আজকালের প্রতিবেদন- ‘‌ডেঙ্গি নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতনতা বাড়ান। এ রাজ্যে ডেঙ্গিতে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছেন, এই তথ্য একেবারেই ঠিক নয়।’‌ নবান্নে বৃহস্পতিবার এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসার খাতিরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলি সঠিক পদ্ধতিতে রক্ত পরীক্ষা না করেই ডেঙ্গি বলে দিচ্ছে। যেমন এনএইচ১ অ্যালাইজা টেস্ট না করেই, র‌্যাপিড টেস্ট করে এনএইচ১ রিঅ্যাকটিভ হলেই বলে দিচ্ছে ডেঙ্গি। এটা ঠিক নয়। কারণ এনএইচ১ পজিটিভ হলে শুধু ডেঙ্গি নয়, যে–‌কোনও ভাইরাল জ্বর হতে পারে। তার ভিত্তিতে ডেঙ্গির চিকিৎসা করা তো ঠিক নয়। এই ধরনের কাজ যারা করছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।  জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত রক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে নজর রাখতে। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে কড়া ব্যবস্থা নিতে। দেগঙ্গা, গাইঘাটায় এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। এটাও ঠিক নয়। দেগঙ্গায় যে ৪ জন মারা গেছেন তাঁদের ডেঙ্গি হয়েছিল বলা হলেও, পরে খতিয়ে দেখা গেছে তা আদৌ ঠিক নয়। হাবড়াতে যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মধ্যে একজনেরই ডেঙ্গি হয়েছিল। অথচ বেসরকারি রক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলি অতিরঞ্জিত করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এদিন ডেঙ্গি–‌সহ ঘরে ঘরে যে জ্বর হচ্ছে তা নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বৈঠকে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, কলকাতার মহানাগরিক শোভন চ্যাটার্জি, স্বাস্থ্য রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিধাননগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচী দত্ত, মুখ্য সচিব মলয় দে, স্বাস্থ্য সচিব অনিল বর্মা, পঞ্চায়েত সচিব সৌরভ দাস, স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথি–‌সহ স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েত ও পুর দপ্তরের আধিকারিকরা ছিলেন।  অন্যদিকে, বিধাননগর–‌সহ কলকাতার আশপাশে যে–‌সব এলাকায় কেন্দ্রীয় সংস্থার অফিস রয়েছে সে–‌সব জায়গা অপরিষ্কার, মশার আঁতুড়ঘর হওয়া সত্ত্বেও পুরসভাগুলিকে পরিষ্কার করতে দিচ্ছে না। বিশেষ করে যেখানে মেট্রোর কাজ চলছে, সেখানকার অবস্থা আরও খারাপ। রাজ্য সরকারের কিছু করার থাকছে না। তবে সাধারণ মানুষের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, অযথা আতঙ্কিত হবেন না। সতর্ক থাকুন। মশা যাতে না জন্মাতে পারে তার জন্য জল জমতে দেবেন না। সরকারের কাছে একটি মৃত্যুও কাম্য নয়। সরকার সব সময় সতর্ক রয়েছে। আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। চিকিৎসার সুব্যবস্থা রয়েছে। প্লেটলেটের অভাব নেই। জ্বর হলে সঠিক পদ্ধতিতে রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গির মশা নিয়ে সতর্ক করার জন্য আশা ও আইসিডিএস কর্মীদের কাজে লাগানো হয়েছে। চারধারে ব্লিচিং ছড়ানোর কাজে ১০০ দিনের কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সময় একটু জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অজানা জ্বরের যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে তার কারণ জানার জন্য নিমহ্যানস এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি, পুনেতে পাঠানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথিকে নির্দেশ দিয়েছেন, যে পরীক্ষা নিমহ্যানস ও পুনেতে হচ্ছে সেই ব্যবস্থা রাজ্যেও করতে। তাতে চিকিৎসা শুরুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সংবাদমাধ্যমে বারবার বলা হচ্ছে ডেঙ্গির মৃত্যুর সংখ্যা ভয়ানক আকার নিয়েছে। তা সঠিক নয়। গত সাত–‌আট মাসে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে অতি সম্প্রতি ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতা পুরসভা অঞ্চলে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলা হলেও তা প্রমাণিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ডেঙ্গি হওয়ার পর বিশ্রাম না নিয়ে তাঁরা কাজে যোগ দিয়েছেন। ফলে ফের ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর উপদেশ, ডেঙ্গি হলে যতক্ষণ না পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছেন ততদিন বিশ্রাম নেবেন। আর সংবাদমাধ্যমকে উপদেশ, ডেঙ্গি নিয়ে খবর করার আগে তথ্যগুলো যাচাই করে নেবেন। তাঁর হিসেব বলছে, গত ৩–৪ মাসে গুজরাটে ৪৩০ জন সোয়াইন ফ্লু–‌তে মারা গেছেন। কেরলে ৩৫ জন, লখনউতে ১৪১ জন,  তামিলনাড়ুতে ৪০ জন ডেঙ্গিতে মারা গেছেন। ‌‌‌

 

নবান্নে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

বুধবার ৪ অক্টোবর, ২০১৭

রাত পোহালেই কোজাগরি লক্ষীপুজো

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর, ২০১৭

সিঁদুর খেলায় তারকা সমাবেশ

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর, ২০১৭

কলকাতা পুজো কার্নিভাল

বৃহস্পতিবার ২৪ আগষ্ট, ২০১৭

গণেশ বন্দনায় মেতেছে বলিউড

বুধবার ২৩ আগষ্ট, ২০১৭

ফুলে ঢাকা চিলির মরুভূমি

রবিবার ৬ আগষ্ট, ২০১৭

পুতিনের মেমেতে ছয়লাপ রাশিয়া

শনিবার ৮ জুলাই, ২০১৭

বঙ্গ সংস্কৃতি, আমেরিকা

শনিবার ১ জুলাই, ২০১৭

বঙ্গ সংস্কৃতি অস্ট্রেলিয়া

শনিবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৭

শহীদ অমিতাভকে শেষ শ্রদ্ধা

সোমবার ৩১ জুলাই, ২০১৭

সারমেয় সজ্জা

Back To Top