আজকালের প্রতিবেদন: বৃষ্টি উপেক্ষা করে রবিবার ৭টি পুরসভার মানুষ ভোট দিলেন। ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশের বেশি। তবে কিছু অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটলেও ভোট হয়েছে শান্তিতেই। অভিযোগ পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। কোথাও পুলিসের গাড়িতে আগুন, পুলিসের সামনে চড়, ছাপ্পা ভোট, বিরোধী প্রার্থীদের হুমকি, পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রবল বৃষ্টির জন্য ধূপগুড়ির ১৫ এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৬টি বুথে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। ধূপগুড়িতে ৮৮.‌৪, বুনিয়াদপুর ৮০.‌৮, নলহাটি ৮১.‌৫, হলদিয়া ৮৬.‌৭, পাঁশকুড়া ৮০.‌১, দুর্গাপুর ৭২.‌২, কুপার্স ক্যাম্প ৮৯.‌৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। চাঁপদানি এবং ঝাড়গ্রামে ১টি করে ওয়ার্ডে উপনির্বাচন ছিল। সেখানে ভোট পড়েছে ৭৭ ও ৭৬.‌১ শতাংশ। সিপিএম ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
কুপার্স ক্যাম্প
কুপার্সের ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে নির্বাচন ছিল ১১টিতে। ৭ নং ওয়ার্ডটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতে তৃণমূল। ঈশ্বরচন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮৭ নং বুথে ১ নং ওয়ার্ডের নির্দল প্রার্থী সুপ্রিয়া বিশ্বাস দেখেন ইভিএম ঠিকঠাক রাখা নেই। প্রতিবাদ করলে তৃণমূলের সমর্থকেরা তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী অশোক সরকার বলেন, সুপ্রিয়াদেবীই তৃণমূল সমর্থকের গালে চড় মেরেছেন। ৫ নং ওয়ার্ডে ৯২ নং বুথে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ তোলে বিরোধীরা।
দুর্গাপুর
১৩ নং ওয়ার্ডের দুর্গাপুরের মেন গেট এলাকায় বোমাবাজি, শূন্যে গুলি চলে বলে অভিযোগ। বিজেপি কর্মীরা ২ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। শাসক দলের বিরুদ্ধে ভোটে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে বিজেপি। অবরোধ তুলতে পুলিস ২ বিজেপি কর্মীকে মারধর করে বলে অভিযোগ। এরপর পুলিসের জিপ ভাঙচুর, ২টি বাইক পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এক পুলিসকর্মীর মাথা ফেটেছে। আক্রান্ত তৃণমূল প্রার্থী ধর্মেন্দ্র যাদবের অভিযোগ, বিজেপি–র ছাপ্পা ভোটের প্রতিবাদ করতেই এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। ডিসি (‌পূর্ব)‌ অভিষেক মোদি বলেন, পুলিস গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। কোথাও গুলি চলেনি। 
হলদিয়া–পাঁশকুড়া
পাঁশকুড়া, হলদিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট মিটেছে। সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে বিরোধীরা এই ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। বিরোধীদের দাবি ভিত্তিহীন দাবি তৃণমূলের। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, দুই পুরসভার ভোট মিটেছে নির্বিঘ্নে। মানুষ নিজেদের ভোট নিজেরাই দিয়েছেন। বামফ্রন্ট, বিজেপি, কংগ্রেসের থেকে সন্ত্রাস, হুমকি, বুথে এজেন্ট দিতে না দেওয়া, প্রার্থী অপহরণের একাধিক অভিযোগ করা হলেও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নলহাটি
সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোটাররা বিভিন্ন বুথের সামনে লাইনে দাঁড়ান। বেলা ১২টার পর দুটি টোটোয় জনা দশেক বহিরাগত যুবক ১২ নম্বর ওয়ার্ডে নলহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৬ নম্বর বুথে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। বাধা দিতে গেলে প্রিসাইডিং অফিসার–সহ ভোটকর্মীদের ওপরও হামলা চালায়। ছাপ্পা মারার চেষ্টা করলে এক নির্দল প্রার্থীর আত্মীয় তা ছিনিয়ে নেয়। পুলিসের তাড়া খেয়ে দুষ্কৃতীরা পালায়। এরপর নির্দল প্রার্থীর আত্মীয় ইভিএম–টি প্রিসাইডিং অফিসারের টেবিলে জমা দেন। সেখানে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস, নির্দল প্রার্থী। ওই ওয়ার্ডেই নির্দল প্রার্থী মর্তুজার বিরুদ্ধে বুথের কাছেই ভোটারদের টাকা বিলির অভিযোগ তোলেন তৃণমূল কর্মীরা। উত্তেজনা তৈরি হয়। বাম, কংগ্রেস ও বিজেপি–র অভিযোগ, বেশ কয়েকটি বুথ থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের। ‌
ধূপগুড়ি
বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোট দিলেন ধূপগুড়ির মানুষ। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট মিটেছে। 
বুনিয়াদপুর
পুরসভা গঠনের পর এটি প্রথম পুরভোট। দু–একটি অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। টাঙন নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১১ নম্বর বুথে নৌকো করে ভোট দিতে যান মানুষজন। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বহিরাগতদের তাড়া করে ধরে ফেলেন আদিবাসীরা। এদিকে, এদিন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় ঝাড়গ্রাম পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচন।‌‌

Back To Top