আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে শিশু মৃত্যুর যোগ নেই। থাকলে তা অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ। কাউকে রেয়াত করা হবে না।’‌ জানিয়ে দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রবিবার গোরখপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি। তার আগে বাবা রাঘবদাস মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক সারেন। তারপর সাত সকালে লখনউয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন। বলেন, ‘‌এনসেফালাইটিস নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। তাই আমার কাছে বিষয়টি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। অক্সিজেনে সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি সামনে এসেছে বটে। তবে এর সঙ্গে শিশুমৃত্যুর যোগ নেই বলেই জানি। আর যদি থেকে থাকে, এর থেকে ঘৃণ্য অপরাধ আর হতে পারে না। বিচারবিভাগীয় তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’‌ 
এনসেফালাইটিস ও ডেঙ্গি প্রতিরোধ নিয়ে ৯ অগাস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন যোগী। কিন্তু সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ নিয়ে তাঁকে কিছু জানায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘‌বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একদফা আলোচনা হয়। শিশু বিভাগের আধিকারিকের সঙ্গেও কথা হয়। কোনওকিছুর প্রয়োজন আছে কিনা জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু অক্সিজেনের কথা মুখেই আনেননি কেউ।’‌ 
গাফিলতির অভিযোগে শনিবারই বাবা রাঘবদাস মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ রাজীব মিশ্রকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহকারী সংস্থার পাওনা না মেটানোয় তাঁকেই দোষী ঠাহরেছেন যোগী আদিত্যনাথ। জানিয়েছেন, ‘‌৯ অগাস্টের বৈঠকের পরই উনি হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে যান বলে জানতে পেরেছি। কর্তৃপক্ষকে কিছু জানানোর প্রয়োজনটুকু বোধ করেননি। প্রাথমিক তদন্তের পর ওঁর ওপরই দায় বর্তেছে। তাই সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাছাড়া ৫ অগাস্টই রাজ্য সরকার হাসপাতালকে টাকা দিয়েছিল। টাকা পেয়েও অক্সিজেন সরবরাহকারী সংস্থার পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হল না কেন?‌’‌ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাজির ছিলেন রাজ্যের চিকিৎসা বিভাগের শিক্ষামন্ত্রী আশুতোষ ট্যান্ডন। ১১ অগাস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন সরবরাহকারীদের টাকা মিটিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 
পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে ইতিমধ্যেই নিজের দুই মন্ত্রীকে গোরখপুর পাঠিয়ে দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ফোনে সমস্ত খবরাখবর নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবারই গোরখপুর পৌঁছন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থনাথ সিং। তিনিও অক্সিজেনের অভাবে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করেন। ১১ অগাস্ট দু’‌ঘণ্টার জন্য অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ মেনে নেন বটে। তবে ওই দু’‌ঘণ্টায় কোনও শিশুর মৃত্যু হয়নি বলে পাল্টা দাবি করেন। 
যোগী আদিত্যনাথ। 

Back To Top