অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা:  রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মালদা। ফুলে উঠেছে সব নদীর জল। বৃষ্টি থামছেই না৷ আর তাতেই কার্যত ভেসে গিয়েছে মালদা শহর এবং শহর লাগোয়া এলাকা৷ একই অবস্থা গ্রামাঞ্চলেও৷ জলে থইথই মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালও৷ সাধারণ ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটারও জলমগ্ন৷ তার মধ্যেই চলছে কাজ৷ এই অবস্থায় সমস্যা থেকে প্রায় হাত তুলে নিয়েছে ইংরেজবাজার পুরসভা৷ মহানন্দার জলস্তর এক রাতে অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় শহরের জল নদীতে ফেলা যাচ্ছে না৷ শহর এলাকার নিচু জায়গাগুলি থেকে আপৎকালীন ভিত্তিতে পাম্প ব্যবহার করে জল বের করার চেষ্টা করা হলেও তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
শুক্রবার রাত থেকেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে৷ এদিন দুপুর পর্যন্ত অবিরাম বর্ষণে নাজেহাল সবাই৷ বেশিরভাগ স্কুল-কলেজে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়৷ বস্তি এলাকাগুলির অবস্থা আরও শোচনীয়৷ নেতাজি ও চিত্তরঞ্জন পুরবাজারও জলের নিচে৷ সেচ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০২ মিলিমিটার৷ ওই দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এই বৃষ্টি আরও দু’দিন চলার সম্ভাবনা৷ এদিন সকাল থেকে রাস্তায় নেমে পড়েন ইংরেজবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান বাবলা সরকার৷ শহরের কানির মোড় এলাকায় পুরসভার একটি ভবনের নিচের তলার বাজারে কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে৷ সেই জলে নেমে তিনি ওই বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন৷ 
বাবলা বলেন, ‘‌মহানন্দার জলস্তরও অনেকটা বেড়ে গিয়েছে৷ মালদা শহরের জল মূলত মহানন্দায় নিষ্কাশিত হয়৷ কিন্তু নদী ফুলেফেঁপে যাওয়ায় স্লুইস গেটগুলি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা৷ শহরের পুকুর, খাল-বিলগুলিও জলে টইটুম্বুর। সেখানেও জল ফেলা যাচ্ছে না৷ পাম্প লাগিয়ে জমা জল বের করার চেষ্টা চলছে৷ ২৫টি পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে৷ যাঁদের কাছে পাম্প রয়েছে, তাঁরা যেন নিজেদের পাম্প শহরবাসীর স্বার্থে ব্যবহার করেন৷ পুরসভা খরচ বহন করবে৷ কিন্তু এভাবে শহরকে জলমুক্ত করা যাবে কিনা জানা নেই৷’‌
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও জল জমে গিয়েছে৷ মেল ওয়ার্ড, প্রসূতি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার জলমগ্ন৷ জল ঢুকেছে সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটেও৷ এক নার্স সুমনা ঘোষ জানান, ‘‌ভোর থেকেই হাসপাতাল জলের তলায়৷ সেই অবস্থাতেই তাঁরা রোগীদের পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন৷ এবারই প্রথম নয়, ২০১৩ সালেও একবার অপারেশন থিয়েটারে জল ঢুকে পড়েছিল৷’‌ ‌‌
এদিকে, এদিন গঙ্গার রোষানল থেকে বাঁচানো গেল না পার–‌অনুপনগরের রক্ষাকালী মন্দিরকে। শনিবার ভোরের আলো ফুটতে ফুটতেই অশনিসঙ্কেত দিতে থাকে গঙ্গা। সকালের দিকে তখন গ্রামবাসীরা ভিড় জমিয়ে ফেলেছেন মন্দিদের কাছে। অসহায় দেখাচ্ছিল তাঁদের। প্রত্যাশিতমতোই গঙ্গার গ্রাসে চলে গেল মন্দিরটি। গত বছর থেকেই শুরু হয়েছে পার ‌অনুপনগরে ভাঙন। ১২টির মতো বাড়ি চলে যায় গঙ্গা‌গর্ভে। এবার এখন পর্যন্ত তলিয়ে গেছে ৬টির মতো বাড়ি। ‌

এই জল ঢুকে গেছে হাসপাতালের ওটি পর্যন্ত। ছবি: পিটিআই

Back To Top