সংবাদ সংস্থা, মিলান: ইতালীয় ফুটবলে দুঃস্বপ্নের রাত!‌ সোমবার রাশিয়া বিশ্বকাপের যোগ্যতার্জন পর্বে প্লে–‌অফের দ্বিতীয় দফার ম্যাচে সান সিরোয় সুইডেনের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করল ইতালি। যার ফলে আগামী বছর রাশিয়া বিশ্বকাপে আজুরিরা খেলতে পারবে না। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির এই পারফরমেন্স সত্যিই অবাক করা!‌ 
বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন ইতালির কিংবদন্তি গোলকিপার গিয়ানলুইগি বুফোঁ। কিন্তু নিষ্ঠুর ইতিহাস তাঁকে সেই সুযোগ দিল না। গভীর হতাশা থেকেই ম্যাচের পর ফুটবলকে বিদায় জানালেন অশ্রুসজল চোখে। খেলার শুরুতে সুইডেনের জাতীয় সঙ্গীত যখন গাওয়া হচ্ছিল, গ্যালারি থেকে কিছু ইতালি সমর্থক বিদ্রুপ ছুঁড়ে দিচ্ছিলেন। যা নজর এড়ায়নি বুফোঁর। গান শেষ হওয়ার পরই তিনি হাততালি দিয়ে সুইডেনের ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান। এই ঘটনায় প্রশংসিত হয়েছেন বুফোঁ। কিন্তু দিনের শেষটা যে তাঁর এত কষ্টের হবে, তখন কে জানত?‌ ১৯৫৮ সালে সুইডেনের মাটিতে যেবার বিশ্বকাপের আসর বসেছিল সেবার ইতালি যোগ্যতার্জনে ব্যর্থ হয়। ৬০ বছর পর দগদগে যন্ত্রণার সেই সময় আবারও ফিরে এল ইতালীয় ফুটবলে। দিন চারেক আগে ঘরের মাঠে সুইডেন প্রথম দফার প্লে–অফ ম্যাচে ১–‌০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ইতালিকে। সোম–রাতে সান সিরোয় তাই জেতা ছাড়া উপায় ছিল না বুফোঁ, বোনুচ্চি, চিয়েলিনিদের। কিন্তু ঘরের মাঠ, প্রবল জনসমর্থন সত্ত্বেও ইতালির ফুটবলাররা নিজেদের সেই উচ্চতায় তুলে নিয়ে যেতে পারলেন কই?‌ দুই দফা মিলিয়ে প্লে–‌অফের লড়াইয়ে ১–‌০ ব্যবধানে জিতেই রাশিয়া বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পেয়ে গেল জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচের দেশ। 
সোমবারের ম্যাচে শুরুর দিকে ইতালির মার্কো পারোলোর পেনাল্টির দাবি খারিজ করে দেন রেফারি। কিছু পরেই পাল্টা সুইডেন যে পেনাল্টির দাবি করে বসে তা আরও জোরালো ছিল। নিজেদের বক্সে ইতালীয় ডিফেন্ডার মাট্টিও ডারমিয়েন হাতে বল লাগালেও রেফারি সুইডিশদের দাবি নাকচ করে দেন। যা নিয়ে সুইডেন শিবির বেশ ক্ষিপ্ত। তবে শেষপর্যন্ত বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে সব ভুলে গেছে তারা।
জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোনও বড় বা নামী দলের কোচিং করাননি গিয়ান পিয়েরো ভেঞ্চুরা। তাঁকে যখন ইতালির কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, বিস্ময়ে হতবাক হয়েছিল সে দেশের ফুটবল মহল। হওয়ার যে কারণ ছিল যথেষ্টই, প্রমাণ হয়ে গেছে সাম্প্রতিক অতীতে। আরও একবার প্রমাণ হল সোম–রাতে। প্রথম লেগে সুইডেনের কাছে হারের পর দ্বিতীয় লেগে গোলশূন্য ড্র। আর তাতেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। প্রথম লেগে আজ্জুরিরা হারার পর ভেঞ্চুরার রণকৌশল ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। আর সোম–রাতের পর তো ইতালি ফুটবল জনতার ক্ষোভের আগুনে ঘি 

পড়েছে। প্রশ্ন একটাই। ইতালির ফুটবল ফেডারেশন কি ভেঞ্চুরাকে সরিয়ে দেবে নাকি তিনি নিজেই সরে যাবেন এই সীমাহীন ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে?‌ যদিও ভেঞ্চুরা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‌আমি পদত্যাগ করছি না। কারণ (‌ফেডারেশনের)‌ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এখনও আমার কোনও কথা হয়নি। সব কিছু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। দেখা যাক কী হয়। ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলার সময় আমি সমস্যাগুলো তুলে ধরব।’‌ খুবই সাদামাটা বক্তব্য। তার পরই ভেঞ্চুরার মনে হয়েছে ইতালি–জনতার মানসিক অবস্থার কথা। তাই পরক্ষণেই জুড়ে দিয়েছেন, ‘‌এই রেজাল্টের জন্য মনে হয়েছে, ইতালীয়দের কাছে আমার অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত।’‌ 
গতবছর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পর ইতালির কোচের পদ থেকে চাকরি যায় অ্যান্তোনিও কন্তের। তাঁর ছেড়ে যাওয়া চটিতে পা গলিয়েছিলেন ভেঞ্চুরা। এত বড় দায়িত্ব নেওয়ার আগে যাঁকে পিসা, বারি, তোরিনোর মতো অনামী দলের কোচিং করাতে দেখা গেছে। কোচিং জীবনের এমন বিপর্যয়ের দিনে ভেঞ্চুরা বলেছেন, ‘বহু বছর ধরে ফুটবলে আছি। তাই জানি, কীভাবে এমন পরিস্থিতি গ্রহণ করতে হয়। জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে আমি সম্মানিত। কিন্তু তা–‌ও বলব, জাতীয় দলের কোচিং করানো কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, আজ তা উপলব্ধি করতে পারলাম। তাই আরও বেশি হতাশ লাগছে।’‌
‌এদিন ম্যাচে ইতালি কোচ প্রথম একাদশে রাখেননি নাপোলি স্ট্রাইকার লোরেঞ্জো ইনসিগনেকে। এই সিদ্ধান্তে বেশ হতাশ হয়েছিলেন রোমার ফুটবলার ড্যানিয়েল ডি রোসি। ডাগ আউটে তিনি রীতিমতো তর্ক জুড়ে দিয়েছিলেন সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে। খেলার পর অবশ্য তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌আমার আচরণে কেউ দুঃখ পেলে দুঃখিত। আমার মনে হয়েছিল এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইনসিগনেকে খেলানো দরকার।’‌ কষ্টের রাতে ইতালির ডিফেন্ডার আন্দ্রে বারজাগলি বলেছেন, ‘আমার ‌জীবনের সবচেয়ে হতাশার দিন। জানি না, আমরা কী করতে পারিনি, তবে এটা জানি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছি। এত যন্ত্রণা আগে কখনও পাইনি।’‌ 
এই ব্যর্থতার পর ভেঞ্চুরাকে যে আর কোচের পদে রাখা হবে না, নিশ্চিত দেশের ফুটবল মহল। তাঁর জায়গায় প্রবলভাবে নাম উঠে আসছে কার্লো আনসেলোত্তি এবং অ্যান্তোনিও কন্তের। এছাড়াও শোনা যাচ্ছে গিয়ান পিয়েরো গ্যাসপেরিনি, মাওরিজিও সারি, ম্যাসিমিলানো অ্যালেগ্রি, লুইগি ডি বিয়াজিও, রবের্তো মানচিনির নাম। এখন দেখার, কে ধরেন ছন্নছাড়া ইতালির হাল। কে ফিরিয়ে দিতে পারেন ইতালি ফুটবলের হারানো গৌরব।‌‌‌

সান্ত্বনা, শুভেচ্ছা। বিষণ্ণ বুফোঁর বুকে বার্জাগলি, পাশে চিয়েলিনি।

বঙ্গ সংস্কৃতি অস্ট্রেলিয়া

বুধবার ৮ নভেম্বর, ২০১৭

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজা

শুক্রবার ২৭ অক্টোবর, ২০১৭

রাত পোহালেই কোজাগরি লক্ষীপুজো

বুধবার ৪ অক্টোবর, ২০১৭

সিঁদুর খেলায় তারকা সমাবেশ

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর, ২০১৭

কলকাতা পুজো কার্নিভাল

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর, ২০১৭

গণেশ বন্দনায় মেতেছে বলিউড

বৃহস্পতিবার ২৪ আগষ্ট, ২০১৭

ফুলে ঢাকা চিলির মরুভূমি

বুধবার ২৩ আগষ্ট, ২০১৭

পুতিনের মেমেতে ছয়লাপ রাশিয়া

রবিবার ৬ আগষ্ট, ২০১৭

শহীদ অমিতাভকে শেষ শ্রদ্ধা

শনিবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৭

সারমেয় সজ্জা

সোমবার ৩১ জুলাই, ২০১৭

Back To Top