আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ শেষ হল দীর্ঘ দড়ি টানাটানি। জয় হল বাংলার। জয় হল বাংলার ‘‌রসগোল্লার কলম্বাস’‌ নবীন চন্দ্র দাশের। দেশে–বিদেশে বাঙালী মানে ধূতি–পাঞ্জাবি, মিষ্টি দই আর রসগোল্লা। এই রসগোল্লা দখল করতে জিআইয়ের ময়দানে যুদ্ধে নেমেছিল বঙ্গ ও কলিঙ্গ। ওড়িশা আগবাড়িয়ে রসগোল্লাকে নিজের বলে দাবি করায়, বাংলার মিষ্টি ব্যবসায়ীরা মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। ওড়িশাকে জবাব দিতে একজোট হয়ে লড়াই নেমেছিল বাংলার মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। পাশে পেয়েছিল রাজ্য সরকারকে। 
ওড়িশার রসগোল্লাকে নিজের বলে দাবি করার বিষয়টিকে পায়ে পায়ে লাগিয়ে ঝগড়া ছাড়া কিছু মনে করছেন না, ১৩২ বছরের প্রতিষ্ঠান দ্বারিক গ্র‌্যান্ড সন্সের কর্ণধার গোপীনাথ ঘোষ। গোপীনাথবাবু আরও জানান, ‘‌রসগোল্লা নিয়ে শুধু লড়াই করেনি রাজ্য। ওড়িশা অন্যের সম্পত্তিকে নিজের বলেছিল, সেটা ঘরে ফিরিয়ে এনেছে। বাঙালীর রসবোধ সম্পূর্ণ হয় রসগোল্লায় এসে। আর সেটাকেই নাকি বাদ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।’‌ বাংলার রসগোল্লার কারিগর কেসি দাসের পক্ষ থেকে ধীমান দাস জানান, ‘‌জিআইয়েই এই ঘোষণা বাংলার পাশাপাশি নবীন চন্দ্র দাশেরও জয়। রসগোল্লা শুধু বাংলার।’‌ ২০১৫ সালে জি আই বোর্ডে ওড়িশা জানায় রসগোল্লা নাকি তাদের। এই নিয়ে শুরু হল বাংলার সঙ্গে আইনি লড়াই। বাংলার রসগোল্লার ইতিহাসের কাছে বোল্ড আউট হয়ে গেল ওড়িশার যুক্তি। ১৮৩০ সালে কলকাতায় প্রথম তৈরি হয় রসগোল্লা নবীন চন্দ্র দাশের হাত ধরে। ওড়িশা মানে সবাই জানে ছানা পোড়া ও খাজা। কলকাতার অনেক বিশিষ্ট মিষ্টি ব্যবসায়ীদের যুক্তি ছিল, ছানা পোড়া কখনই রসগোল্লার সঙ্গে তুলনা করা যায় না। মঙ্গলবার জিআই বোর্ডের ঘোষণার পর বাংলাজুড়ে রসগোল্লার উৎসব শুরু হয়ে গেছে। মিষ্টি প্রেমি বাঙালি থেকে রাজনৈতিক নেতা–মন্ত্রী–সেলিব্রেটিদের মুখে যুদ্ধে জেতার হাসি। সবার মুখে এক কথা– বাংলার জয়, বাঙালীর ঐতিহ্যের জয়।মনে পড়ে সেই বিখ্যাত কবিতার কথা, ১৮৯৬ সালে যে কবিতা লিখেছিলেন রাখালদাস অধিকারী,

 

'ধন্য রসগোল্লা! ধরিত্রী মাঝারে

ওহে পারিজাত-সূত। শচী দেবী নিত্য

বসিয়া বিরলে সেবিতেন তোমা ধনে

সযতনে।'

জয়ের মুকুট কেসি দাশের রসগোল্লার। মঙ্গলবার। ছবি: অভিজিৎ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top