তারিক হাসান: বৃষ্টিপাতের পরিমাণে চেরাপুঞ্জিকে ছাপিয়ে গেল হাসিমারা, জলপাইগুড়ি। সেই বৃষ্টিতে ভাসছে উত্তরবঙ্গ। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ রবিবার তো বটেই, পরের দু–তিন দিনও সেখানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। দক্ষিণবঙ্গেও আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি হবে। দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি চলছে উত্তরবঙ্গে। শুক্রবার থেকে তার গতি আরও বেড়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত হাসিমারায় বৃষ্টি হয়েছে ৫৩০.‌০ মিলিমিটার। জলপাইগুড়িতে ২৯৫.‌২ মিলিমিটার। আর চেরাপুঞ্জিতে?‌ ২৭৯.‌৮ মিলিমিটার। এ ছাড়াও এ রাজ্যের কোচবিহারে ২৩৩.‌২ এবং মালদায় ১০২.‌০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টি মাঝেমধ্যে থামলেও ফের দ্বিগুণ বেগে শুরু হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের মতো জল থইথই মালদাও। উত্তরবঙ্গের মতোই টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিকিম, ভুটানেও। বৃষ্টি বাড়ছে দক্ষিণবঙ্গেও।
কেন এরকম পরিস্থিতি?‌ আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বিহার ও সংলগ্ন উত্তরবঙ্গে দানা বেঁধে রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। শক্তিশালী সেই ঘূর্ণাবর্ত থেকে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বেরিয়ে অসম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। এর প্রভাবে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি তো হচ্ছেই, দক্ষিণবঙ্গও বাদ পড়ছে না। এর পাশাপাশি দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। তাতে দক্ষিণবঙ্গেও বৃষ্টি বাড়ছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত এর প্রভাবে ক্যানিংয়ে বৃষ্টি হয়েছে ১০৮ মিলিমিটার। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গ থেকে বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখাটির প্রভাবে ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে, দিল্লির মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী দিন তিনেক উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের পরিস্থিতি থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও কমতে পারে। বৃষ্টির ঘাটতি ছিল 

 

উত্তরবঙ্গে। টানা বৃষ্টিতে সেই ঘাটতি বেশ খানিকটাই কমে গেছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে টানা বৃষ্টিতে জলে থইথই হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। উত্তরবঙ্গে সেই সময় বৃষ্টি প্রায় হয়নি বললেই চলে। সাধারণত উত্তরবঙ্গে যখন ভারী বৃষ্টি হয়, দক্ষিণবঙ্গ থাকে একরকম শুকনোই। আবার দক্ষিণে ভারী বৃষ্টি হলে উত্তর থাকে খটখটে। এবার কিন্তু গোটা রাজ্য জুড়েই বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরে ঘূর্ণাবর্ত আর দক্ষিণে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় এরকমটা হয়েছে।‌‌‌‌

Back To Top