সুনীল চন্দ, চোপড়া: রেশনে কেরোসিন তেল বন্ধ করে দেওয়া, রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি তুলে দেওয়া নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। কমানো হচ্ছে ব্যাঙ্কের সুদও। সেটা নিয়েও তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় এক সরকারি সভায় যোগ দিয়ে নাম না করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রকে। বললেন, ‘ব্যাঙ্কের সুদ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাহলে কি মানুষ চিটফান্ডে টাকা রাখতে যাবে? ব্যাঙ্কের সুদ কমিয়ে দেওয়া মানে চিটফান্ডের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করা। এই কাজ কি জরুরি? গরিব মানুষ ব্যাঙ্কে যাতে যান, সেই চেষ্টা করা দরকার। নাকি চিটফান্ডে যাওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার?’ ভর্তুকি তুলে দেওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেরোসিন তেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এলপিজি গ্যাসের ভর্তুকি তুলে দেওয়া হচ্ছে। যেভাবে কেরোসিন তেল দেওয়া বন্ধ হচ্ছে তাতে সব থেকে বেশি ভুগবেন গরিব মানুষ। সাধারণ গরিব মানুষ যে ভর্তুকি পান সেটা কোনও ব্যক্তির পকেটের টাকা নয়। জনগণের টাকা। আমরা জনগণকে এই টাকা দেওয়া সামাজিক দায়িত্ব। আমরা কৃষকদের সাহায্য করি। আদিবাসীদের সাহায্য করি। পড়ুয়াদের সাহায্য করি। এটা আমাদের কর্তব্য। সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে একটা কথা আছে। সরকারের এটা একটা বড় কাজ।’ এরপরেই নাম না করে কেন্দ্রকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘ওরা ও সব বোঝে না। এরা দিল্লি থেকে আসে। বড় বড় কথা বলে। দাঙ্গা লাগিয়ে ফিরে চলে যায়। একটাই কাজ। উত্তর দিনাজপুরেই দেখুন, কী ছিল আগে। আমরা চাই সবাই ভাল থাকুক। কোনও অঘটন না ঘটুক। প্রশাসনকে সাহায্য করতে হবে। মানুষ গন্ডগোল করে না। গন্ডগোল করে বাইরে থেকে আসা কিছু রাজনৈতিক নেতা। ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে ঝামেলা করে চলে যায়। জেলায় দু–একটি ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে যেন না হয়। সবাইকে এক থাকতে হবে। সবাইকে ভাল রাখতে হবে। এটাই সব চেয়ে বড় লড়াই।’ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে মানুষের ঢল নেমেছিল চোপড়ায়।‌
জমিজট কাটিয়ে ইসলামপুর ও ডালখোলায় বাইপাস নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার চোপড়ার সোনাপুর এমজি হাই স্কুলে আয়োজিত উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক সভায় এই নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়াল এবং ডালখোলার পুরপ্রধান সুভাষ গোস্বামীর কাছে ইসলামপুর ও ডালখোলা বাইপাসের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চান। বিধায়ক কানাইয়ালাল জমি সমস্যার কথা জানালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জমি সমস্যা মেটাতে ২০ কোটি টাকা দিয়েছি। একই জমির জন্য তো দু’বার করে টাকা দেওয়া যায় না!‌ রাস্তা সম্প্রসারণ ও বাইপাসের জমি সমস্যা মেটাতে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়া হয়েছে। ওই কমিটির সভা হবে ৭ আগস্ট। ওই সভাতেই এ–ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইসলামপুর ও ডালখোলার সমস্যা মিটলে কলকাতা–উত্তরবঙ্গ যাতায়াত আরও কম সময়ে করা যাবে।
চোপড়ার আনারস কলকাতায় যাতে বিক্রি হয় সেজন্য খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তরকে উদ্যোগ নিতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেরল থেকে আনারস আসে কলকাতায়। চোপড়ার আনারস কেন কলকাতা যাবে না!‌ ওই দপ্তরের আধিকারিক দেবাশিস গুপ্তকে এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। এখন খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য ২০,০০০ আনারস কাজে লাগানো হয়। আগামী ২ মাসের মধ্যে তা বাড়িয়ে করা হবে ৫০,০০০। এ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বৃদ্ধি এবং আরও প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ দেন এদিনের বৈঠকে। ১০০ দিনের কাজ ৫০ শতাংশেরও বেশি হারে নিয়ে যেতে আধিকারিকদের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

 

 

ছবি: আজকাল

Back To Top