উদয় বসু: আগামী দিনে দূরবিন কেন, দূরবীক্ষণ দিয়েও সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি–‌কে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ২১ জুলাই শহিদ সমাবেশ উপলক্ষে ব্যারাকপুর কেএমডি খেলার মাঠে  সভায় এ কথা বললেন রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জি। এদিন বিকেলে অভিষেক পৌঁছতেই বিপুল করতালিতে এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। ভাষণে অভিষেক বলেন, যে কর্মীরা রাতদিন, ঝড়জলকে উপেক্ষা করে  বুক চিতিয়ে লড়াই করে তৃণমূলের ঝান্ডাকে তুলে ধরে রেখেছেন, তঁাদের জন্যই আমরা আজ কেউ মন্ত্রী, কেউ বিধায়ক, কেউ সাংসদ, কেউ পুরপ্রধান, কেউ বা পঞ্চায়েত প্রধান। ওঁরাই তৃণমূলের সম্পদ। যারা দলকে ভালবাসে না, মন্ডা–‌মিঠাই খেয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাদের দলে কোনও জায়গা নেই। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম তৃণমূলের পরিচয় নয়, তৃণমূলের পরিচয় ২১ জুলাই। যারা ২১ জুলাই জানে না তাদের তৃণমূল করার কোনও অধিকার নেই। সেদিন আমাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি যে লড়াই করেছিলেন তা সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি চিন্তাও করতে পারবে না।  বাংলার মানুষ দু’‌হাত ভরে তঁাকে আশীর্বাদ করেছে। কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি নিঃশেষ হয়ে গেছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে নোয়াপাড়ায় ভাল ফল করিনি আমরা। এবার আমরা পুনরুদ্ধার করবই। অভিষেক বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলের সৎ ভাল নেতাদের আমরা স্বাগত জানাই। মানুষের ওপর অত্যাচার হলে কেউ প্রতিবাদ করে না। শুধু করেন মমতা ব্যানার্জি। কিছু হলেই সিবিআই, ইডি–র ভয় দেখায় কেন্দ্র। তঁাকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ হবে না। উনি বিশুদ্ধ লোহার মতো। যত আগুনে পুড়বেন, তত শক্ত হবেন। তাই তৃণমূল ২২১ থেকে ২৯৪–তে পৌঁছবে একদিন। দেখবেন বাসে ট্রামে লেখা থাকে পকেটমার হতে সাবধান। এবার থেকে আপনারা বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে লিখবেন ছদ্মবেশী পদ্মবেশী থেকে সাবধান। যে উন্নয়ন হয়েছে তার ৫০ শতাংশ কেন, ৫ শতাংশ কাজের খতিয়ান দিতে পারবে না সিপিএম। বিজেপি হিন্দু ও ইসলামের মধ্যে ভাগাভাগি করার চেষ্টা করছে। বাংলায় তা হবে না। এ বাংলা রবীন্দ্র–‌ নজরুলের বাংলা। হিন্দু ধর্মের শ্রেষ্ঠ প্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ। তিনি মানুষের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই স্বাধীনতাই হরণ করতে চাইছে বিজেপি। কন্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে কত সমালোচনা হয়েছে। আজ তা বিশ্বে সমাদৃত। দার্জিলিংকে অশান্ত করে বাংলাকে ভাগ করার কথা যারা ভাবছে তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। সিপিএম কংগ্রেস গত নির্বাচনে জোট করেছিল। তারা মুছে গেছে। সিপিএমের সাইনবোর্ডও নেই, এমনই দুরবস্থা। সিপিএম কংগ্রেস বিজেপির জন্য ছানি–শ্রী প্রকল্প করার কথা ভাবছি আমরা। ওরা তো খালি চোখে উন্নয়ন কিছুই দেখতে পারছে না। সিভিক পুলিসদের তাতিয়ে দিল, মমতা ব্যানার্জি ওদের ৫৬০০ টাকা করে বেতন করে দিয়েছেন। 
উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা সৌগত রায়, দীনেশ ত্রিবেদী, মদন মিত্র, অর্জুন সিং, কাজল সিনহা, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পার্থ ভৌমিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ইদ্রিশ আলি, উত্তম দাস, প্রশান্ত চৌধুরি, ব্রাত্য বসু, সুজিত বসু, দিলীপনারায়ণ বসু প্রমুখ।‌‌‌

ব্যারাকপুরে, শনিবার। ছবি: ভবতোষ চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

বিদায় ২০০০, আসছে ২০০

বুধবার ২৬ জুলাই, ২০১৭

নীতীশের সিদ্ধান্তে অপমানিত শরদ 

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭

চীনে পরমাণু হামলা চালাতে পারে আমেরিকা

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭

Back To Top