তীর্থঙ্কর দাস: ১৯৫১ সালে তৈরি হয়েছিল সমরগড় পশ্চিম পুটিয়ারি কালী মন্দির। ৭৪ বছরে পা দিল এখানকার কালী পুজো। আর বাকি সব পুজোর থেকে এই পুজো খানিকটা আলাদা। বনেদি বাড়ি ছাড়া কম সংখ্যক পুজো এই শহরে হয় যেখানে পাড়ার মন্দিরের প্রতিষ্ঠিত মায়ের পুজো প্রজন্মের পর প্রজন্ম করে আসছে কোনো পরিবার। এখানে দেবী পুজো পান দক্ষিণাকালী রূপে। কথায় আছে মা জাগ্রত, তাই এখনও পর্যন্ত পাঁঠা বলির রীতি মানা হয়। দেবীর অলঙ্কার থেকে শুরু করে মাথার মুকুট, হাতের অস্ত্র, তিনটি চোখের মনি, জিভ , পায়ের তোড়া প্রায় সব কিছুই সোনা আর রুপোর তৈরি।

বহু জায়গায় পুজোর পরে প্রতিমার অলঙ্কার খুলে রাখা হয়। কিন্তু এই মন্দিরে মায়ের গায়ে সারা বছর সোনার গয়না পরানো থাকে। যেহেতু মা এখানে প্রতিষ্ঠিত সেই কারণে মায়ের ভাসান হয়না। ভাসান হয় গত বছরের প্রতিমা। মণীন্দ্রনাথ ব্যানার্জি ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় এসে এই পুজো শুরু করেন ১৯৫১ সালে। তাঁর মৃত্যুর পর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তাঁর ছেলে সুকুমার ব্যানার্জি। বর্তমানে এই পুজোর ভার সামলান মণীন্দ্রনাথ ব্যানার্জির দুই নাতি সদানন্দ, দীপঙ্কর।

পুজোর দিনে পুরো পাড়া একসাথে হয়ে মায়ের পুজো উপভোগ করে। করা হয় ভোগ, পৌঁছে দেওয়া হয় পাড়ার প্রত্যেক ঘরে ঘরে। একদিকে পুজোর আরাধনায় মত্ত থাকে দুই ভাই। অন্যদিকে পুজোর বাইরে দায়িত্বভার সামলান পাড়ার প্রত্যেকে। পুজোর দিন দেবী দর্শন করতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা।