গৌতম মণ্ডল, গঙ্গাসাগর: আকাশে চক্কর কাটছে ড্রোন, কপ্টার। মুড়িগঙ্গা নদীর নাব্যতা মাপা চলছে (‌এসিডিএল)‌ যন্ত্রের মাধ্যমে। পর্যাপ্ত জলস্তর বাড়লেই তবে ছাড়া হচ্ছে ভেসেল। বাবুঘাট থেকে সাগরস্নান ঘাট পর্যন্ত ৫০০ সিসি ক্যামেরা বসানো। মেলার বিভিন্ন পয়েন্টে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্তারা পরিস্থিতির খোঁজ নিয়ে নিচ্ছেন। মেলা মাঠে বসেছে জায়ান্ট স্ক্রিন। যেখানে মুড়িগঙ্গা নদীর ভেসেলের চলাচলের খবর ফুটে উঠছে। মেলার আবহাওয়ার পূর্বাভাসও মাঝে মাঝে ভেসে উঠছে। 
কপিল মুনির মন্দির, মাঠে রঙিন আলো, লেজার লাইট। এককথায় বলা যেতে পারে প্রযুক্তির চরম ব্যবহার এবার সাগর মেলায়। উল্টোদিকে, নাগা সাধুরা কপিল মুনির মন্দিরের পাশের ডেরাতে জমিয়ে বসে ভক্তদের দর্শন দিচ্ছেন। ভেসে আসছে গাঁজা, ধূপ, ধুনোর পরিচিত সেই গন্ধ। সাধারণ পুণ্যার্থীরা কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর নাগাদের আখড়ায় কপাল ঠুকে যাচ্ছেন। আগামী ২ দিন এই নাগাদের ডেরা হয়ে উঠবে পুণ্যার্থীদের অন্যতম গন্তব্য। বাবুঘাট থেকে আমতলা, ডায়মন্ড হারবার হয়ে হারউড পয়েন্ট পর্যন্ত গঙ্গাসাগর লেখা বাসগুলিতে চোখ পড়লেই দেখা মিলবে সেই পুণ্যার্থীদের। গ্রামীণ ভারতের কোনও অখ্যাত গ্রাম থেকে কয়েকদিনের ধকল সহ্য করে আসছেন কপিল মুনির মন্দিরে। শুধুমাত্র পুণ্য অর্জনে। পৌষ সংক্রান্তির পুণ্য লগ্নে সাগরে একটা ডুব মানে সব পাপ ধুয়েমুছে সাফ। এই আশায় বুক বেঁধে আগামী ২দিন গঙ্গাসাগরে বাড়বে মানুষের ভিড়। এ এক সুপ্রাচীন পরম্পরা।  
এদিন মেলায় পৌঁছে গেছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি, পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আগামী ৩ দিন মেলা পরিচালনার দায়িত্ব এই মন্ত্রীদের ওপর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে নিয়মিত সাগরের পরিস্থিতি জানাবেন তাঁরা। হারউড পয়েন্টে থাকবেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্টুরাম পাখিরা, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। শনিবার সকাল থেকে পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করবে। এটা ধরে নিয়ে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। রবিবার ভোররাত থেকেই লগ্ন মেনে শুরু মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান। এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রেড্ডি বলেছেন, এখনও পর্যন্ত সাগরে প্রায় ৩ লক্ষ পুণ্যার্থীর পা পড়েছে সাগরমেলায়।‌‌

 

একটু উষ্ণতার জন্য। সাগরে, শুক্রবার। ছবি:‌ কুমার রায়।‌

জনপ্রিয়

Back To Top