আজকালের প্রতিবেদন: বেশ কয়েক বছর পর পাহাড় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন পর্যটকেরা। বিকল্প জায়গার সন্ধানে পর্যটন উৎসবে খোঁজখবরও করছেন তাঁরা। যাঁরা পাহাড়ে যাবেন বলে ঠিক ছিল তাঁদের অনেকেই বুকিং বাতিল করতে শুরু করেছেন। পুজোর সময় দার্জিলিং ঘুরতে যাওয়া নিয়ে পর্যটন উৎসবে কেউ খোঁজখবর করছেন না বললেই চলে। এমনই জানাচ্ছেন ভ্রমণ সংস্থার কর্তা–কর্মীরা। দেশ–বিদেশে পর্যটনকেন্দ্রের সুলুকসন্ধান দিতে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পর্যটন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্যোক্তা ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। রবিবার ছিল শেষ দিন। যোগদানকারী ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এবার পুজোয় দার্জিলিঙে যেতে আগ্রহ হারিয়েছে বাঙালি। ভ্রমণ সংস্থার কর্তাদের কাছে তার বদলে অন্য জায়গার দাবি করছেন। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার আন্দোলনের জেরে পাহাড়ের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং একদফা হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সেখানে না যাওয়ার। যার রেশ পড়েছে সেখানকার পর্যটন শিল্পে। পর্যটকদের বড়সড় অংশ আশঙ্কিত। ঘুরতে গিয়ে বিপদে পড়তে পারেন, সেই আশঙ্কায় দার্জিলিংকে ‘‌না’‌ বলে দিয়েছেন অনেকেই। একদল বুকিং বাতিল করে দিয়েছেন, আর একদল ভ্রমণ সংস্থাকে আগেভাগে বলে রেখেছেন পাহাড়ে না–ও যেতে পারেন। বিকল্প কোনও জায়গা বেছে রাখার জন্য। তবে কেউ কেউ আশায় বুক বাঁধছেন। পুজোর আগে হাতে সময় রয়েছে। তাই পরিস্থিতি পাল্টাতেও পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। তাই এখনও তাঁরা পাহাড়ে যাওয়ার আশা ছাড়েননি। চৌধুরি ট্রাভেলসের বিপ্লব গুহ, দেবব্রত বসু জানালেন, পাহাড়ে যেতে চাইছেন না পর্যটকরা। নতুন করে সেখানকার বুকিং কেউ করতে চাইছেন না। যাঁরা করেছেন তাঁরা বলছেন সেখানে যাবেন না। বদলে তাঁদের পছন্দ পুরী, লাটাগুড়ি। অনেকে পরিস্থিতি ভাল হবে বলে আশা করছেন। স্বাগত প্যাকেজের কর্মীরা জানালেন, পর্যটকরা দার্জিলিং, কালিম্পং থেকে মুখ ফিরিয়েছেন এবার। বদলে নৈনিতাল, সিমলা বেছে নিচ্ছেন তাঁরা। মহামায়া টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের পাহাড়ে ২৫ শতাংশ বুকিং এখনই বাতিল হয়ে গেছে। আরও ৩০ শতাংশ বুকিং বাতিল করবেন বলে জানিয়ে রেখেছেন। সেখানে তাঁদের হোটেলে তালাচাবি ঝুলিয়ে চলে আসতে হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে পর্যটকরা সেখানে যেতে চাইছেন না। পর্যটন সংস্থার তরফে আশু অধিকারী জানান, প্রভাব তো সিকিমেও পড়েছে। অনেকেই ডুয়ার্সের কথা বলছেন। সেখানে জায়গা দেওয়াটা সমস্যার। চলিষ্ণুর কর্তা প্রদীপকুমার পালও একই কথা জানালেন। তাঁর কথায়, এ রাজ্যের পাহাড় ছেড়ে পর্যটকদের একটা বড় অংশ হিমাচল প্রদেশের দিকে ঝুঁকছেন। ডায়নামিক টুরিজমের বিট্টু বণিক জানালেন, অনেকে এখনও ধৈর্য রেখেছেন। আশা করছেন পরিস্থিতির বদল হবে। পাহাড়ের বিকল্প হিসেবে ভুটান যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অনেকের।

পর্যটন উৎসব। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে, রবিবার। ছবি: তপন মুখার্জি

জনপ্রিয়

বিদায় ২০০০, আসছে ২০০

বুধবার ২৬ জুলাই, ২০১৭

নীতীশের সিদ্ধান্তে অপমানিত শরদ 

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭

চীনে পরমাণু হামলা চালাতে পারে আমেরিকা

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭

Back To Top