সব্যসাচী সরকার: কর ফাঁকি ও হাওয়ালায় টাকা পাচারচক্রের বৃত্ত ক্রমশই বড় হচ্ছে। আয়কর দপ্তরের মুখ্য কমিশনার তাপসকুমার দত্তকে চারদিন জেরা করার পর সিবিআইয়ের হাতে নানা তথ্য উঠে এসেছে। জড়িয়ে যাচ্ছে সোনার গয়না প্রস্তুতকারক কয়েকটি নামী সংস্থার নাম। এছাড়াও একটি বিস্কুট প্রস্তুতকারক সংস্থার নামও উঠে এসেছে।
তাপসকুমার দত্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সাড়ে ৬ কেজি সোনার গয়না (‌যার আনুমানিক মূল্য দেড় কোটি টাকার ওপর)‌ কীভাবে এল?‌ তার সূত্র সন্ধান করতে গিয়েই সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা দেখছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কর ফাঁকি দেওয়ার সুবিধা পেতেই ওই সোনা পৌঁছে দিয়েছেন তাপস দত্তের কাছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কলকাতার এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে সঙ্গে করে এক বছর ধরে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ–‌সুবিধা করে দিয়েছেন। শুধু সোনা নয়, মিলেছে রুপোর কিছু জিনিসপত্র। নোট বাতিল হওয়ার পর নতুন নোটে সব টাকাই তাঁর ঘরে ঢুকেছিল। রাঁচিতে আয়কর দপ্তরের দুই পদস্থ কর্তাকে নিয়ে মুখোমুখি বসিয়ে জেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে সিবিআই।
আজ তাপসকুমার দত্তকে আদালতে পেশ করা হবে। সিবিআইয়ের একটি সূত্রের সন্দেহ, মাত্র এক বছরই ওই পরিমাণ টাকা বাড়িতে রাখার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলেও থাকতে পারে। সন্দেহ, শুধু ঘুষের টাকা নয়, অন্য কোনো প্রভাবশালীর টাকা নিরাপদে রাখার জন্য তাপস দত্তের সরকারি পদাধিকারকে ব্যবহার করা হয়েছিল। কেননা, আয়কর দপ্তরের মুখ্য কমিশনারের কাছে সাময়িক কিছুদিনের জন্য টাকা গচ্ছিত রাখলেও তা স্বাভাবিকভাবেই আয়কর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কোনো আধিকারিকের সন্দেহ হবে না।
এই জায়গাটিকে ব্যবহার করেই কয়েকজন প্রভাবশালী তাপস দত্তের ঠিকানায় ‘‌সেফ কাস্টডি’‌ হিসেবে ব্যবহার করলেও করতে পারেন। একই সঙ্গে কয়েকটি ভুয়ো সংস্থা এবং সরকারি পদস্থ আধিকারিকদের যোগসাজশের সূত্র স্পষ্ট হয়ে গেছে। সিবিআই ইতিমধ্যেই ৬ জন কলকাতার ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করেছে। এবং তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এই ব্যবসায়ীদের চক্রের সঙ্গে তাপসকুমার দত্ত ছাড়াও কয়েকজন ভিন্ন পেশার মানুষও রয়েছেন। 
নোটবন্দীর পর থেকেই বহু ব্যবসায়ী নতুন নোটে টাকা ব্যাঙ্কের বদলে ব্যক্তিগত পরিচিতি এবং বিশ্বস্ত জায়গায় রাখা শুরু করেছিলেন। এমন ভূরি ভূরি নজির পেয়েছে আয়কর দপ্তর এবং সিবিআই। 
কলকাতার ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে রাঁচিতে সংস্থা খুলতে গেলেন তাড়াহুড়ো করে কেন?‌ আয়কর দপ্তর থেকেই এই প্রশ্ন ওঠায় সিবিআইয়ের অর্থনৈতিক দুর্নীতি দমন শাখায় খবর যায়। তারপরেই শুরু হয় একটি বিশেষ দল গড়ে সূত্র সন্ধান। চলতি সপ্তাহেই এই ঘটনায় কয়েকজনকে জেরা করা হবে। গ্রেপ্তার করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। ঘটনা হল, কলকাতা বা রাঁচি নয়, উত্তর–পূর্ব ভারতেও হাওয়ালা চক্রের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে সিবিআই। সেই টাকা রাজ্য থেকেই প্রভাবশালীদের কয়েকজন সরিয়ে রেখেছেন। হাওয়ালা ও কর ফাঁকির বৃত্তে জড়িত রয়েছেন কয়েকজন ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ী। যাঁদের সঙ্গে এই রাজ্যের কয়েকজন অতি পরিচিত প্রভাবশালীর ধারাবাহিক যোগাযোগ রয়েছে।‌

জনপ্রিয়

বিদায় ২০০০, আসছে ২০০

বুধবার ২৬ জুলাই, ২০১৭

নীতীশের সিদ্ধান্তে অপমানিত শরদ 

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭

চীনে পরমাণু হামলা চালাতে পারে আমেরিকা

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭

Back To Top