‘‌সব সাংসদদের জানাচ্ছি, করোনার বিরুদ্ধে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। লড়াই অনেক লম্বা। করোনা সংক্রমণ রোধে এবং সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দিতে এগিয়ে আসতে হবে সকলকে।’‌ বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ জানান, প্রতি দশ লক্ষ জনসংখ্যায় ৩,৭০৪ জন আক্রান্ত ভারতে। বিশ্বে আক্রান্তের গড় ৩,৫৭৩ জন। অন্যদিকে, প্রতি দশ লক্ষ জনসংখ্যায় ভারতে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে বিশ্বের গড় ১১৮ জন। রাজেশ ভূষণের দাবি, ‘‌মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলিতে করোনা সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছনোর পর এখন কমছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে ওই দেশগুলিতে। আমরা সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েছি এবং দেশে মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক কমেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে কার্যকরী লকডাউনের ফলেই।’‌ 
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যসচিব জানান, দেশে অক্সিজেনের কোনও ঘাটতি নেই। দিনে ৬,৯০০ মেট্রিক টনের বেশি অক্সিজেন উৎপাদন হচ্ছে। আইসিএমআর-‌এর মহানির্দেশক বলরাম ভার্গব জানান, ভারতে ৩টি করোনা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। ক্যাডিলা এবং ভারত বায়োটেকের প্রথম পর্বের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। সিরাম ইনস্টিউটের ফেজ ২বি ৩ ট্রায়াল শেষ হয়েছে। এরপরে ১৪টি স্থানে ১৫ হাজার মানুষের ওপর ফেজ ৩–‌এর ট্রায়াল শুরু হবে। 
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, দেশে এখনও সক্রিয় কেস রয়েছে ৯,৯০,০৬১টি। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ২০.‌০৮ শতাংশ। দেশের ৯টি রাজ্যে ৭৩.‌২ শতাংশ সক্রিয় করোনা কেস রয়েছে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশে আছেন ৪৮.‌৮ শতাংশ রোগী, আর উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, ছত্তিশগড়, ওডিশা, কেরল এবং তেলেঙ্গানায় আছেন ‌‌২৪.‌৪ শতাংশ।‌‌ স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ জানান, দেশের ১৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের কম। ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সক্রিয় করোনা কেসের সংখ্যা ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে রয়েছে। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top