‌সংবাদ সংস্থা, মস্কো/দিল্লি: সাধারণের ব্যবহারের জন্য মস্কোর ওষুধের দোকানে চলে আসছে কোভিড প্রতিরোধের ভ্যাকসিন ‘‌স্পুটনিক ভি’‌। হয়তো আগামী সপ্তাহেই সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে রাশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলেও। প্রথম ব্যাচের টিকা তৈরি হয়ে গেছে, মঙ্গলবার জানাল রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তার আগে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো অবশ্য জানিয়েছিলেন, সাধারণের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ হলেও, আপাতত প্রথম ব্যাচের ওষুধ পাবেন কেবল চিকিৎসক ও শিক্ষকেরা। ‘‌স্পুটনিক ভি’‌ এখন তৃতীয় ও চূড়ান্ত দফার পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ব্রাজিল, ফিলিপিন্সের একাধিক চিকিৎসা কেন্দ্রে। ভারতেও রুশ টিকার এই চূড়ান্ত পরীক্ষার একটা অংশ হতে পারে বলে ভারতীয় জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সূত্রে জানা গেছে। যে দু’‌দফায় পরীক্ষা হয়েছে, তাতে এই রুশ টিকা শরীরে কোভিড–‌প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরিতে সফল হয়েছে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই। বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ‘‌দ্য ল্যান্সেট’‌–এ সেই ফলাফল প্রকাশিতও হয়েছে। তবে এর পরেও যে এই টিকার আরও ব্যাপক এবং দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার দরকার আছে, সে–কথাও বলেছে ‘‌দ্য ল্যান্সেট’‌।
ভারতের নিজস্ব গবেষণালব্ধ ‘‌কোভ্যাকসিন’‌–এর দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাও শুরু হতে চলেছে। রোহতকের পোস্টগ্র্যাজুয়েট (‌মেডিক্যাল)‌ ইনস্টিটিউটে এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হবে। ১২ থেকে ৬৫ বছর বয়সি ৩০০ স্বেচ্ছা–পরীক্ষার্থীর মধ্যে থেকে প্রথম দফায় ১৫ জনকে বেছেও নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জানিয়েছেন পিজিআই রোহতকের ভিসি ডাঃ ওপি কালরা। বুধবার সকালেই কোভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। বিশ্বের যে–‌ক’‌টি দেশ কোভিডের ভ্যাকসিন বানাচ্ছে, তার প্রথম সারিতেই আছে ভারতের ‘‌কোভ্যাকসিন’‌। নিষ্ক্রিয় কোভিড–‌১৯ ভাইরাস দিয়ে তৈরি এই টিকা শরীরে সংক্রমণ না ঘটিয়েই অ্যান্টিবডি তৈরি করছে। প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল হয়েছে নির্বাচিত একদল সুস্থ–‌সবল স্বেচ্ছা–‌পরীক্ষার্থীর দেহে। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে কার্যকারিতা পরীক্ষা হবে। তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ে পরীক্ষা হ‌বে বৃহত্তর এলাকা জুড়ে, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে। ভারতে তৈরি হচ্ছে দ্বিতীয় একটি কোভিড ভ্যাকসিন, বেসরকারি ওষুধ সংস্থা জাইডাস ক্যাডিলা–র তত্ত্বাবধানে, ভাইরাল ডিএনএ প্রযুক্তির ভিত্তিতে। সেটিও দ্বিতীয় পর্যায়ের সক্ষমতা পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে। আর অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি ভ্যাকসিন, যেটি এ দেশে তৈরি করছে পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট, সেটি এখন রয়েছে তৃতীয়, অর্থাৎ চূড়ান্ত দফার পরীক্ষার স্তরে। অক্সফোর্ড এবং আন্তর্জাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী অ্যাস্ট্রাজেনেকা–‌র যৌথ গবেষণার ফসল এই ভ্যাকসিনটি তার প্রথম দুই পর্যায়ের পরীক্ষায় শরীরে রোগ প্রতিরোধী টি–সেল উজ্জীবিত করতে অত্যন্ত কার্যকর এবং গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে এই ভ্যাকসিনের দিকে। কিন্তু ব্রিটেনের স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক মঙ্গলবার বলেন, খুব সম্ভবত ২০২১ সালের প্রথম কয়েক মাসের মধ্যে ব্রিটেনের টিকা বাজারে চলে আসবে। যদিও টিকার ডোজ অনুযায়ী ওষুধ তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট সমস্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব ধরনের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করবে না ব্রিটেন।

জনপ্রিয়

Back To Top