উদয় বসু- মোটা টাকা সুদের লোভ দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গ–‌সহ বিভিন্ন রাজ্যের হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগ গার্ডেনরিচের বাসিন্দা এক চিটফান্ড কর্তা সানে আহমেদ ওয়ারসির বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিস তো বটেই, সিবিআই পর্যন্ত হুলিয়া জারি করেছিল। কিন্তু ধুরন্ধর সানে সকলের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ব্যারাকপুর পুলিস কমিশনারেটের দুঁদে গোয়েন্দাদের চোখকে ফঁাকি দিতে পারেননি। ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যান এক সাকরেদ ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে দমদম বিমানবন্দরের কাছে। 
বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যারাকপুর পুলিসের গোয়েন্দা প্রধান অজয় ঠাকুর এক সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, দুটি নামে চিটফান্ড খোলেন  সানে। কলকাতা, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড় ছাড়াও এই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ২১টি শাখা খুলে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করতে থাকেন। এর মধ্যে এই রাজ্যেই রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় ৫টি। নৈহাটি এবং বরানগরের শাখায় ১০টি অভিযোগ জমা পড়ে। সারদা–‌কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর সানে তাঁর ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে হাজার হাজার মানুষের কয়েকশো কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। জেলা পুলিস, কলকাতা পুলিসের পাশাপাশি সিবিআই তাঁর খোঁজ করতে থাকে। তদন্ত করতে থাকেন ব্যারাকপুরের গোয়েন্দারাও। তাঁরা জাল বিছিয়ে দেন বিভিন্ন জায়গায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে  ৬ তারিখে দমদম বিমানবন্দরে ওত পেতে বসে থাকেন তঁারা। ধরা পড়ে যায় সানে ও তার সাকরেদ। এটা ব্যারাকপুর পুলিসের কাছে বিশাল সাফল্য বলে মনে করছেন পুলিস কর্তারা।‌

ধৃত সানে আহমেদ ওয়ারসি। ছবি:‌ ভবতোষ চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top