সঞ্জয় বিশ্বাস ও অলক সরকার, দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি: পাহাড় পুড়ছেই। এদিনও নতুন করে পুড়েছে রংলি রংলিয়ট থানার সিঙ্গিতাম গ্রাম পঞ্চায়েত। দিনভর মিছিলে মিছিলে পাহাড় এদিনও স্তব্ধ। এদিকে বন্‌ধ পুরো একমাসে পড়ল এদিন। ইতিমধ্যে ভাঁড়ারে টান পড়েছে বেশ ভালমতোই। গত ৩-‌৪ দিনে শিলিগুড়ির বিভিন্ন বাজারে দলবেঁধে পাহাড়ের মানুষ পণ্য নিতে এসেছেন। দার্জিলিঙের প্রত্যন্ত অনেক গ্রামের মানুষের অবস্থা সঙ্গীন। এদিন খাপরাইলের ফুলবাড়ি বস্তি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন থেকে ট্রাকে করে চাল ডাল তেল নুন আটা নিয়ে যাওয়া হয় পাহাড়ে। দাবাইপানি, তাকদা এলাকার ১৪টি পাড়ার অন্তত ২০৩টি পরিবারকে ১৫ কেজি করে চাল, ৫ কেজি আটা, ১ কেজি তেল, নুন দেওয়া হয়। ওই সংস্থা কয়েকদিন ঘুরে দেখেছে, কোথায় মানুষ কঠিন অবস্থায় আছেন। আজ সেখানেই তাঁরা সাধ্যমতো রসদ নিয়ে যান। এর জন্য কোথাও বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দার্জিলিঙেও অনেক জায়গায় কিছু কিছু করে দোকান সামান্য খুলে রাখতে দেখা গেছে। মানুষ জিনিসপত্র কিনছেন। আন্দোলনকারীরা সবই জানেন, কিন্তু না দেখার ভান করে থাকছেন। বরং নির্দেশ জারি করে বলা হচ্ছে কেউ সুযোগ বুঝে যেন বেশি দাম না নেন। এই ছবিই প্রমাণ করছে পাহাড়ের মানুষের মধ্যে খাদ্যের অভাব দেখা দিতে শুরু করেছে বেশ ভাল করেই। এদিকে পাহাড় সমতলের মানুষের মধ্যে একটা বিদ্বেষ জন্ম নিতে শুরু করেছে। কয়েকদিন থেকেই পাহাড়মুখী পণ্যবাহী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটার অভিযোগ আসছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা মেয়র অশোক ভট্টাচার্যও। জানান, পরিস্থিতি জাতিবিদ্বেষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এর ইতি টানা জরুরি। এদিকে পাহাড়ে এদিনও পুলিসকে দেখা যায়নি। শুধু সেনার টহল চলছে। আদালতের নির্দেশ মেনে রবিবার ৪ কোম্পানি আধাসেনা ঢুকতে পারে পাহাড়ে। এদিকে এদিন থেকেই অনশনের কথা থাকলেও কর্মসূচির দিনক্ষণ ১৮ জুলাইয়ের সর্বদলে ঠিক হবে বলে জানানো হয়েছে। পাহাড়ের সাধারণ মানুষ আবারও সর্বদলের দিকেই তাকিয়ে। এদিন দার্জিলিঙে মোর্চার পাশাপাশি জিএনএলএফও মিছিল বের করেছিল গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে। সভা করেছে যুব মোর্চা। সেখান থেকে জানানো হয়েছে তাঁদের নেতা (‌বিমল গুরুং)‌ পাহাড়েই আছেন। আপাতত দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ব্যস্ত। সময়মতো রাস্তায় নামবেন। বিদ্যার্থী মোর্চার নেতা আনমল প্রসাদ এদিনও ফতোয়ার সুরে জানান, যাঁরা এই সময়ে সমতলে নেমে গেছেন, তাঁদের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দিন। আর যাঁরা পাহাড়ে থেকে ঘরে বসে আছেন, সেটা চলবে না, আন্দোলনে সামিল হতে হবে। ফলে পাহাড় অন্যদিনের তুলনায় এদিন অনেকটা শান্ত থাকলেও সাধারণ মানুষ ভীষণ কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। এদিকে এরই মধ্যে রোহিণীর কাছে কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চলেছে বলে জানা গেছে। ‌

 

রিম্বিকের গেস্টহাউস পুড়ছে। ছবি: সঞ্জয় বিশ্বাস

জনপ্রিয়

বিদায় ২০০০, আসছে ২০০

বুধবার ২৬ জুলাই, ২০১৭

নীতীশের সিদ্ধান্তে অপমানিত শরদ 

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭

চীনে পরমাণু হামলা চালাতে পারে আমেরিকা

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭

Back To Top