সম্রাট মুখোপাধ্যায়: প্রবাদপ্রতিম অভিনেত্রী শোভা সেন প্রয়াত। বাংলার দুই প্রবাদতুল্য নাট্যদল ‘‌এলটিজি’‌ ও ‘‌পিএলটি’‌‌র প্রধান অভিনেত্রী ও অন্যতম চালিকাশক্তি। বাংলা থিয়েটারের যুগপুরুষ উৎপল দত্তের স্ত্রী। অসুস্থ ছিলেন বেশ কয়েক বছর। স্মৃতি মাঝে মাঝেই বিশ্বাসঘাতকতা করত। তবু ‌পিএলটি নতুন নাটক মঞ্চস্থ করলে, প্রথম শোয়ের দিন মঞ্চে থাকতেন। রবিবার ভোররাতে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় ঘুম ভেঙে যায়। এর পরই, ভোর ৬টা নাগাদ মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। রেখে গেলেন কন্যা অভিনেত্রী–‌অধ্যাপিকা বিষ্ণুপ্রিয়া দত্তকে। মৃত্যুর সময় মায়ের কাছেই ছিলেন। মরদেহ নাকতলার বাড়ি ‘‌কল্লোল’‌ থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের রাজ্য দপ্তরে। যে গণনাট্য সঙ্ঘের নাটক ‘‌নবান্ন’‌ দিয়ে তঁার অভিনেত্রী–‌জীবনের শুরু। ১৯৪৪ সালে প্রথম মঞ্চস্থ সে–‌নাটকে তিনি ছিলেন ‘‌রাধিকা’‌, এক চাষি–বউ, মন্বন্তর যার জীবনকে চুরমার করেছে।
ওপার বাংলার ফরিদপুরের মেয়ে শোভার জন্ম ১৯২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। দেশ ভাগের আগেই তঁার পরিবার চলে আসে কলকাতায়, চিৎপুরের ভাড়া বাড়িতে। বেথুন কলেজে পড়ার সময় বাস্কেটবল খেলার পাশাপাশি আগ্রহ জন্মায় নাটকে। গলা ভারী বলে বরাবরই নির্বাচিত হতেন পুরুষ চরিত্রে। ১৯৪২–‌এ তঁার প্রথম বিয়ে দেবেন্দ্রনাথ সেনের সঙ্গে। তার পর বি‌এ‌ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আর এর পরই শ্বশুরবাড়ির সূত্রে আত্মীয় শান্তিময় রায় তঁাকে নিয়ে যান আইপিটিএ বা ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘে। নাটক ও রাজনীতিতে একই সঙ্গে হাতেখড়ি সেখানেই। সেই কমিউনিজমের চেতনাকে বহন করেছেন আমৃত্যু। আত্মজীবনীর নাম রেখেছেন ‘‌স্মরণে বিস্মরণে নবান্ন থেকে লাল দুর্গ’‌। তঁার ইচ্ছেমতো রবিবার দুপুরে দেহ তুলে দেওয়া হয় নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগে। সেখানে তখন উপস্থিত ছিলেন মেয়ে বিষ্ণুপ্রিয়া–‌সহ নাট্যদলের সহযোদ্ধারা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁর পরিবারবর্গকে। এদিন বাড়িতে ও গণনাট্য দপ্তরে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যান নাট্য ও রাজনীতি–‌জগতের বিশিষ্টরা। আসেন দেবাশিস মজুমদার, চন্দন সেন (‌নাট্যকার)‌, অসিত বসু, চন্দন সেন (‌অভিনেতা)‌, শঙ্কর চক্রবর্তী, রজত বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবেশ চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, বিমল চক্রবর্তী, কণিষ্ক সেন, গোরা ঘোষ, সংগ্রামজিৎ সেনগুপ্ত, দীপ্তেশ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। গণনাট্য দপ্তরে এসে মালা দেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপি‌এমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র–সহ শ্যামল চক্রবর্তী, অঞ্জন বেরা, সুজন চক্রবর্তী, কান্তি গাঙ্গুলি। রাজ্য সরকারের তরফে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। গণনাট্যের রাজ্য সম্পাদক গোরা ঘোষ ও গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘের রাজ্য সম্পাদক রজত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আরও কিছু সংগঠনের সঙ্গে তাঁরা যৌথ ভাবে ৩ সেপ্টেম্বর শোভা সেনের স্মরণসভা করবেন। তবে এর আগে ১৯ আগস্ট আকাদেমি মঞ্চে শোভা সেনের স্মরণে সভা করবে নাট্যদল পিএলটি। প্রসঙ্গত, ওই দিন উৎপল দত্তের প্রয়াণ দিবস। তাই উৎপল–‌স্মরণের আয়োজন করেছিল ‌পিএলটি। এখন সেই সভাই ঘটনাচক্রে হয়ে দঁাড়াল এই নাট্য–‌‌দম্পতির যৌথ স্মরণসভা।
উৎপল দত্তের সে–‌সময়কার দল ‌এলটিজি–তে শোভা সেনের ‘‌লেডি ম্যাকবেথ’‌ করতে আসা। উৎপলবাবু স্বয়ং ‘‌ম্যাকবেথ’‌। ইংরেজি নাটক ছেড়ে উৎপলবাবু যাতে বাংলা নাটক করেন, তার জন্য যে–‌ক’‌জন তখন ক্রমাগত বুঝিয়ে চলেছেন তঁাকে, তার মধ্যে শোভা অন্যতম। শুধু তা–ই নয়, এলটিজি তখন মিনার্ভা থিয়েটার লিজ নেবে। টাকা নেই।‌ স্বামীকে লুকিয়ে নিজের বাড়ির দলিল বন্ধক দিয়ে টাকা আনলেন শোভা। নাটক করা নিয়ে অশান্তি

 

 লেগেই ছিল দেবেন সেনের সঙ্গে। পরিণাম বিবাহ–‌বিচ্ছেদ। এর পর ১৯৬১–‌তে রেজিস্ট্রি বিবাহ উৎপল দত্তের সঙ্গে। উৎপলবাবু যাতে সারাক্ষণের জন্য নাটক করতে পারেন, তার জন্য শোভা সেনকে সে–‌সময় দলের নাটকের পাশাপাশি অভিনয় করতে হয়েছে বহু সিনেমায়। অবশ্য সিনেমায় তঁার অভিনয়ের সূচনাও ‌আইপিটিএ‌ সূত্রেই। সেখানকার শিল্পীদেরই সমবেত প্রয়াসে তৈরি হয়েছিল নিমাই ঘোষের ‘‌ছিন্নমূল’‌। সে–‌ছবিতে প্রথম অভিনয় হলেও ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৫১–তে। তাই সন–‌তারিখের হিসেবে তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি ‘‌পরিবর্তন’‌ (‌১৯৪৯)‌। ‘‌সবার উপরে’‌ ছবিতে তিনি উত্তমকুমারের দুঃখিনী মা। যদিও উত্তম ছিলেন তঁার থেকে মাত্র তিন বছরের ছোট!‌ ‘‌শঙ্খবেলা’‌, ‘‌পথে হলে দেরী’‌‌র মতো সুপারহিট ছবিতেও ছিলেন তিনি। অথচ মঞ্চের শোভা সেন অন্য ব্যক্তিত্বে, অন্য দাপটে দেখা দিতেন। ‘‌কল্লোল’‌–‌এ বীর নাবিক যোদ্ধা শার্দূলের বীরাঙ্গনা মা কৃষ্ণাবাই। একই রকম তেজিয়ান চরিত্র ‘‌ফেরারী ফৌজ’‌–‌এ নায়ক অশোকের মা বঙ্গবাসী দেবী।
উৎপলবাবু জেলে গেলেন। ‌এলটিজি‌ ভাঙল। অভাব, অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেও হাল ধরে রেখেছিলেন শোভা। সংসারের। উৎপলের নাট্যজীবনের। ফিরে এসে উৎপলবাবু প্রথমে আবার টাকা লগ্নি করে গড়ে তুললেন যাত্রাদল ‘‌বিবেক নাট্য সমাজ’‌। পাশে অকুতোভয় শোভা। এবং তার পর ফের গড়ে উঠল আরেক শক্তিশালী নাট্যদল ‌পিএলটি‌। যেখানে একের পর এক দুরন্ত নাটক ‘‌সূর্যশিকার’, ‘‌টিনের তলোয়ার’‌, ‘‌ব্যারিকেড’‌, ‘‌দুঃস্বপ্নের নগরী’‌। আর তার প্রতিটিতেই শোভা সেনের দুরন্ত অভিনয়। জার্মানিতে গিয়ে অভিনয় করেছেন। উৎপল দত্তের সঙ্গে গেছেন মস্কো, চীনেও। তঁাকে নিয়ে কবিতা লিখতে গিয়ে উৎপল দত্ত লিখেছিলেন, ‘‌ব্যারিকেডে দাঁড়িয়ে তুমি আর আমি/‌লড়ে যাচ্ছি দুই কমরেড।’‌
তখন ভাল করে দঁাড়াতে পারেন না। স্মৃতি বিশ্বাসঘাতকতা করে। তবু ২০১২–‌র ১৯ মার্চ শেষ বার মঞ্চে উঠেছিলেন ৯০ বছর বয়সে, ‘‌একলা চলো রে’‌–‌তে অভিনয় করতে। মঞ্চই যে ছিল তঁার জীবন!‌ এক সময় অভিনয় করেছেন প্রভাদেবী, রানিবালাদের মতো শিশির–যুগের অভিনেত্রীদের সঙ্গে। তাই আজ তঁার মৃত্যুতে হারিয়ে গেল একটি নয়, দু–‌দুটি যুগ। অভিনয়ে, ইতিহাসে।‌‌‌‌

বুধবার ৪ অক্টোবর, ২০১৭

রাত পোহালেই কোজাগরি লক্ষীপুজো

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর, ২০১৭

সিঁদুর খেলায় তারকা সমাবেশ

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর, ২০১৭

কলকাতা পুজো কার্নিভাল

বৃহস্পতিবার ২৪ আগষ্ট, ২০১৭

গণেশ বন্দনায় মেতেছে বলিউড

বুধবার ২৩ আগষ্ট, ২০১৭

ফুলে ঢাকা চিলির মরুভূমি

রবিবার ৬ আগষ্ট, ২০১৭

পুতিনের মেমেতে ছয়লাপ রাশিয়া

শনিবার ৮ জুলাই, ২০১৭

বঙ্গ সংস্কৃতি, আমেরিকা

শনিবার ১ জুলাই, ২০১৭

বঙ্গ সংস্কৃতি অস্ট্রেলিয়া

শনিবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৭

শহীদ অমিতাভকে শেষ শ্রদ্ধা

সোমবার ৩১ জুলাই, ২০১৭

সারমেয় সজ্জা

Back To Top